ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া দু’দেশেরই প্রস্তাব ছিল। নিজের দেশকেই বেছে নিলেন মাইকেল হাসি। স্থায়ী চাকরির পরিবর্তে বেছে নিলেন অস্থায়ী কাজ। হাসির সিদ্ধান্তে সমস্যায় পড়তে পারেন ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের কোচ স্টিফেন ফ্লেমিং। তবে লাভ হতে পারে ধোনির চেন্নাইয়ের।
অ্যাশেজ় সিরিজ়ের প্রস্তুতির জন্য হাসির সাহায্য চেয়েছিল ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) এবং ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। ইংল্যান্ডের প্রস্তাব ছিল টেস্ট দলের ব্যাটিং কোচ হওয়ার। সিএ অস্থায়ী পরামর্শদাতা হওয়ার প্রস্তাব দেয় হাসিকে। ইংল্যান্ডের একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন ক্রিকেটার বেছে নিয়েছেন অস্থায়ী দায়িত্ব। কাজের সময় নমনীয় হওয়ায় পরামর্শদাতার কাজ বেছে নিয়েছেন। এ জন্য তাঁকে সব সময় দলের সঙ্গে থাকতে হবে না। পরিবারের সঙ্গে যেমন সময় কাটাতে পারবেন, তেমনই অন্য কাজও করতে পারবেন। ‘দ্য হান্ড্রেড’-এর পাশাপাশি ধারাভাষ্যকার হিসাবেও কাজ করতে পারবেন ৫১ বছরের প্রাক্তন ক্রিকেটার। আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংস শিবিরেও তাঁকে দেখা যেতে পারে।
অ্যাশেজ় সিরিজ়ের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার কাছে। এই সিরিজ় হারতে চায় না কোনও দেশই। প্রস্তুতিতে কোনও ফাঁক রাখতে চায় না কোনও পক্ষ। ব্রেন্ডন ম্যাকালাম দায়িত্ব ছাড়ার পর ইংল্যান্ড টেস্ট দলের কোচ করেছে ফ্লেমিংকে। তিনি দীর্ঘ দিন আইপিএলের দল চেন্নাই সুপার কিংসের কোচ ছিলেন। চেন্নাইয়ে তাঁর অন্যতম সহকারী ছিলেন হাসি। মহেন্দ্র সিংহ ধোনিদের ব্যাটিং কোচ ছিলেন তিনি। ফ্লেমিংয়ের পরামর্শে ইসিবি হাসিকে ব্যাটিং কোচ হওয়ার প্রস্তাব দেয়। চেন্নাইয়ে একসঙ্গে ১৮ বছর কাজ করার সূত্রে ফ্লেমিংয়ের সঙ্গে হাসির সুসম্পর্ক, বোঝাপড়া রয়েছে। দু’জনে পরস্পরের কাজের ধরন জানেন। অ্যাশেজ়ের আগে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন ইংল্যান্ডের ক্রিকেট কর্তারা।
ইংল্যান্ডের পরিকল্পনায় জল ঢালতে আসরে নামে অস্ট্রেলিয়াও। হাসিকে পরামর্শদাতা হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। দীর্ঘ দিন একসঙ্গে কাজ করার সুবাদে ফ্লেমিংয়ের কোচিং পদ্ধতি, ক্রিকেটীয় ভাবনা, পরিকল্পনার ধরন জানেন হাসি। তাঁর পরামর্শ পেলে অ্যাশেজ়ের প্রস্তুতি আরও ভাল ভাবে নেওয়া যেতে পারে। ইংল্যান্ডের কাজ কঠিন করে দেওয়া যেতে পারে।
আরও পড়ুন:
ইংল্যান্ডের ওই সংবাদমাধ্যমের দাবি, হাসির সিদ্ধান্তে ফ্লেমিং হতাশ। তাঁকে নতুন সহযোগী খুঁজে নিতে হবে। অ্যাশেজ় নিয়ে ফ্লেমিংয়ের আবেগ হয়তো নেই। হাসির আছে। সম্ভবত সে কারণেই ২০২৭ সালের অ্যাশেজ়ের আগে স্থায়ী চাকরি ছেড়ে অস্থায়ী কাজকেই বেছে নিয়েছেন হাসি।