দ্বিতীয় ম্যাচে জিতে আগেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল সিরিজ়। তবে অভিষেক শর্মা, সঞ্জু স্যামসনেরা বৃহস্পতিবার যে খেলা দেখালেন তাতে গুরুত্বহীন ম্যাচেও সব রকম মশলা পেয়ে গেলেন সমর্থকেরা। দুই ক্রিকেটারের মারকাটারি ব্যাটিংয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ের তৃতীয় ম্যাচেও অনায়াসে জিতল ভারত। আফগানিস্তানকে ১২৭ রানে উড়িয়ে চুনকাম করল তারা। দু’দেশের মধ্যে তফাত আরও এক বার বুঝিয়ে দিল।
টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসাবে প্রথম সিরিজ় জিতলেন শ্রেয়স আয়ার। প্রথমে ব্যাট করে ২২১/৭ তুলেছিল ভারত। জবাবে নীতীশ রেড্ডি এবং রবি বিশ্নোইয়ের বোলিংয়ের দাপটে ৯৪ রানেই শেষ আফগানিস্তান।
নিয়মরক্ষার ম্যাচে বৈভব সূর্যবংশীকে খেলানো হবে, এমনটাই অনেকে ভেবেছিলেন। কিন্তু তা হয়নি। পরীক্ষিত দুই ওপেনারের উপরেই ভরসা রেখেছিলেন শ্রেয়সেরা। দিনের শেষে দেখা গেল সেই সিদ্ধান্ত একদম সঠিক। টি-টোয়েন্টিতে আফগানিস্তান নেহাত খারাপ দল নয়। তবে এ দিন আফগান বোলারদের পাড়ার স্তরে নামিয়ে আনলেন অভিষেকরা।
মাত্র ৩৪ বল খেলেছেন অভিষেক। তার মধ্যেই যা ব্যাট করেছেন তা সমীহ আদায় করে নিয়েছে। তিনি ক্রিজ়ে থাকাকালীন উল্টো দিকে থাকা সঞ্জুকে বিশেষ কিছু করতেই হয়নি। তিনি বেশির ভাগ সময়টাই নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে দাঁড়িয়ে তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করেছেন অভিষেকের ব্যাটিং। ১৬ বলে অর্ধশতরান করেন অভিষেক। শতরান আসে ৩০ বলে। রোহিত শর্মার নজির ভেঙে দিয়েছেন অভিষেক। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতেও একাধিক নজির গড়েছেন। মুড়িমুড়কির মতো ছয় মেরেছেন। অভিষেকের ৩৪ বলে ১০৮ রানের ইনিংসে রয়েছে ১১টি ছয় এবং ৯টি চার। অর্থাৎ ১০২ রানই এসেছে বাউন্ডারি থেকে। টি-টোয়েন্টিতে তৃতীয় শতরান হল অভিষেকের।
সিরিজ়ে প্রথম বার শুরুতে ব্যাট করতে নেমেছিল ভারত। দ্বিতীয় ওভার থেকেই শুরু হয় অভিষেকের আক্রমণ। ফজলহক ফারুকির প্রথম ওভার সামলে খেলেছিলেন। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ওভার থেকে আসে ১৭ এবং ২৩ রান। পাওয়ার প্লে-তে স্পিনার এনে অভিষেককে আটকাতে চেয়েছিলেন আফগান অধিনায়ক ইব্রাহিম জ়াদরান। ফল হয় উল্টো। মহম্মদ নবির ওভার থেকে আসে ২৯ রান। তাঁকে অভিষেক এবং সঞ্জু দু’টি করে ছক্কা মারেন। ২২ রানের মাথায় সঞ্জুর ক্যাচও পড়ে।
দুই ওপেনারের দাপটে পাওয়ার প্লে-তে ওঠে ১০০ রান। অর্ধশতরানের পরেও থামার কোনও লক্ষণ দেখা যায়নি অভিষেকের খেলায়। বরং আগ্রাসন আরও বাড়িয়ে দেন তিনি। নবম ওভারেই শতরান পূরণ করে ফেলেন। অন্য সময় ডান হাতের একটি বিশেষ ভঙ্গিমায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন অভিষেক। এ দিন ব্যাট তুলে দু’হাতে উৎসবের পর আচমকাই মাঠে বসে পড়ে ধ্যান করার ভঙ্গিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি। তা দেখে অনেকেরই মনে পড়ে গিয়েছে গোলের পর আর্লিং হালান্ডের উৎসবের কথা।
অভিষেককে শেষ পর্যন্ত ফেরান রশিদ খান। দশম ওভারে রশিদের বলে চালাতে গিয়ে উইকেটকিপার রহমানুল্লাহ গুরবাজ়ের হাতে ক্যাচ দেন অভিষেক। টি-টোয়েন্টিতে সাধারণত তিনে নামেন ঈশান কিশন। এ দিন নামানো হয় তিলক বর্মাকে (২)। তিনি সাফল্য পাননি। অর্ধশতরান করেই ফিরে যান সঞ্জুও (৫০)। পাঁচে তুলে আনা হয় শিবম দুবেকে (১৪)। তিনি আক্রমণাত্মক শুরু করলেও ক্রিজ়ে বেশি ক্ষণ টিকতে পারেননি। ছয়ে নেমে ব্যর্থ ঈশানও (১০)।
আরও পড়ুন:
-
বাগ্দানের ছ’মাসের মধ্যেই প্রেমিকার সঙ্গে বিচ্ছেদ পৃথ্বীর, ক্রিকেটের পর ব্যক্তিগত জীবনেও সমস্যায় ভারতীয় ক্রিকেটার
-
৩০ বলে ১০০! এক শর্মার তাণ্ডবে ভেঙে গেল আর এক শর্মার নজির, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অভিষেক টপকে গেলেন রোহিতকে
-
দলকে পর পর দু’বার আইপিএল জিতিয়ে ভুবনেশ্বরের দাবি, কেন তাঁকে বেঙ্গালুরু কিনেছিল বুঝতেই পারছেন না!
পর পর উইকেট পড়তে থাকায় ভারতের রানের গতিও কমে যায়। বাধ্য হয়ে কিছুটা ধরে খেলতে হয় শ্রেয়সকে (২৯)। এক সময় মনে হচ্ছিল ভারতের রান ৩০০ পেরিয়ে যাবে। কিন্তু শেষ পাঁচ ওভারে মাত্র ৩৭ রান ওঠে।
রানের বোঝা নিয়ে খেলতে নেমে আফগানিস্তানও শুরুটা করেছিল আগ্রাসী ভাবেই। তিন ওভারেই উঠে যায় ৩১ রান। এর পরেই নামে ধস। গুরবাজ় (১৫) এবং জ়াদরান (২৫) ফেরার পর থেকেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে আফগানিস্তানের ব্যাটিং। আর মাত্র দু’জন ব্যাটার দু’অঙ্কের রানে পৌঁছেছেন। জসপ্রীত বুমরাহকে ২ ওভারের বেশি বল করতেই হয়নি। অলরাউন্ডার নীতীশ এবং স্পিনার বিশ্নোই ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন। দু’টি উইকেট অক্ষর পটেলের। একটি করে উইকেট বুমরাহ ও যশ ঠাকুরের।
সিরিজ়ের তিনটি ম্যাচেই আফগানিস্তান ব্যাটিং ও বোলিং কোনও বিভাগেই ভারতের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেনি। শেষ ম্যাচেও তারা ডুবল এই দুই বিভাগের ব্যর্থতায়। রশিদ এবং নবিদের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারেরাও নিজেদের জাত চেনাতে পারলেন না।