Advertisement
E-Paper

শুধু দক্ষিণ মেরু নয়, এ বার চাঁদের অন্য চার জায়গাতেও ঘাঁটি গড়তে পারবেন মহাকাশচারীরা! সুবিধা হবে মঙ্গল অভিযানে

নতুন একটি গবেষণা বলছে, শুধু চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে নয়, আরও চার জায়গায় বসে গবেষণা চালাতে পারবেন বিজ্ঞানীরা। সেখানে বসে সম্পূর্ণ সৌরজগতে নজর রাখতেও সুবিধা হবে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:০০

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

শুধু চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে নয়, বরং সেখানকার আরও চারটি জায়গা গিয়ে গবেষণা চালাতে পারবেন বিজ্ঞানীরা। আমেরিকার ন্যাশনাল অ্যাকাডেমিস অফ সায়েন্সেস, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড মেডিসিনের সাম্প্রতিক রিপোর্ট এমনটাই বলছে। ওই চার অংশে গবেষণা চালিয়ে শুধু চাঁদকে আরও বেশি করে জানা যাবে তা নয়, বরং মঙ্গল অভিযানের ক্ষেত্রেও একধাপ এগিয়ে যাবেন বিজ্ঞানীরা।

চাঁদে বসে গবেষণা করার পরিকল্পনা মানুষের অনেক দিনের। সে জন্য তাদের পাখির চোখ মূলত পৃথিবীর উপগ্রহের দক্ষিণ মেরু। কারণ, সেখানে এমন কিছু গহ্বর রয়েছে, যেখানে কখনওই সূর্যের আলো পৌঁছোয় না। তাই বিজ্ঞানীরা মনে করেন, ওই সব গহ্বরে থাকতে পারে জল। কিন্তু নতুন একটি গবেষণা বলছে, শুধু চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে নয়, আরও চার জায়গায় বসে গবেষণা চালাতে পারবেন বিজ্ঞানীরা। সেখানে বসে সম্পূর্ণ সৌরজগতে নজর রাখতেও সুবিধা হবে। সেই সঙ্গে চাঁদের গঠন, সেখানে আগ্নেয়গিরির ইতিহাস, অন্য কোনও গ্রহে কাজ করার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীদের কী সমস্যা হতে পারে— তা নিয়েও সহজেই গবেষণা চালাতে পারবেন বিজ্ঞানীরা।

এই গবেষণার জন্য চারটি স্থানকে চিহ্নিত করেছেন বিজ্ঞানীরা— ভাবা ক্রেটার, মোনস হ্যাডলি, ওরিয়েন্টাল বেসিন, অ্যারিসটারকাস প্লেটো। পার্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড্যানিয়েল ডাম্বাচের মতে, এই চারটি জায়গায় গবেষণা চালিয়ে দেখা যেতে পারে, সেখানকার মাটিতে গাছ জন্মাতে পারে কি না! মোদ্দা কথা, ওই চার জায়গায় গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা চাঁদের আরও কাছে যেতে পারবেন। সেই সঙ্গে সৌরজগতের অন্য উপগ্রহেরও।

ভাবা ক্রেটার

পৃথিবী থেকে চাঁদের সবচেয়ে দূরের অংশে রয়েছে এই ভাবা ক্রেটার। চাঁদের বুকে এর চেয়ে শূন্য স্থান এর আগে বিজ্ঞানীদের চোখে পড়েনি। তাঁদের মতে, ওই অংশের ভূমি থেকে প্রাচীন কিছু শিলা মিলতে পারে, যার নাগাল এত দিন পর্যন্ত কেউ পাননি। সে সব শিলা পরীক্ষা করে চাঁদের ইতিহাস অনেকটাই স্পষ্ট হবে বিজ্ঞানীদের কাছে। রেডিয়ো এবং অপটিক্যাল জ্যোতির্বিদ্যা নিয়েও গবেষণার সুযোগ থাকবে।

মোনস হ্যাডলি

অ্যাপোলো ১৫ মিশনের কাছেই রয়েছে এই মোনস হ্যাডলি। ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চাঁদের পৃষ্ঠে পড়ে থাকা যন্ত্রপাতি নিয়েও পরীক্ষা করা যাবে এই অঞ্চলে। প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়েছে, মনস হ্যাডলিতে বসে মহাকাশের আবহাওয়া নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করার সুবিধা হবে। চাঁদের পৃষ্ঠের উপাদান কী ভাবে বিকিরণের ঝুঁকি কমাতে পারে, ওই অংশে তা পরীক্ষা করার সুযোগ মিলবে।

ওরিয়েন্টাল বেসিন

পৃথিবী থেকে চাঁদের যে চাকতির মতো অংশ দেখা যায়, তার বাইরে রয়েছে এই ওরিয়েন্টাল বেসিন। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, সংঘাতের ফলে তৈরি হয়েছিল সেই অববাহিকা। চাঁদের গর্ভে কী কী স্তর রয়েছে, তার শিলার গঠন এই ওরিয়েন্টাল বেসিন দেখে বোঝা যেতে পারে। কারণ, অববাহিকায় ভূমিস্তর থাকে উন্মুক্ত। চাঁদের গঠন নিয়ে প্রাথমিক কিছু প্রশ্নের জবাব দেবে এই অববাহিকা।

অ্যারিসটারকাস প্লাটো

আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাতের প্রভাব কী ভাবে চাঁদের উপরে পড়েছিল, তা এই অংশে গবেষণা চালানোর পরে স্পষ্ট হবে। বিজ্ঞানীরা অন্তত তেমনই মনে করেন। কী ভাবে চাঁদের পৃষ্ঠের ফাটল দিয়ে ম্যাগমা বেরিয়ে এসেছিল, তা কোথায় গিয়েছিল, সবটাই জানা যাবে অ্যারিসটারকাস প্লাটোতে গবেষণা করে। চাঁদের এই অংশে আবহাওয়া গবেষণা কেন্দ্রও তৈরি করা যেতে পারে।

Moon

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy