অধিনায়ক হিসেবে এখনও পর্যন্ত খুব বেশি সাফল্য পাননি শ্রেয়স আয়ার। ২৬টি ম্যাচের মধ্যে ১৪টি জিতেছেন। ১০টি হেরেছেন। তাঁর আগের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ৫২টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র আটটি হেরেছিলেন। জিতেছিলেন ৪০টি। একটি সিরিজ়ও হারেননি তিনি। বিশ্বকাপ জিতেছেন। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে অধিনায়ক শ্রেয়সের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর।
ভারত-নিউ জ়িল্যান্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজ় শেষে সাংবাদিক বৈঠকে শ্রেয়সকে নিয়ে কথা বলেছেন গম্ভীর। তিনি বলেন, “শ্রেয়স অনভিজ্ঞ বোলিং আক্রমণ নিয়েও দুর্দান্ত কাজ করেছে। একজন অধিনায়ক ততটাই ভাল যতটা তাঁর ব্যাটার ও বোলারেরা। অনভিজ্ঞ বোলিং আক্রমণ নিয়ে এর থেকে ভাল আর কী করা যায়?”
এ কথা সত্যি যে, ময়ঙ্ক যাদব, প্রিন্স যাদবেরা অনভিজ্ঞ। কিন্তু ভুবনেশ্বর কুমার, অর্শদীপ সিংহের মতো অভিজ্ঞদের তো পেয়েছেন শ্রেয়স। হতে পারে জসপ্রীত বুমরাহ, হার্দিক পাণ্ড্য, কুলদীপ যাদব বা বরুণ চক্রবর্তীর মতো অভিজ্ঞ বোলারকে খুব বেশি পাননি তিনি, কিন্তু তাই বলে সব দায় বোলারদের উপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। শ্রেয়সের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে সেটাই করেছেন গম্ভীর।
টি-টোয়েন্টি দলের বেশির ভাগ ক্রিকেটারই প্রথম বার নিউ জ়িল্যান্ডে গিয়েছেন। সেখানকার পরিবেশে তাঁরা ভাল ভাবে মানিয়ে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন গম্ভীর। তাই অভিযোগ নেই তাঁর। ভারতের প্রধান কোচ বলেন, “দলের ৭০-৮০ শতাংশ ক্রিকেটার প্রথম বার এই দেশে এসেছে। এখানকার পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ নয়। ওরা সেটা করে দেখিয়েছে। এই অভিজ্ঞতা ওদের কাজে লাগবে।”
আরও পড়ুন:
দলের এক ক্রিকেটারের বদলে খুব খুশি গম্ভীর। তিনি হলেন অভিষেক শর্মা। চলতি বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও দেখা গিয়েছে, অফ স্পিনারের বলে সমস্যায় পড়েছেন তিনি। কিন্তু এই সিরিজ়ে তা দেখা যায়নি। গম্ভীর জানিয়েছেন, অভিষেকের সঙ্গে অনেক সময় কাটিয়েছেন তিনি। অনেক পরিশ্রম করেছেন। কোথায় ভুল হচ্ছে তা খতিয়ে দেখেছেন। সেই কারণেই অভিষেকের খেলায় উন্নতি হয়েছে বলে মনে করেন গম্ভীরের। পাশাপাশি বোলার অভিষেককেও আগামী দিনে দেখা যাবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
টি-টোয়েন্টি সিরিজ় শেষ। পর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ় ও নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজ় থাকায় পরিকল্পনার তেমন সুযোগ পাননি বলে জানিয়েছেন গম্ভীর। তবে টেস্ট ও এক দিনের সিরিজ়ের পরিকল্পনা ভাল ভাবে করতে চান তিনি। গম্ভীর বলেন, “নিউ জ়িল্যান্ডের মাটিতে ৫০ ওভার ও টেস্টের চ্যালেঞ্জ সবচেয়ে কঠিন। তাই আমাদের ভাল ভাবে পরিকল্পনা করতে হবে। টেস্ট ও এক দিনের সিরিজ় কী ভাবে জেতা যায়, সেটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
টেস্ট ও এক দিনের সিরিজ়ে বোলারদের উপর চাপ বেশি থাকবে বলে মনে করেন গম্ভীর। তাই সিরিজ় জিতলে সেই কৃতিত্ব বোলারেরাই যাতে পান, সে দিকে নজর থাকবে গম্ভীরের। ভারতের প্রধান কোচ বলেন, “এক দিনের সিরিজ়ে নিউ জ়িল্যান্ডে এর থেকে অনভিজ্ঞ বোলিং আক্রমণ নিয়ে আমরা খেলিনি। টেস্টেও অভিজ্ঞতা কম থাকবে। তাই বোলারদের দায়িত্ব অনেক। ওদের উপর চাপও বেশি। ব্যাটারদের নিয়ে সমস্যা নেই। তাই আমরা যদি টেস্ট ও এক দিনের ক্রিকেটে ভাল খেলি, তার বেশি কৃতিত্ব বোলারদের দেওয়া উচিত।”