তিনি নিজে যে শিক্ষা পেয়েছিলেন, তা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে ভাগ করে নিচ্ছেন বিরাট কোহলি। শুধু দলকে জেতাচ্ছেন না, পাশাপাশি একটি প্রজন্মকে তৈরি করছেন। তিরুঅনন্তপুরমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়কে হারিয়ে উঠে শুভমন গিলকে সেরকমই একটি পাঠ দিয়েছেন কোহলি।
কোহলি জানেন, সাজঘরের পরিবেশ যত ভাল থাকবে, দল তত ভাল খেলবে। কী ভাবে সাজঘরকে ফুরফুরে রাখতে হয়, সেটাই শিখিয়েছেন কোহলি। শুভমনের সঙ্গে কোহলির কথোপকথনের সেই ভিডিয়ো পোস্ট করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।
কোহলি বলেন, “শুভমন এখন নেতৃত্ব দিচ্ছে। আমিও অনেক দিন নেতৃত্ব দিয়েছি। আমি এখন সিনিয়র খেলোয়াড়। সিনিয়রেরা বা অধিনায়কেরা যখন দলে হালকা মেজাজে, খুশিতে থাকে, তখন বাকি সকলেও হালকা থাকতে পারে। সকলের মনে হয়, কোনও সমস্যা নেই। সব ঠিক আছে। খুব চাপের ম্যাচেও আমরা স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করি। ক্রিকেট উপভোগ করার চেষ্টা করি। সকলকে চাপমুক্ত রাখার চেষ্টা করি। আসলে আমরা নিজেদের চাপে ফেলতে চাই না। তাই সব সময় মুখে হাসি লেগে থাকে আমাদের। এ ভাবেই খেলতে চাই আমরা। যদিও মাঠে আমরা সকলেই খুব পেশাদার।”
তিরুঅনন্তপুরমে শুভমনের ১১০ রানের পাশাপাশি ১৩৯ রান করেছেন কোহলি। তাঁদের ১৫১ রানের জুটি দলকে জিতিয়েছে। খেলা শেষে শুভমনকে পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে নিজের সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেছেন কোহলি। একেবারে শুরুতে শুভমনকে কোহলি বলেন, “তুই আগে বল। আমি কী বলব।” শুভমন বলেন, “ব্যাট করে খুব ভাল লেগেছে। এখানে পাজির সঙ্গে এই নিয়ে দু’বার ব্যাট করলাম। দু’বারই শতাধিক রানের জুটি। দু’বারই দু’জনের শতরান। খুব মজা হয়েছে।”
এর পর কোহলি বলেন, “শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ম্যাচটা না? তুই শতরান করেছিলিস না? হ্যাঁ, হ্যাঁ।” শুভমন বলেন, “সামনে থেকে এক দিনের ক্রিকেটে বিরাট পাজিকে ১৫ হাজার রান পূর্ণ করতে দেখলাম। দুর্দান্ত ব্যাপার।” নিজের কীর্তি নিয়ে কোহলি বলেন, “পরিসংখ্যানের দিক থেকে দেখতে দারুণ। তবে আসল লক্ষ্য খুবই সাধারণ। দলের জয়ের জন্য চেষ্টা করা। কঠিন পরিস্থিতি বা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে দলকে জেতানোর চেষ্টা করি। বছরের পর বছর ধরে এই চেষ্টাই করছি।”
আরও পড়ুন:
সেই কথা শুনে শুভমন বলেন, “বিরাট পাজির খেলা দেখে, তাকে অনুসরণ করে এগোনোর চেষ্টা করেছি। এখন ক্রিজ়ে একসঙ্গে ব্যাট করছি। এই মুহূর্তগুলো ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছি। দারুণ সব স্মৃতি তৈরি হচ্ছে এই যাত্রায়। আশা করব, আগামী দিনে আরও ভাল কিছু হবে।” সঙ্গে সঙ্গে কোহলি বলেন, “তুইও দীর্ঘ দিন ধরে খেলতে পারবি, যদি দলকে জেতানোর লক্ষ্য নিয়ে খেলিস। শুধু পরিসংখ্যানের জন্য দীর্ঘ দিন খেলা যায় না। শুধু পরিসংখ্যানের দিকে তাকিয়ে খেললে আসল লক্ষ্যের সঙ্গে আপোস করতে হয়। ও ভাবে দীর্ঘ দিন টিকে থাকা যায় না।” কোহলি আরও বলেন, “আমি ভাগ্যবান যে, দীর্ঘ দিন ধরে খেলতে পারছি। সে জন্যই এই পরিসংখ্যান তৈরি হয়েছে। এমন একটা মাইলফলক স্পর্শ করার দিন দলও জিতল। তাই বেশি ভাল লাগছে।”
একসঙ্গে ব্যাট করার সময় কী কথা হয় আপনাদের মধ্যে? কোহলি বলেন, “আমরা ম্যাচ নিয়ে খুব একটা কথা বলি না। এটা-ওটা নিয়ে কথা হতে থাকে। কারণ আমাদের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমরা বুঝি কখন, কী করা দরকার। তবে শুভমন মেরে খেলার চেষ্টা করলে কখনও কখনও হয়তো সতর্ক করে দিই। এমনি মাঠে নানা কথা হয়। ফিল্ডিংয়ের সময় আমরা খেলা নিয়ে কথা বলি।” সিনিয়র ক্রিকেটার হিসাবে শুভমনকে যতটা পারেন সাহায্য করার চেষ্টা করেন কোহলি। তিনি বলেন, “অধিনায়কেরও অনেক সময় পরামর্শের প্রয়োজন হয়। কিছু পরিস্থিতিতে একা সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়। কিন্তু ব্যাটিং আলাদা। তখন খেলা নিয়ে বেশি কথা হয় না। ওকে খুব বেশি কিছু বলার দরকারও হয় না। শুভমন জানে কী করা উচিত। তা ছাড়া ও অত্যন্ত দক্ষ ব্যাটার।”