ভারতীয় ক্রিকেটে অন্য এক সমস্যা দেখা দিয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ও বেঙ্গালুরুর উৎকর্ষ কেন্দ্রের (সেন্টার অফ এক্সেলেন্স) মধ্যে বোঝাপড়ার অভাব দেখা গিয়েছে। সেই কারণেই ক্রিকেটারেরা বার বার চোট পাচ্ছেন বলে খবর।
‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’ জানিয়েছে, বোর্ডের স্পোর্টস সায়েন্স অ্যান্ড মেডিসিন (এসএসএম) দলের সঙ্গে উৎকর্ষ কেন্দ্রের স্পোর্টস সায়েন্স অ্যান্ড মেডিসিন দলের কোনও যোগাযোগই নেই। দু’জায়গার চিকিৎসকেরা ক্রিকেটারদের সুস্থ করে তোলার জন্য ভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। তাতে সমস্যা বাড়ছে।
জানা গিয়েছে, এই দুই দলের মধ্যে একমাত্র যোগসূত্র ছিলেন ভিভিএস লক্ষ্মণ। তিনিই এক দিন বোর্ড ও উৎকর্ষ কেন্দ্রের মধ্যে তথ্যের আদানপ্রদান করতেন। ২০২৫ সালের জুন মাসে কিছু পরামর্শ দিয়েছিলেন বোর্ডের স্ট্রেংথ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ আদ্রিয়ান লি রু। কিন্তু উৎকর্ষ কেন্দ্র নিজেদের অবস্থান থেকে সরতে নারাজ। ২০২৫ সালে মার্চ মাসে নীতিন পটেলের পদত্যাগের পর উৎকর্ষ কেন্দ্রের স্পোর্টস সায়েন্স অ্যান্ড মেডিসিন দলের কোনও মাথা নেই।
রিপোর্টে জানানো হয়েছে, লক্ষ্মণের সঙ্গে মাঝে বোর্ডের প্রাক্তন নির্বাচক প্রধান অজিত আগরকরের বিবাদ হয়েছিল। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ করেছিল। বোর্ডের শেষ বৈঠকেও লক্ষ্মণ ও আগরকরের বিবাদ হত। কিন্তু সেই বৈঠকে আগরকর আসেননি। প্রধান নির্বাচকের পদ থেকে আগরকরকে সরানোর নেপথ্যে এটিও একটি বড় কারণ।
আরও পড়ুন:
এর ফলে সমস্যায় পড়েছেন ক্রিকেটারেরা। হার্দিক পাণ্ড্য, জসপ্রীত বুমরাহ, হর্ষিত রানা, ওয়াশিংটন সুন্দরের বার বার চোটে পড়ছেন। বোর্ডের সঙ্গে উৎকর্ষ কেন্দ্রের স্পোর্টস সায়েন্স অ্যান্ড মেডিসিন দলের যোগাযোগ না থাকার কারণেই ক্রিকেটারদের সুস্থ হতে সময় লাগছে বলে খবর।
২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে মোট ৩২ জন ভারতীয় ক্রিকেটার চোট সারাতে উৎকর্ষ কেন্দ্রে গিয়েছেন। এই সংখ্যা উদ্বেগজনক। উৎকর্ষ কেন্দ্রে ক্রিকেটারদের সুস্থতার জন্য আগে বছরে ৯২ কোটি টাকা দিত বোর্ড। তা বাড়িয়ে ১২৭ কোটি টাকা করা হয়েছে। তার পরেও এই সমস্যা মিটছে না। দুই তরফে ভিন্ন মতের খেসারত দিতে হচ্ছে ক্রিকেটারদের।