এ রকম যে খেলা হবে তা ম্যাচ শুরুর আগেও বোঝা যায়নি। ক্রিকেটে দুধের শিশু জাপানকে হারাতেও কালঘাম ছুটল ভারতের। মাত্র ২ রানে জিতলেন শ্রেয়স আয়ারেরা। মাঠ ভিজে থাকায় ৫ ওভার করে খেলা হয়। প্রথমে ব্যাট করে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩২ রান করে ভারত। জবাবে ৩ উইকেট হারিয়ে ৩০ রান করে জাপান।
সানোর মাঠে ভারত-জাপান ম্যাচ হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছিল। সোমবার সারাদিন বৃষ্টি হয়। ফলে মাঠ ভিজে ছিল। সেই কারণে মঙ্গলবার নির্ধারিত সময়ে খেলা শুরু হয়নি। বার বার আম্পায়ারেরা মাঠ পরিদর্শন করছিলেন। কিন্তু সন্তুষ্ট হতে পারছিলেন না।
ভারতীয় ক্রিকেটারেরা অবশ্য ফুরফুরে মেজাজে ছিলেন। মাঠে নেমে অনুশীলন করছিলেন। দর্শকদের সঙ্গে মজা করছিলেন। অবশেষে আম্পায়ারেরা জানান, ৫ ওভার করে খেলা হবে। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন শ্রেয়স।
এই ম্যাচের আগে থেকে আলোচনা চলছিল, ভারতের ব্যাটিং আক্রমণ ছোট মাঠে কত রান করবে। কিন্তু আদতে উল্টো ছবি দেখা গেল। পিচ দেখে মনে হল পুরোপুরি তৈরি নয়। প্রথম ওভার থেকে যে পরিমাণ বল ঘুরছিল, তা অবাক করার মতো। শুধু তাই নয়, আউটফিল্ডও যথেষ্ট খারাপ অবস্থায় ছিল। বল পড়ে অসমান বাউন্স হচ্ছিল।
জাপান এই ম্যাচে তিন স্পিনারকে দিয়ে বল করায়। প্রথম বলেই শূন্য রানে আউট হন অভিষেক। কয়েক দিন আগেই আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে বিধ্বংসী ফর্মে থাকা ব্যাটার এই ম্যাচে রান পাননি।
শুধু অভিষেক নন, সঞ্জু স্যামসন (৯), ঈশান কিশন (৩) তিলক বর্মা (১), কেউ রান পাননি। বল ব্যাটেই আসছিল না। অধিনায়ক শ্রেয়স ১২ বলে ১৬ রান না করলে চাপ হত। কোনও রকমে ৩২ রান করে ভারত।
আরও পড়ুন:
জাপানের বিরুদ্ধে ভারতও তিন স্পিনার ব্যবহার করে। অক্ষর পটেলের প্রথম ওভারেই উইকেট পড়ে। বাউন্ডারি থেকে সরাসরি থ্রোয়ে দুরন্ত রান আউট করেন ঈশান। তার পরেও লড়াই থামায়নি জাপান। অপর প্রান্তে উইকেট পড়লেও অধিনায়ক কেন্ডেল কাদোয়াকি-ফ্লেমিং খেলা প্রায় শেষ পর্যন্ত নিয়ে চলে গিয়েছিলেন।
শেষ চার বলে ৫ রান দরকার ছিল। ঠিক সেই সময় নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগান অক্ষর। তাঁর দু’ওভারে আসে মাত্র ৭ রান। শেষ বলে ৪ রান দরকার ছিল। মাত্র ১ রান হয়। হাঁপ ছেড়ে বাঁচেন শ্রেয়সেরা। জিতে মাঠ ছাড়েন তাঁরা।
তবে এই ম্যাচের উপর নির্ভর করে কোনও ক্রিকেটারের পারফরম্যান্স বিচার করা ভুল। কারণ, পিচ ও মাঠের যা পরিস্থিতি ছিল, তাতে ভারতীয় ক্রিকেটারদের দেখে বোঝা যাচ্ছিল, চোট বাঁচিয়ে খেলছেন। সামনেই এশিয়ান গেমসে নামবেন শ্রেয়সেরা। সেই কথা মাথায় রেখেই খেলেন তাঁরা।