টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বিশ্বের অন্যতম সেরা স্পিনার হিসাবে বিবেচনা করা হয় বরুণ চক্রবর্তীকে। গত এক বছরে ২০ ওভারের আন্তর্জাতিকে সবচেয়ে বেশি ৩৬টি উইকেট নিয়েছেন। দ্বিতীয় স্থানে থাকা কুলদীপ যাদবের উইকেট ২১টি। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী ছিলেন বরুণ। অথচ গত ইংল্যান্ড সফরে হতাশ করেছিলেন। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে আবার চেনা মেজাজে দেখা গিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্সের স্পিনারকে। কী ভাবে ফর্ম ফিরে পেলেন? ম্যাচের পর নিজেই জানিয়েছেন বরুণ।
ইংল্যান্ডে দু’ম্যাচে ৭ ওভার বল করে ৭২ রান দিয়েছিলেন বরুণ। মাত্র একটি উইকেট পেয়েছিলেন। সেই ব্যর্থতার কোনও ছাপ দেখা যায়নি তাঁর রবিবারের পারফরম্যান্সে। ম্যাচের পর বরুণ বলেছেন, ‘‘ফলাফলের কথা ভেবে খেলা যায় না। ফলাফলের কথা ভেবে খেলতে নামলে, প্রতিটি ছোট বিষয় নিয়েও প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে ফেলব। ফলাফল আমার পক্ষে এলে আনন্দ হবে, আবার বিপক্ষে গেলে হতাশ হয়ে পড়ব। তাই এমন কিছু মাথায় রেখে খেলা যায় না। আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে পদ্ধতি। ভাল বল করেও ছক্কা খেলে কিছু মনে হয় না। তবে খারাপ বলে উইকেট পেলেও ভাবতে হয়। বলটা যাতে ঠিক হয়, সেটাই নিশ্চিত করতে চাই।’’
বরুণ জানিয়েছেন, উইকেট গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটাই সব নয়। দলকে সাহায্য করতে পারাটাই আসল। তিনি বলেছেন, ‘‘উইকেট পাওয়াই সব নয়। ঠিক জায়গায় বল রাখাটা জরুরি। তার পর যাই হোক, সেটা আমার নিয়ন্ত্রণে থাকে না। বল পিচে পড়ার পর ঘুরতে পারে আবার না-ও পারে। এটাও আমার পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। ঠিক মতো ঠিক জায়গায় বল করতে পারলেই আমি খুশি।’’
ইংল্যান্ডে ফর্মে ছিলেন না। আবার আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে চেনা ফর্মে। কী ভাবে ফিরলেন? বরুণ বলেছেন, ‘‘ইংল্যান্ডেও খারাপ বল করিনি। আমরা হয়তো জিততে পারিনি। তার মানে এই নয় আমাদের কিছুই কাজে লাগেনি। পরাজয় থেকে আমরা প্রচুর শেখার চেষ্টা করি। কিছুই ফালতু নয়। আফগানিস্তানের কাছে আমরা যদি হেরে যেতাম, তা হলেও একই কথা বলতাম। হার থেকে সব সময়ই শেখার থাকে। ভুলগুলো সংশোধনের চেষ্টা করি। সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।’’
আরও পড়ুন:
বরুণ বুঝিয়ে দিয়েছেন, ইংল্যান্ডে খারাপ ফর্মে ছিলেন না। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধেও দারুণ ফর্মে নেই। পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করতে পারলেই তিনি সন্তুষ্ট। ফলাফল নিয়ে ভেবে চাপ নিতে চান না। রবিবার ৪ ওভার বল করে ১৬ রানে ১ উইকেট নিয়েছেন।