Advertisement
E-Paper

মেয়েদের এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারত! বাংলাদেশকে হারালেও ট্রফির লড়াইয়ের আগে চিন্তা সেই ব্যাটিং নিয়েই

মেয়েদের এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠে গেল ভারত। বৃহস্পতিবার সেমিফাইনালে বাংলাদেশকে ৪০ রানে হারালেন হরমনপ্রীত কৌরেরা। ট্রফির থেকে এক ধাপ দূরে থাকা ভারতীয় দলের সমস্যা অবশ্য মিটল না।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩:১০
cricket

শেফালির অর্ধশতরানে জিতল ভারত। ছবি: সমাজমাধ্যম।

মেয়েদের এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠে গেল ভারত। বৃহস্পতিবার সেমিফাইনালে বাংলাদেশকে ৪০ রানে হারালেন হরমনপ্রীত কৌরেরা। ট্রফির থেকে এক ধাপ দূরে থাকা ভারতীয় দলের সমস্যা অবশ্য মিটল না। সেমিফাইনালে প্রকট হয়ে উঠল ব্যাটিংয়ের দুরবস্থা। শেফালি বর্মা এ দিন না খেলতে পারলে ভারত ম্যাচটা হারতেও পারত।

কোনও ম্যাচে টপ অর্ডার, কোনও ম্যাচে মিডল অর্ডার— ভারতের ব্যাটিংয়ে চিন্তা থেকেই যাচ্ছে। আগের ম্যাচে টপ অর্ডার অল্প রান তুলতেও হিমশিম খেয়েছে। এ দিন স্মৃতি ব্যর্থ হলেও টপ অর্ডার মোটের উপর খারাপ খেলেনি। কিন্তু মন্থর পিচে রান রেট সচল রাখতে সমস্যায় পড়ছে মিডল অর্ডার। হরমনপ্রীত খুবই ধীরে খেলেছেন। তিনি কিছুটা চালিয়ে খেললে রান আরও বাড়ত। ভারতের জয়ের নেপথ্যে রয়েছে বাংলাদেশের খারাপ ফিল্ডিংও। তিন বার শেফালির ক্যাচ না ছাড়লে বাংলাদেশ হারে না।

টসে জিতে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক নিগার সুলতানা। প্রথম ওভারেই মনে হয়েছিল তাঁর সিদ্ধান্ত সঠিক। হংকংয়ের বিরুদ্ধে শতরান করা স্মৃতি মন্ধানাকে শুরুতেই ফিরিয়ে দেন মারুফা আখতার। কিন্তু শেফালি থাকায় সমস্যায় পড়তে হয়নি ভারতকে।

বাংলাদেশের বোলিং এশিয়া কাপে এখনও পর্যন্ত সুনাম কুড়িয়েছে। বৃহস্পতিবারও তার ব্যতিক্রম ছিল না। ভারতের বাকি ব্যাটারেরা যেখানে দুবাইয়ের মন্থর পিচে খেলতে সমস্যায় পড়ছিলেন, সেখানে শেফালিকে দেখে মনে হয়েছে তিনি আলাদা পিচে খেলছিলেন। দলের চার জন ব্যাটারের স্ট্রাইক রেট ছিল ১০০-র নীচে। সেখানে শেফালি ব্যাট করেছেন ১৬০ স্ট্রাইক রেটে। ৪০ বলে ৬৪ রানের ইনিংসে রয়েছে সাতটি চার এবং তিনটি ছয়।

শেফালিকে সঙ্গ দিয়েছে তাঁর ভাগ্যও। ভারতের সেরা ব্যাটারের ক্যাচ তিন বার ফেলেছেন বাংলাদেশের ফিল্ডারেরা। সেই জীবনদানের সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছেন শেফালি। প্রথমে তাঁর ক্যাচ পড়ে ৬ রানের মাথায়। সুলতানা খাতুনের বলে তুলে মেরেছিলেন। ফাহিমা খাতুন অনেক ক্ষণ ধরে বলের নীচে থাকা সত্ত্বেও ক্যাচ ধরতে পারেননি। বাংলাদেশের ক্রিকেটারেরা অবাক হয়ে যান।

এর পর ১১ রানের মাথায় তাঁর ক্যাচ পড়ে। এ বার মারুফা আখতারের বলে দৌড়ে ক্যাচ নিতে এসেছিলেন নাহিদা আখতার। বল তালুবন্দি করতে পারেননি। ৪০ রানের মাথায় শেফালির তৃতীয় ক্যাচ ফেলেন বাংলাদেশের আরও এক ফিল্ডার। সুযোগ কাজে লাগিয়ে অর্ধশতরান করেন ভারতের ব্যাটার। মাঠের সব দিকে তিনি শট মেরেছেন। বিশেষ করে মারুফার বলে সামনের পায়ে একটি পুল চোখ জুড়িয়ে দেওয়ার মতো। এ ছাড়া স্পিনারদের অনায়াসে রিভার্স সুইপ মেরেছেন।

পাওয়ার প্লে-তে ভারত ৪৫/১ স্কোরে পৌঁছলেও মাঝের দিকের ওভারে রান করতে পারেননি। তিনে নামা প্রতীকা রওয়াল (২৪ বলে ২০) শুরুটা ভাল করেছিলেন মারুফার বলে কভার ড্রাইভ মেরে। তাঁর বলেই পরের দিকে আউট হন। রিচা ঘোষ শুরুটা ধীরে করলেও পরের দিকে চালিয়ে খেলেন।

তবে সমস্যায় হয় হরমনপ্রীত কৌরকে নিয়ে। কিছুতেই ব্যাটে-বলে হচ্ছিল না তাঁর। প্রথম ১৬ বলে মাত্র ৪ রান করেছিলেন তিনি। পরের দিকে দু’টি ছয় মেরে স্ট্রাইক রেট বাড়ান। ২৮ বলে ২৪ রানে অপরাজিত থাকেন। দীপ্তি শর্মা (৬ বলে ১৩) একটি চার ও ছয় মেরে রান রেটে বাড়ানোর চেষ্টা করেন।

বাংলাদেশ শুরুটা ধীরগতিতে করলেও উইকেট হারায়নি। ষষ্ঠ ওভারে জুরাইয়া ফিরদৌসকে (১৪) আউট করে প্রথম ধাক্কা দেন শ্রী চরণী। এর পর ওপেনার দিলারা আখতারকে (২১) ফেরান দীপ্তি। শোভনা মোস্তারি (১৮) এবং সুলতানা (১৯) হাল ধরলেও বেশি ক্ষণ টানতে পারেননি। ৩১ রানের জুটির পর দু’জনেই দু’ওভারের ব্যবধানে ফিরে যান।

মন্থর পিচে খেলতে ভারতের যতটা সমস্যা হয়েছে, বাংলাদেশের হয়েছে তার চেয়েও বেশি। ভারতের স্পিনারদের সামনে আক্রমণই করতে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটারেরা। ফলে ক্রমশই বেড়েছে আস্কিং রেট। শেষ পর্যন্ত ১০৯/৭ স্কোরে থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।

Women's T20 Asia Cup Shafali Verma Harmanpreet Kaur BCCI Women

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy