ভারতীয় দলে প্রথম বার ডাক পেয়েছেন তিনি। নিউ জ়িল্যান্ড সফরে শেষ দু’টি এক দিনের ম্যাচ খেলতে যাবেন কুমার কুশাগ্র। অথচ ক্রিকেট নিয়ে কোনও দিন আগ্রহই ছিল না তাঁর। বাবার ইচ্ছাতেই ক্রিকেট খেলা শুরু করেন। ইতিহাসবিদ রোমিলা থাপারের একটি কথাই পাল্টে দিয়েছিল তাঁর বাবার দৃষ্টিভঙ্গি।
ঝাড়খণ্ডের যুগ্ম কমিশনার হিসাবে কর্মরত ছিলেন কুশাগ্রের বাবা শশীকান্ত। সেই রাজ্য থেকে উঠে আসা ধোনির। শশীকান্ত বুঝতে পেরেছিলেন, খ্যাতি, সুনাম, ভাল জীবনযাত্রা— সবই পাওয়া যায় ক্রিকেট খেলে। তাই ছেলেকে ক্রিকেটার বানাতে উঠেপড়ে লাগেন তিনি।
৬ বছর বয়সে ছেলেকে ক্রিকেট শেখাতে শুরু করেন। তবে কোনও অ্যাকাডেমিতে নয়, তিনি নিজেই শেখাতে থাকেন। শশীকান্ত কোনও দিন ক্রিকেট খেলেননি। ক্রিকেট সম্পর্কে বিন্দুমাত্র জ্ঞানও ছিল না। তিনি বব উলমার এবং ডন ব্র্যাডম্যানের লেখা বই পড়ে ব্যাটিংয়ের ব্যাপারে বিস্তারিত জেনেছেন। সেগুলিই সহজ ভাষায় খাতায় লিখে রেখেছিলেন। তা দেখেই ক্রিকেট অনুশীলন করেছেন ছেলেকে দিয়ে।
‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে শশীকান্ত বলেছেন, “কোনও দিন ওকে অ্যাকাডেমিতে পাঠাইনি। তা হলে অনেক সময় নষ্ট হত। ভেবেছিলাম যদি ওকে তাড়াতাড়ি সফল করাতে হয়, তা হলে বই পড়ে নিজেদেরই শিখতে হবে। আমি বড় বড় ক্রিকেটারের বই পড়েছি। আশেপাশে যা পেয়েছি সেটাই পড়েছি। সেখান থেকে বিভিন্ন জিনিস শিখেছি। প্রতিটা শট নিয়ে কাজ করেছি। কী ভাবে এই শট, ওই শট খেলতে হয় সেটা শিখেছি। বিভিন্ন ধরনের পুল শটের ব্যাপারে লেখা ছিল।”
আরও পড়ুন:
জীবন বদলে দেয় থাপারের কিছু কথা। দিল্লির জহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তাঁর একটি শিক্ষার কথা মনে রেখেছিলেন শশীকান্ত। বলেছেন, “আমি জেএনইউ থেকে এমএ করেছি। রোমিলা থাপার আমাদের পড়াতেন। তিনি বরাবর গবেষণার উপরে জোর দিতেন। আমি খুব উপভোগ করতাম। কুশাগ্রকে ক্রিকেট শেখানোর ব্যাপারেও একই জিনিস অনুসরণ করেছি। অনেক গবেষণা করেছি। কোথায় হাত থাকবে, কোথায় আঙুল থাকবে, কব্জির পজিশন কী হবে সব শিখেছি। প্রচুর পড়াশোনা করেছি কোনটা ঠিক, কোনটা ভুল নিয়ে। এখন কুশাগ্র সব জানে।”