আসিথা ফার্নান্ডোকে গুঁতো মারায় যশস্বী জয়সবালের ম্যাচ ফি-র ২৫ শতাংশ কেটে নেওয়া হয়েছে। তাঁকে একটি ডি-মেরিট পয়েন্ট দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই একই শাস্তি তো দেওয়া হয়েছে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটার ফার্নান্ডোকে। আইসিসি যে বিবৃতি দিয়েছে, সেখানেও ফার্নান্ডোকে প্রধান দোষী বলা হয়েছে। সেই বক্তব্য অসত্য। ভিডিয়ো অন্তত তেমন কথা বলছে না।
কী বলেছে আইসিসি?
আইসিসি বিবৃতিতে বলেছে, আউট হওয়ার পর যশস্বী ফার্নান্ডোর দিকে এগিয়ে যান। দু’জনের বাক্য বিনিয়ম হয়। তার পর যশস্বীর দিকে গুঁতো মারার ভঙ্গিতে মাথা এগিয়ে দেন ফার্নান্ডো। তা দেখে যশস্বীও মাথা এগিয়ে দেন। তার পরেই দু’জনের মাথায় গুঁতো লাগে। এই বিবৃতি থেকে স্পষ্ট, যশস্বী নন, ফার্নান্ডোকেই প্রকৃত দোষী মনে করেছে জয় শাহের নেতৃত্বাধীন বোর্ড।
ভিডিয়োয় কী দেখা যাচ্ছে?
আউট হওয়ার পর সাজঘরের দিকে ফিরছিলেন যশস্বী। সেই সময় উল্লাস করতে করতে কিছু একটা বলেন ফার্নান্ডো। কয়েক পা এগিয়ে আবার ফিরে আসেন যশস্বী। দুই ক্রিকেটার একে অপরের সামনে ছিলেন। হঠাৎ যশস্বী তাঁরে দিকে গুঁতো মারার ভঙ্গিতে নিজের মাথা এগিয়ে দেন। তখন ফার্নান্ডোও তাঁর দিকে এগোন। মাথায় মাথায় গুঁতো লাগে। তার পরে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারেরা তাঁদের আলাদা করেন।
অর্থাৎ, ভিডিয়োর সঙ্গে আইসিসির বিবৃতির মিল নেই। ভিডিয়ো তো আর মিথ্যা বলবে না। ঠিক কী ঘটেছিল, তা সকলের কাছে স্পষ্ট। সমাজমাধ্যমে অনেকেই বিশ্বক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থার সমালোচনা করেছেন। তাঁদের দাবি, ভিডিয়োয় সকলে দেখেছে কী হয়েছে। তার পরেও আইসিসি অন্য কথা বলে যশস্বীর অপরাধ ঢাকার চেষ্টা করছে।
আরও পড়ুন:
প্রশ্ন উঠছে, আইসিসি-র মাথায় জয় শাহ থাকার কারণেই কি বেঁচে গেলেন যশস্বী। তিনি যে অপরাধ করেছেন, তা ক্রিকেট মাঠে খুব বেশি দেখা যায় না। এই সব অপরাধের ক্ষেত্রে যখন কড়া শাস্তির নিয়ম রয়েছে, তখন তা মানা হল না কেন? অনেকের মতে, যশস্বী ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ। সেই কারণেই তাঁর কেরিয়ার নষ্ট করতে চায়নি আইসিসি। তাঁকে সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু উল্টো কথাও শোনা যাচ্ছে। এই অপরাধ যদি অন্য কোনও দেশের ক্রিকেটার করতেন, তা হলেও কি একই রকমের শাস্তি হত?
ক্রিকেট মাঠে কোনও ক্রিকেটারকে শারীরিক আঘাত করলে তাকে লেবেল ৪ অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হতে পারে। আইসিসি-র নিয়মে বলা হয়েছে, কোনও ক্রিকেটার, আম্পায়ার, ম্যাচ রেফারি বা সাপোর্ট স্টাফকে শারীরিক আঘাত করলে সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারকে ২.১৮ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আবার আন্তর্জাতিক ম্যাচে হিংসার প্রদর্শন করলে সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারকে ২.১৯ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হতে পারে।
আইসিসি-র নিয়মে স্পষ্ট বলা হয়েছে, লেবেল ৪ অপরাধ করলে সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারকে পাঁচটি টেস্ট বা ১০টি এক দিনের ম্যাচ থেকে শুরু করে আজীবন নির্বাসিত করা হতে পারে। কিন্তু যদি ম্যাচ রেফারির মনে হয়, অনিচ্ছাকৃত ভাবে কোনও ক্রিকেটার অপর ক্রিকেটারকে আঘাত করেছেন, সে ক্ষেত্রে তাকে লেবেল ১ অপরাধ ধরে সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারের ম্যাচ ফি-র ২৫ বা ৫০ শতাংশ কেটে নেওয়া হতে পারে। তাঁকে ১ বা ২ ডি-মেরিট পয়েন্টও দেওয়া হতে পারে। যশস্বীকে এই ধারাতেই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আইসিসি যে যুক্তি দেখিয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।