গোপন মার্কিন ঘাঁটির উপর রহস্যময় কালো ত্রিভুজ! পেন্টাগনের রক্তচাপ বাড়াচ্ছে নিঃশব্দ ‘উড়ন্ত ম্যানড্রেক’
গত জুন মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি জাতীয় নিরাপত্তা ঘাঁটির কাছে এক রহস্যময় কালো ত্রিভুজাকৃতি বস্তু নজরে আসে এফবিআই গোয়েন্দাদের। পেন্টাগনের সদ্য প্রকাশিত ইউএফও সংক্রান্ত নথিতে এই তথ্যটি প্রকাশ করা হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোপন সামরিক ঘাঁটির আকাশে বার বার চক্কর কাটতে দেখা গিয়েছে এক রহস্যময় কালো ত্রিভুজাকৃতি উড়ন্ত বস্তুকে। গত এক বছরে অন্তত তিন বার। উড়ন্ত বস্তুটি নজরে আসতেই হইচই শুরু হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, এই অজানা বস্তুটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ প্রায় ২,৯০০ কিলোমিটার গতিতে উড়তে সক্ষম বলে দাবি। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, মাঝেমধ্যেই মার্কিন আকাশে হানা দেওয়া রহস্যজনক উড়ন্ত বস্তুটি আসলে কী?
কোনও অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তি, অজ্ঞাত ড্রোন, না কি এখনও পর্যন্ত শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি, এমন অন্য কোনও উড়ন্ত যান? রহস্যময় ত্রিভুজাকৃতির সেই অজানা বস্তু নিয়ে জল্পনার শেষ নেই। আপাদমস্তক রহস্যে মোড়া সেই বস্তুটি কোন দেশের বা আদৌও এই গ্রহের কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে। এই কালো ত্রিভুজাকৃতির বস্তু কোথা থেকে আসছে এবং কে বা কারা তা পরিচালনা করছে, জানা নেই। এই অজানা উড়ন্ত বস্তু কোনও দেশের উন্নত সামরিক প্রযুক্তির অংশ, না কি অজানা কোনও উড়ন্ত যান, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
পেন্টাগনের সদ্য প্রকাশিত ইউএফও সংক্রান্ত নথি থেকে এই রহস্যের আরও কিছু তথ্য সামনে এসেছে। নথি অনুযায়ী, গত জুন মাসে এফবিআই গোয়েন্দারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি জাতীয় নিরাপত্তা ঘাঁটির কাছে রহস্যময় কালো ত্রিভুজাকৃতি একটি উড়ন্ত বস্তু দেখতে পান। বস্তুটির অস্বাভাবিক আকৃতি এবং উপস্থিতি ঘিরে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ঘটনাটি ঘুম কেড়েছে মার্কিন সামরিক ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলিরও।
নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন ইউএপি (অজ্ঞাত অস্বাভাবিক উড়ন্ত বস্তু) সংক্রান্ত গোপন তথ্য প্রকাশের নির্দেশ দেওয়ার পরই এই ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। ২৩ অক্টোবর সেই সংক্রান্ত সরকারি নথির একটি নতুন দফা প্রকাশ করা হয়েছে।
সেই নথিতে এই রহস্যময় উড়ন্ত বস্তুর দেখা পাওয়ার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। তবে, জাতীয় নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে নথিগুলি থেকে ঘটনার সঠিক তারিখ ও স্থান গোপন রাখা হয়েছে। ফলে, কোথায় এবং ঠিক কখন এই অস্বাভাবিক বস্তু দেখা গিয়েছিল, তা এখনও জানা যায়নি।
আরও পড়ুন:
নথি অনুযায়ী, এই অজ্ঞাত বস্তুকে এমন একটি পাহাড়ি এলাকার আকাশে দেখা গিয়েছিল, যেখানে মার্কিন সরকার অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও সামরিক সরঞ্জাম পরীক্ষা করে থাকে। প্রকাশিত নথির সঙ্গে কয়েকটি আঁকা ছবি যুক্ত করা হয়েছে। সেগুলিতে কালো রঙের ত্রিভুজাকারের উড়ন্ত বস্তু নজরে এসেছে।
তবে, এই বস্তুর বাস্তব দৃশ্যের কোনও ছবি বা ভিডিয়ো এখনও জনসমক্ষে প্রকাশ করেনি মার্কিন সরকার। ফলে, সেই আবছা চিত্র বা স্কেচ ছাড়া এর প্রকৃত চেহারা সম্পর্কে নিশ্চিত ভাবে কিছু জানা যায়নি।
দু’জন এফবিআই গোয়েন্দা এবং আরও এক সরকারি কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এর প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, রহস্যময় বস্তুটি ছিল প্রতিফলকবিহীন কালো রঙের একটি যান। তাঁদের দাবি, এটি কোনও শব্দ না করে বা ধোঁয়া না ছেড়েই যুদ্ধবিমানের মতো দ্রুত গতিতে আকাশে চলাচল করছিল। বস্তুটির এই অস্বাভাবিক গতিবিধি এবং কোনও শব্দ বা ধোঁয়া না থাকার বিষয়টি রহস্য আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
এফবিআই-এর নথিতে উল্লেখ আছে, অজানা বস্তুটি কোনও রানওয়ে ছাড়াই সোজা উপরের দিকে উঠে যেতে পারে। শুধু তাই নয়, টানা ২০ সেকেন্ড বাতাসে একই জায়গায় স্থির হয়ে ভেসে থাকতে পারে। এর পর মুহূর্তের মধ্যেই সেই স্থির অবস্থা থেকে দ্রুতগতিতে সামনের দিকে উড়তে শুরু করে। অর্থাৎ, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই উল্লম্ব ভাবে উড়ান শুরু করা, বাতাসে স্থির ভাবে ভেসে থাকা এবং আচমকা গতি বাড়িয়ে উড়ে যাওয়ার মতো জটিল কৌশলগত নকশায় তৈরি হয়ে থাকতে পারে এই উড়ুক্কু যানটি।
আরও পড়ুন:
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার নথিতে উল্লেখিত প্রতিবেদন অনুসারে, পর্যবেক্ষকেরা এই রহস্যময় যানটির গতিবেগ সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। সেই বস্তু তিন সেকেন্ডে আড়াই কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে! অর্থাৎ, ঘণ্টায় প্রায় ২,৯০০ কিলোমিটার গতির সমান। প্রত্যক্ষদর্শীরা এর গতিকে একটি যুদ্ধবিমানের গতির সঙ্গে তুলনা করেছেন।
আকাশে রহস্যময় বস্তুটিকে উড়তে দেখেছিলেন দুই ব্যক্তি। তাঁদের দাবি, সেটিকে দেখার সময় তাঁরা কোনও ধরনের শারীরিক অস্বস্তির মধ্যে ছিলেন না। বমি ভাব, মাথাব্যথা কিংবা বিভ্রান্তির মতো কোনও উপসর্গও দেখা যায়নি তাঁদের মধ্যে।
অনুমান অনুযায়ী, বস্তুটির ডানার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তার প্রায় ৯ থেকে ১৫ ফুট। এর গভীরতা ৬ থেকে ৯ ফুট এবং ১ থেকে ২ ফুটের মতো পুরু বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। অর্থাৎ, আকারে খুব বড় না হলেও বস্তুটির গঠন বেশ অস্বাভাবিক।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রহস্যে মোড়া বস্তুটি চলাচলের সময় কোনও শব্দ করেনি। এমনকি, সেটি থেকে কোনও ধোঁয়াও বের হতে দেখা যায়নি। তবে, তাপীয় ক্যামেরার (থার্মাল ক্যামেরা বা স্ক্যানার) সাহায্যে স্ক্যান করার পর বস্তুটির শরীর থেকে নির্গত অভিন্ন তাপীয় সঙ্কেত ধরা পড়ে।
থার্মাল যন্ত্রের সাহায্যে স্ক্যান করার পর বস্তুটির সর্বত্র প্রায় একই রকম তাপমাত্রার সঙ্কেত ধরা পড়ে। সাধারণ বিমান বা ড্রোনের ক্ষেত্রে এমনটা দেখা যায় না। কারণ, সেগুলির ইঞ্জিন থেকে নির্দিষ্ট কিছু অংশে প্রচুর তাপ তৈরি হয়, যা থার্মাল স্ক্যানে স্পষ্ট ভাবে ধরা পড়ে। কিন্তু, রহস্যময় এই বস্তুর ক্ষেত্রে তেমন কোনও উত্তাপের অস্তিত্ব মেলেনি। ফলে, এটি যদি কোনও উড়ন্ত যান হয়, তা হলে এর ইঞ্জিনে কী ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
রহস্যময় বস্তুটির আকার ও গঠনও বিশেষ ভাবে নজর কেড়েছে। মার্কিন সরকারের নথি অনুযায়ী, এর বাইরের অংশ ছিল সম্পূর্ণ মসৃণ। কোথাও কোনও জোড়া লাগানোর দাগ, খাঁজ বা অসমান অংশ চোখে পড়েনি। এমনকি, সাধারণ বিমান বা যুদ্ধবিমানের মতো কোনও ককপিটও দেখা যায়নি। ফলে, সেটি কোনও যান হলেও, তার গঠন ও উড়ানের প্রযুক্তি নিয়ে আলাদা করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
অন্য দিকে, যানটি ঠিক কোথা থেকে এসেছিল, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। সরকারি আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, এটি আমেরিকার তৈরি কোনও অত্যাধুনিক পরীক্ষামূলক যান, এমনটা মনে করার কারণ নেই। একই ভাবে, অন্য কোনও দেশের তৈরি যান হওয়ার সম্ভাবনাও তাঁরা মেনে নিতে পারছেন না। কারণ, তাঁদের জানা তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের কোনও দেশের কাছেই এত উন্নত প্রযুক্তি থাকার খবর নেই। ফলে, যানটির প্রকৃত পরিচয় ও প্রযুক্তি নিয়ে রহস্য এখনও কাটেনি।