নিশি রাতে একফালি বাঁকা চাঁদ। সোমবার তার গায়েই জ্বলজ্বল করছে উজ্জ্বল এক আলোকবিন্দু। কলকাতা থেকে কোচবিহার— সর্বত্র আকাশে মেঘ সরলেই দেখা যাচ্ছে সেই দৃশ্য। ইতিমধ্যে সমাজমাধ্যমে সেই নিয়ে লেখালিখিও শুরু হয়েছে। চাঁদের পাশে সেই আলকবিন্দু আসলে শুক্র গ্রহ। এমনিতে দু’জনের ‘সহাবস্থান’ মহাজাগতিক বিরল কোনও দৃশ্য নয়, এমনটাই বলছেন বিজ্ঞানীরা। তবে সুদৃশ তো বটেই!
অমাবস্যার পরে সোমবারের চাঁদের বয়স তিন দিন। তার মাত্র ১৪ শতাংশ দেখা যাচ্ছে। শুধু এ রাজ্য বা দেশে নয়, পৃথিবীর সব প্রান্ত দেখেই একফালি চাঁদের গায়ে শুক্রকে দেখা যাচ্ছে বা যাবে সোমবার। সূর্য ডুবলে উত্তর গোলার্ধে দক্ষিণ-পশ্চিম আকাশে দেখা যাবে এই দৃশ্য। দক্ষিণ গোলার্ধেও চাঁদের গায়ে শুক্রকে দেখা যাবে।
আরও পড়ুন:
-
১০ লাখ পরমাণু বোমার সমান বিস্ফোরণ হয়েছিল! ইংল্যান্ডের উপকূলে আবিষ্কার আগ্নেয়গিরি, ফের জাগার সম্ভাবনা আছে?
-
‘রক্তচোষা কঙ্কালের’ রহস্যভেদ? কিসের ভয়ে পোল্যান্ডে তরুণীর দেহকে কবরেও ‘বেঁধে’ রাখা হয়েছিল, আভাস পাচ্ছেন গবেষকেরা
-
পোষ্য কি শুধু মানুষই রাখে! নতুন গবেষণা বলছে, আরও অনেক প্রাণীই ভিন্ন প্রজাতিকে আদরে কাছে টেনে নেয়
ইন্ডিয়ান সেন্টার ফর স্পেস ফিজ়িক্স-এর অধিকর্তা অধ্যাপক সন্দীপ চক্রবর্তী জানান, এই দৃশ্য কোনও বিরল মহাজাগতিক নয়। পৃথিবী, সূর্য এবং অন্যান্য গ্রহ একই সমতলে থাকে। ধরা যাক, একটি থালার উপরে পৃথিবী-সহ গ্রহগুলি রয়েছে। সেই থালার মাঝে থাকে সূর্য। চাঁদ কিন্তু সেই থালায় অর্থাৎ ওই সমতলে থাকে না। তা সাধারণত সেই সমতলের ৫ ডিগ্রি উত্তর বা দক্ষিণ থাকে। সোমবার তা ওই একই সমতলে এসেছে। শুক্রের কাছে তাকে দেখা যাচ্ছে।
চাঁদ যে সমতলে পৃথিবীর চারপাশে ঘোরে এবং পৃথিবী যে সমতলে সূর্যের চারদিকে ঘোরে, তা যদি একই হত, তা হলে রোজই কোনও না কোনও গ্রহের খুব কাছে দেখা যেত চাঁদকে। চাঁদ যখন ওই সমতলে গিয়ে পৃথিবী এবং সূর্যের ঠিক মাঝে আসে, তখন সূর্যগ্রহণ হয়।