ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে চার ম্যাচে ৮৭৯ রান দিয়েছিলেন ভারতীয় বোলারেরা। মনে হচ্ছিল, নিউ জ়িল্যান্ডে ছবিটা বদলাবে। কারণ, সেখানে বোলারেরা কিছুটা হলেও সুবিধা পান। কিন্তু সেখানেও হতাশ করলেন ভারতীয় বোলারেরা। হতাশ করল ভারতের ফিল্ডিংও। সেই সুবিধা কাজে লাগিয়ে ২২৫ রান করল নিউ জ়িল্যান্ড।
এই ম্যাচে সকলের নজর ছিল ভুবনেশ্বর কুমারের উপর। চার বছর পর ভারতীয় দলে ফিরে তিনি কেমন বল করেন, তার দিকে নজর ছিল। শুরুটা ভাল করেন ভুবি। নতুন বলে প্রথম ওভারে দেন মাত্র ৪ রান। বল দু’দিকেই সুইং করছিল। কিন্তু দ্বিতীয় ওভারেই লাইন ও লেংথ নষ্ট হয়ে গেল। দিলেন ১৭ রান। যে কাজের জন্য তাঁকে নেওয়া হয়েছে সেটাই করতে পারলেন না। নতুন বলে উইকেট তুলতে পারলেন না। তাতে সমস্যা হল ভারতের।
ডেথ ওভারে দ্বিতীয় স্পেলে এসেও তেমন কিছু করতে পারেননি ভুবনেশ্বর। তাঁর বলের গতি কম। সুইংই অস্ত্র। পাশাপাশি বলের গতির হেরফের ভাল করেন। কিন্তু শেষ দিকে গ্লেন ফিলিপ্সের সামনে অসহায় দেখাল ভুবিকে। শেষ পর্যন্ত চার ওভারে ৪৯ রান দিলেন তিনি। একটিও উইকেট পাননি।
বাকি বোলারদেরও একই দশা। অর্শদীপ সিংহ চার ওভারে ৪৫ রান দিলেন। ময়ঙ্ক যাদব কিছুটা ভাল বল করলেন। চার ওভারে দিলেন ৪০ রান। একই রান দিলেন নীতীশ রেড্ডিও। সবচেয়ে খারাপ হাল অক্ষর পটেলের। নিউ জ়িল্যান্ডে স্পিনারেরা বিশেষ সুবিধা পান না। কিন্তু অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারলেন না অক্ষর। চার ওভারে ৫৩ রান দিলেন তিনি।
আরও পড়ুন:
এখানে ভারতের পরিকল্পনার অভাবও চোখে পড়ল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে প্রতি ম্যাচে বল করেছিলেন নমন ধীর। উইকেটও নিয়েছিলেন। কিন্তু এই ম্যাচে তাঁকে বলই দিলেন না শ্রেয়স আয়ার। ফলে পাঁচ বোলারে খেলল ভারত। টি-টোয়েন্টি ম্যাচে পাঁচ বোলারে খেলা খুব কঠিন। বিকল্প না থাকলে সমস্যা। সেটাই হল।
ভারতের ফিল্ডিং আরও এক বার হতাশ করল। সহজ ক্যাচ ছাড়লেন অভিষেক শর্মা। ২০২৬ সালে ভারত ৫৭টি ক্যাচ ফেলেছে। এই পরিসংখ্যান উদ্বেগজনক। পাশাপাশি হাতের তলা দিয়ে বল গলালেন প্রিন্স যাদব। বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে এক রানের জায়গায় দু’রান হল। যদি একের পর এক ম্যাচে এই অবস্থা হয়, তা হলে কিন্তু আগামী দিন আরও খারাপ সময় আসছে। সেই ইঙ্গিত মিলতে শুরু করেছে।