বয়স ভাঁড়ানোর অভিযোগে রাজ্য ক্রিকেটে তোলপাড়। এই নিয়ে সরব হয়েছেন বিজেপি বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি। তিনি রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
শুধু তা-ই নয়, যেহেতু রাজ্যের ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা সিএবির সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, তাই তাঁরও জবাব চেয়েছেন রীতেশ। যাবতীয় অভিযোগ নিয়ে মুখ খুলেছেন স্বয়ং সৌরভ।
বযস ভাঁড়ানোয় দোষী সাব্যস্ত দুই ক্রিকেটারকে সিএবি পুরস্কৃত করেছে। তার কয়েক দিন আগে সিএবিই তাদের নির্বাসিত করেছিল। এই নিয়ে কাশীপুর-বেলগাছিয়ার বিধায়ক রীতেশ বলেন, “একটি অনুষ্ঠানে কয়েক জন ক্রিকেটারকে সিএবি পুরস্কার দিয়েছে। অথচ, বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ও সিএবি তাঁদের ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করেছে।”
সৌরভের জবাবদিহি চেয়ে তিনি বলেন, “ব্যক্তি সৌরভ নিয়ে আমি কিছু বলব না। কিন্তু উনি সিএবি সভাপতি। তাই ওঁকে তো জবাব দিতেই হবে।”
আরও পড়ুন:
সৌরভ বলেন, “আমি রীতেশবাবুকে অনেক দিন ধরে চিনি। ২০১৭ সাল থেকে পরিচয়। উনি ক্রিকেট ভালবাসেন এবং ময়দানের ক্রিকেটের খবর রাখেন। এই বার্ষিক পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ছিল গত বছরের ক্রিকেট মরশুমের ভিত্তিতে। এটা এই বছরের নয়।”
সিএবি সচিব বাবলু কোলের বক্তব্য তুলে ধরে রীতেশ বলেন, “সচিব জানিয়েছেন, আধার কার্ড আপডেটের মাধ্যমে ৫০০-রও বেশি ক্রিকেটারের বয়স সংক্রান্ত অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। এর পাশাপাশি ৬০-এর বেশি ক্রিকেটার ইতিমধ্যেই নির্বাসিত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে একাধিক প্রশ্ন উঠছে। এতদিন ধরে এই বিষয়ে সিএবি কেন কোনও পদক্ষেপ করেনি? সিএবি কেন আরও আগে বিষয়টি তদন্ত করেনি?”
বৃহস্পতিবার ইডেনে সৌরভ বলেন, “বিসিসিআই এবারই প্রথম আধার আপডেট সিস্টেম চালু করেছে। গত মাসের ২৭ তারিখ, বোর্ড এই আধার আপডেট সিস্টেম নিয়ে একটা সেমিনার আয়োজন করেছিল। সব রাজ্য সংস্থার প্রতিনিধিরা গিয়েছিলেন এই সিস্টেমটা বুঝতে। কারণ, পুরো ভারত জুড়ে এই বয়সের সমস্যা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন পুরসভার মতো এখানেও কলকাতা পুরসভা জন্ম শংসাপত্র দেয়। খেলোয়াড়েরা সেটা ব্যবহার করেই খেলে এসেছে। বয়সের গরমিল প্রতিটা খেলাধুলার সমস্যা। ফুটবল, ক্রিকেট, হকি—সব খেলাতেই এটা আছে।”
আরও পড়ুন:
বয়সের গরমিল যে সিএবিই প্রথম খুঁজে বের করেছে, দাবি করে সৌরভ বলেন, “সিএবি এবং সকল রাজ্য সংস্থাই বয়সের গরমিল নিষ্পত্তির জন্য একটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। রোহিত যাদব, যাকে বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, বিসিসিআই কিন্তু তার বয়সের গরমিল খুঁজে পায়নি। সিএবি দু’মাস আগে খুঁজে পেয়েছিল। সঙ্গে সঙ্গে সিএবি এই নথিগুলো অ্যাবে কুরুভিলার (বিসিসিআইয়ের জেনারেল ম্যানেজার) কাছে পাঠায় এবং তাঁকে এগুলো খতিয়ে দেখার জন্য অনুরোধ করা হয়।”
প্রশ্ল উঠছে, বয়স ভাঁড়ানো আটকাতে সিএবি কী ব্যবস্থা নিচ্ছে? সৌরভ বলেন, “সিএবির ১০ জনের একটা দল রয়েছে, যারা সবকিছু নিখুঁত ভাবে যাচাই করে এবং রিপোর্ট জমা দেয়। গত তিন মাস ধরে এখানে এই প্রক্রিয়াটা চলছে। তা না হলে এতজন ধরা পড়ল কী ভাবে? আসলে, আধার আপডেট সিস্টেম সবকিছু বদলে দিয়েছে। যাদের বয়সের গরমিলের কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাদের আর খেলতে দেওয়া হবে না। তাই অনূর্ধ্ব-২৩, অনূর্ধ্ব-১৯ এবং অনূর্ধ্ব-১৫ বিভাগে এমন একজন ক্রিকেটারও নেই যার বয়স নিয়ে কোনও সমস্যা আছে।”
রাহুল দ্রাবিড়ও সিএবির উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন জানিয়ে সৌরভ বলেন, “রাহুল আমাকে মেসেজ পাঠিয়ে বলেছে, ‘আমি এর জন্য সিএবিকে অভিনন্দন জানাই। যেহেতু আমি ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দলের দায়িত্বে ছিলাম, এটি পুরো দেশ জুড়েই একটি বড় সমস্যা।’”
কিন্তু এখানেও অভিযোগ উঠেছে, ভিনরাজ্যের ক্রিকেটারদের নির্বাসিত করা হলেও স্থানীয় ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে সিএবি কিছুটা নমনীয়তা দেখাচ্ছে। সৌরভের বক্তব্য, “যারা ভিনরাজ্যের, সিএবি তাদের কোনও ছাড় দেবে না। ভিনরাজ্যের ক্রিকেটারদের বিষয়ে সিএবি অত্যন্ত কঠোর। অন্তত গত এক বছরে আমাদের মেয়াদে। বাংলার স্থানীয় ছেলেরাই বাংলার হয়ে খেলবে। সেটাই হতে যাচ্ছে।
সেই কারণেই স্থানীয় ক্রিকেটারদের যাদের বয়সের গরমিল রয়েছে, সিএবি তাদের কোনও বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টের জন্য বিবেচনা করবে না, কিন্তু তারা ক্লাব ক্রিকেট খেলতে পারে। তা না হলে ক্লাব ক্রিকেটের জন্য খেলোয়াড়ই পাওয়া যাবে না। তাই স্থানীয়দের জন্য নিয়মটা আলাদা হতেই হবে। কিন্তু তারা বয়সভিত্তিক ক্রিকেট খেলবে না। আর অনূর্ধ্ব-১৯, অনূর্ধ্ব-২৩, অনূর্ধ্ব-১৫ স্তরে নির্বাচিত ক্রিকেটারেরা সম্পূর্ণ স্বচ্ছ। আমরা বয়সের গরমিল বা জালিয়াতি সহ্য করব না। কারণ, আমার কাছে সততাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।“