এশিয়ান গেমসে খেলতে নামার আগেই জাপানের বিরুদ্ধে একটি প্রদর্শনী ম্যাচ খেলবে ভারত। ২২ সেপ্টেম্বর ওই ম্যাচ হওয়ার কথা রয়েছে সানোর মাঠে। সেই ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। জাপানের দর্শকদের মধ্যে ক্রিকেট নিয়ে আগ্রহ বাড়াতে চেষ্টার কমতি রাখছে না সে দেশের বোর্ড।
ভারত এবং জাপানের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই ম্যাচ আয়োজন করা হচ্ছে। জাপানের মানুষ বেসবল পাগল। তাঁদের ক্রিকেটে আগ্রহী করে তোলার চেষ্টা হচ্ছে। এই ম্যাচ নিয়ে স্পনসর সংস্থাগুলিও আগ্রহ দেখাচ্ছে। জাপানের এক নামী গাড়ি নির্মাতা সংস্থা এই ম্যাচের প্রধান স্পনসর। রয়েছে আরও বহু সংস্থা।
শোনা গিয়েছে, এই ম্যাচের জন্য জাপান ক্রিকেট সংস্থা তাদের অর্ধেক তহবিল খালি করে দিচ্ছে। আর্থিক সাহায্য করছে ভারতীয় বোর্ডও। শুধু অর্থই নয়, সে দেশের জনতাকে ক্রিকেটমুখী করে তোলার চেষ্টা চলছে। জাপানের অধিনায়ক কেন্দেল কাদোয়াকি বলেছেন, “এখন মনে হচ্ছে পুরোটাই বাস্তব। তবে দলের অনেকের মধ্যেই এখনও অবিশ্বাস কাজ করছে। ভাবাই যাচ্ছে না আমরা এ রকম একটা ম্যাচ খেলতে চলেছি।”
এই ম্যাচে প্রচুর দর্শক হতে পারে। সানোর মাঠের দর্শকাসন ৫০০ থেকে বাড়িয়ে ২০০০ করা হয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে টিকিট শেষ হয়ে গিয়েছে। আলাদা করে ম্যাচের প্রচার করারও দরকার পড়ছে না। মুখে মুখে ম্যাচের কথা ছড়িয়ে গিয়েছে।
পিচ তৈরির জন্য জাপানের তরফে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তারা জাপানে বিশেষজ্ঞদের পাঠিয়েছে। মাটিও পাঠানো হয়েছে। শুধু সানোই নয়, নিশিন সিটিতে যেখানে এশিয়ান গেমসে ম্যাচ হবে সেই মাঠও তৈরি করছেন শ্রীলঙ্কার কর্মীরা।
জাপান ক্রিকেট সংস্থার মুখ্যকর্তা নাওকি মিয়াজি বলেছেন, “আমরা এমনিতেই সানোর মাঠকে নতুন করে তৈরি করার চেষ্টা করেছিলাম। সেই পরিকল্পনাই কিছুটা এগিয়ে নিয়ে গিয়ে আইচির মাঠগুলোও তৈরি করা হচ্ছে। একই মাটি, একই পিচ। ফলে এশিয়াডের দলগুলোও সানোয় অনুশীলন করতে পারবে।”
আরও পড়ুন:
-
এই বছরেই বিয়ে করছেন রিঙ্কু, সাংসদ প্রেমিকার সঙ্গে ভারতীয় ক্রিকেটারের চার হাত কবে এক হবে, দিন প্রকাশ্যে
-
এশিয়ান গেমসে নেই বরুণ, এক ম্যাচ খেলেই চোট পাওয়া ক্রিকেটার যেতে পারবেন না জাপানে, পরিবর্তের নাম জানিয়ে দিল বোর্ড
-
বৈভব কি তাঁকে বাড়তি চাপে ফেলেন? মুখ খুললেন সঞ্জু, শুধু বললেন, ‘গম্ভীরের সঙ্গে কথা হয়ে গিয়েছে’
জাপান নিয়মিত অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটে খেলে। গত বছর অল্পের জন্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে পারেনি। তবে সানোর বাইরেও জাপানে ক্রিকেট নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। সংস্থার তরফে স্কুলগুলিতে ক্রিকেট মাঠ তৈরির চেষ্টা চলছে।
জাপানের দলে খেলেন চেন্নাইয়ে জন্মানো সাবাওরিশ রবিচন্দ্রন। তিনি বলেছেন, “জাপানে সকলে দিনের বেলা কাজ করে। কেউ ক্রিকেট খেলার জন্য টাকা পায় না। কিন্তু সপ্তাহান্তে শয়ে শয়ে ছেলেমেয়ে সানোয় যায় ক্রিকেট খেলতে। কেউ কেউ বুলেট ট্রেন ধরে অন্য শহর থেকেও আসে। মাকোতো তানিয়ামা এবং ওয়াতারু মিয়াউচি তো স্কুল ক্রিকেট থেকেই উঠে এসেছে।”