ওয়েস্ট ইন্ডিজ় ৪০৫ রান তুলেও জিততে পারল না। বিরাট কোহলি রান পেলেন না। তা-ও ৩৯ বল বাকি থাকতেই ভারত জিতল ৮ উইকেটে। এক দিনের ক্রিকেটে দ্বিতীয় দ্বিশতরান করে ফেললেন শুভমন গিল। ৩৫তম শতরান করলেন রোহিত শর্মাও। তাতেই ৪০৬ রানের লক্ষ্যে ৪৩.৩ ওভারে পৌঁছে গেল ভারত। তিন ম্যাচের এক দিনের সিরিজ়ও জিতে নিলেন শুভমনেরা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ইনিংস ৪০৫ রানে শেষ হওয়ার পর ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশ ভেবেছিলেন, গুয়াহাটিতে ভারতের জেতা কঠিন হবে। অথচ আপাত কঠিন কাজকেই সহজ করে দিলেন শুভমন-রোহিত। ওপেন করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বোলারদের দিশাহারা করে রান তুলতে শুরু করেন তাঁরা। তাঁদের ওপেনিং জুটিতে ওঠে ২৬.২ ওভারে ২৫৫ রান। রোহিত করলেন ৭৫ বলে ১০১। মারলেন ১০টি চার এবং ৬টি ছক্কা। প্রথম ম্যাচে কোহলির শতরানের পর দ্বিতীয় ম্যাচেই রোহিত ৭২ বলে শতরান করে বুঝিয়ে দিলেন আগামী বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় তাঁকে না রাখা ভুল হবে। বুধবার এক দিনের ক্রিকেটে ১২ হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করলেন রোহিত। ভেঙে দিলেন সচিন তেন্ডুলকরের রেকর্ড। এক দিনের ক্রিকেটে ৩০০তম ইনিংসে ১২ হাজার রান পূর্ণ করেছিলেন সচিন। রোহিত করলেন ২৮২তম ইনিংসে। তবে কোহলি ২৪২টি ইনিংসে ১২ হাজার রান পূর্ণ করেছিলেন। এই মাইলফলক ছোঁয়ার ক্ষেত্রে রোহিত হলেন দ্বিতীয় দ্রুততম।
শুরুতে বেশি আগ্রাসী ছিলেন রোহিত। পরে রান তোলার গতি বাড়ান শুভমনও। এক দিনের ক্রিকেটে দ্রুততম দ্বিশতরান করলেন ভারতীয় দলের অধিনায়ক। ৬২ বলে শতরান পূর্ণ করার পর ১১৭ বলে দ্বিশতরান পূর্ণ করেন। এ ক্ষেত্রে রোহিতের নজির ছুঁলেন তিনি। বিশ্বের দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে এক দিনের ক্রিকেটে একাধিক দ্বিশতরান করলেন শুভমন। দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেন শুভমন। শেষ পর্যন্ত তাঁর ব্যাট থেকে এল ১৩৩ বলে ২২৩ রানের অপরাজিত ইনিংস। ২৬টি চার এবং ৮টি ছয় মারলেন। টানা দু’ম্যাচে শতরান করলেন শুভমন। এক দিনের ক্রিকেটে তাঁর শতরানের সংখ্যা হল ১১। সহজ পিচেও রান পেলেন না কোহলি। ১৯ বলে ২৯ রান করে আউট হয়ে গেলেন। ৩৭ বলে ৩১ রান করে অপরাজিত থাকলেন রুতুরাজ গায়কোয়াড়।
টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন শুভমন। গুয়াহাটির ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ব্যাটারেরা। ওপেনার কেসি কার্টি (৯) রান না পেলেও অন্য ওপেনার জন ক্যাম্পবেল এবং তিন নম্বরে নামা অধিনায়ক শাই হোপ দ্রুত রান তুলতে শুরু করেন। দু’জনেই শতরান করলেন। ক্যাম্পবেল ৬৮ বলে ৯টি চার এবং ৫টি ছয়ের সাহায্যে ১০১ রানের ইনিংস খেললেন। হোপ করলেন ৯৪ বলে ১০৪। মারলেন ৮টি চার এবং ৩টি ছক্কা। দ্বিতীয় উইকেটের জুটিতে তাঁরা তোলেন ১১০ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের হয়ে চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে শতরান করলেন আমির জাঙ্গোও। তাঁর ৭৭ বলে ১১৪ রানের ইনিংসে রয়েছে ১৩টি চার এবং তিনটি ছয়। এ ছাড়া রোস্টন চেজ ২৫ বলে ২৯ রান করে অপরাজিত থাকেন। শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে ৪০৫ রান তোলেন সফরকারীরা।
আরও পড়ুন:
ক্যারিবিয়ান ব্যাটারদের সামনে অসহায় দেখিয়েছে ভারতীয় বোলারদের। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বোলারদের অবস্থা ছিল আরও খারাপ। আসলে বোলারদের কিছুই করার ছিল না। সহজ, পাটা ২২ গজে ইচ্ছা মতো রান তুলেছেন দু’দলের ব্যাটারেরা। আলজ়ারি জোসেফ ৮ ওভারে ৮৯ রান দিয়েছেন। কিমো পল ৩ ওভারে দিয়েছেন ৪৯ রান। আবার ভারতের গুরনুর ব্রার ১০ ওভারে ৯৬ রান দিয়েছেন। আকিব নবি ৮.৫ ওভারে ৮৪ রান খরচ করেছেন। এর থেকেই বোঝা যায় কতটা অসহায় ছিলেন বোলারেরা। এই ধরনের পিচ দর্শকের সাময়িক মনোরঞ্জন করতে পারে। কিন্তু ক্রিকেট কতটা লাভবান হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকেই। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সচিবের শহরে আরও একটু ভারসাম্যযুক্ত ২২ গজ আশা করাই যায়।