Advertisement
E-Paper

‘হয়তো ভারতের হয়ে না-ও খেলতে পারতাম’, ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে শতরান করে বললেন কোহলি, নিস্পৃহ সচিনের রেকর্ড ভেঙেও

ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে প্রথম এক দিনের ম্যাচেই চেনা ছন্দে দেখা গিয়েছে তাঁকে। শতরান করে জিতিয়েছেন দলকে। দলকে জেতানোর মতো দার্শনিক ভঙ্গিতে জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেছেন বিরাট কোহলি।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২:৪৯
cricket

শতরানের পর বিরাট কোহলি। ছবি: সমাজমাধ্যম।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে প্রথম এক দিনের ম্যাচেই চেনা ছন্দে দেখা গিয়েছে তাঁকে। শতরান করে জিতিয়েছেন দলকে। সাফল্যের পুরো কৃতিত্ব নিজের মানসিকতাকেই দিয়েছেন বিরাট কোহলি। তাঁর দাবি, যা পেয়েছেন তার জন্য তিনি আপ্লুত। ভারতের হয়ে খেলতে পারার জন্য তিনি গর্বিত। সচিন তেন্ডুলকরের নজির ভেঙেও নিস্পৃহ কোহলি। পাশাপাশি পরামর্শ দিয়েছেন তরুণ ক্রিকেটারদেরও।

কোহলিকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, জীবনের এই পর্যায়ে এসে কেমন মানসিকতা নিয়ে খেলতে নামেন তিনি? কোহলি বলেন, “আমি স্রেফ কৃতজ্ঞ এবং খুশি। আমাদের শুধু পিছন ফিরে দেখতে হবে যে কোথা থেকে এসেছি। যে খ্যাতি আমরা পাই এবং সমর্থকেরা আমাদের যে ভাবে ভালবাসেন তাতে আমরা নিজেদের উত্থানের কথাটাই ভুলে যাই। কোথা থেকে এসেছেন সেটা ভোলা খুব সহজ। কিন্তু ছোটবেলা থেকে উঠে আসা পথটার দিকে তাকালে কৃতজ্ঞতাবোধ আসবেই। এমনও হতে পারত যে আমি হয়তো এখানে না-ই দাঁড়িয়ে থাকতে পারতাম। হয়তো ভারতের হয়ে কোনও দিন খেলতেই পারতাম না। কিন্তু দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে এত অবিশ্বাস্য মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে পারছি। এত মানুষের সামনে দলের হয়ে নিজের অবদান রাখতে পারছি। এই স্বপ্নটাই তো দেখেছিলাম। হৃদয় থেকে কৃতজ্ঞতা জানানো ছাড়া আর কিছু বলার নেই। মাথা নিচু করে নিজের কাজ করা ছাড়া, নিজে হেসে অন্যকে হাসানোর সুযোগ করে দেওয়া ছাড়া আর কিছু বলার নেই।”

ভারতের হয়ে শুধু ৫০ ওভারের ক্রিকেটই খেলেন তিনি। গত ১১টি ম্যাচে চারটি শতরান হয়ে গিয়েছে এই ফরম্যাটে। রয়েছে পাঁচটি অর্ধশতরান। কী ভাবে এতটা ধারাবাহিক থাকতে পারেন? কোহলির জবাব, “সবার আগে খেলাটাকে বোঝার চেষ্টা করি। নিজেকে ফিট রাখার চেষ্টা করি। কারণ আসল খেলাটা হয় মনে। আমি কখনওই খুব বেশি অনুশীলন করি না। তিন ফরম্যাটে খেলার সময় থেকেই এটা বজায় রেখেছি। মানসিক ভাবে তরতাজা থাকাই আমার কাছে আসল। বর্তমানে বাঁচতে ভালবাসি এবং মাঠে নেমে নির্দিষ্ট ভাবে নিজের কাজটা করতে পছন্দ করি। জীবনের এই পর্যায়ে নিজের খেলার ধরনকে একটা বা দুটো গিয়ার এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। এই পর্যায়ে নতুন কোনও আঙ্গিকে নিজেকে পেশ করতে পারলে ভালই লাগে। আইপিএলে খেলি বা ভারতের হয়ে, এতে দলেরই উপকার হয়। অনেক মুক্তমনে খেলতে পারি। শরীরকেও ঠিক রাখি। আগে থেকে কল্পনা করে নিই কী ভাবে খেলব। মাঠে নেমে সেটাই কাজে লাগানোর চেষ্টা করি।”

পরের বছর বিশ্বকাপে খেলা যে তাঁর লক্ষ্য তা এ দিন আবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন কোহলি। জানিয়েছেন, তাঁর মনে যথেষ্ট স্বচ্ছতা রয়েছে। খেলার বিভিন্ন দিক নিয়ে তিনি আরও পরিশ্রম করতে এবং নিজেকে ফিট রাখতে চান। বলেছেন, “শেষ ১৫ ওভার যাতে এই বাউন্ডারি থেকে ওই বাউন্ডারি পর্যন্ত দৌড়তে পারি সেই চেষ্টা করি। বৃত্তের মধ্যে ফিল্ডিং করি। যতগুলো বিষয় ঠিক রাখার দরকার, সেটা ঠিক রাখি। এখনও এই ফরম্যাটে কিছুটা খেলা বাকি রয়েছে আমার। তাই প্রতিটা দিন উপভোগ করতে চাই। সুযোগ পেলে চাপে থাকা বদলে সেটা ভাল করে কাজে লাগানোর চেষ্টা করি। নিজেকে নিজের মতো করে তুলে ধরি। নিজেকেই নিজে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যে, ইতিবাচক ভাবে ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করব, তবে বেপরোয়া হব না। পেশাদার এবং অভিজ্ঞ ক্রিকেটার হিসাবে বেপরোয়া শট না খেলে দলকে জেতানোই আমার কাজ।”

এ দিন সচিনের থেকে ৭২টি ম্যাচ কম খেলে এক দিনের ক্রিকেটে ১৫ হাজার রান পার করেছেন কোহলি। তবে আগের মতো এ বারও তিনি নজির নিয়ে বিশেষ ভাবিত নন। বলেছেন, “কখনওই মাইলফলকের কথা ভেবে খেলি না। পরিস্থিতি বুঝে দলকে সাহায্য করাই আমার দায়িত্ব। তাতে কিছু কিছু জিনিস অর্জন করা যায়। এত দিন ধরে খেলতে পারার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। মাথা নিচু করে কঠোর পরিশ্রম করি এবং যা অর্জন করেছি তার জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাই। সুযোগ কাজে লাগিয়েই আজ এই জায়গায় পৌঁছতে পেরেছি। অনেকেই এই জায়গায় আসতে চায়। ভাগ্যবানেরাই পৌঁছতে পারে। তাই মাটির কাছাকাছি থাকা খুব দরকার।”

তরুণ ক্রিকেটারদের উদ্দেশে পরামর্শও দিয়েছেন কোহলি। বলেছেন, “যদি এই ম্যাচের পর সব শেষও হয়ে যায়, তা হলে যেন এই তৃপ্তিটা থাকে যে, যে রকম চেয়েছি সে ভাবেই খেলতে পেরেছি। প্রতিটা ম্যাচের আগে এটা মাথায় রাখা দরকার। তা হলেই ইতিবাচক ক্রিকেট বেরিয়ে আসবে। দলকে জেতানোর মানসিকতা তৈরি হয়ে যাবে। তরুণদের বলব, মাঠের বাইরের জিনিসে বেশি কান দিয়ো না। মাঠে ঢোকার পর, সেটাই যেন তোমার সব কিছু হয়ে যায়। দলের জন্য জীবন দিতে হবে। দরকারে ১৫০ রানে ব্যাট করার সময় দলের প্রয়োজনে এক ওভারে চার বার দৌড়ে দু’রান নিতে হবে। কোনও অজুহাত দিলে চলবে না। সেটা পারলেই সব ঠিক থাকবে।”

একদম শেষে শুভমন গিলের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন কোহলি। জানিয়েছেন, যোগ্য অধিনায়ক হিসাবে দলে নিজের জায়গা প্রতিষ্ঠিত করেছেন পঞ্জাবের ক্রিকেটার। কোহলির কথায়, “দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে ওর। একটা ম্যাচকে বিভিন্ন আঙ্গিক থেকে দেখতে পারে। এ রকম ছেলের সঙ্গে খেলতে নামলে বড় জুটি গড়া অস্বাভাবিক নয়। কারণ সে জানে ঠিক কী করতে হবে। অভিজ্ঞতার দিক থেকে আমরা এটা আলোচনা করতে পারি যে কোন জায়গা দিয়ে শট মারব। কিন্তু শুভমন এখন এক দিনের ক্রিকেটে বিশ্বের সেরা ব্যাটার। ওকে নিয়ে আলাদা করে আর কী-ই বলব।”

Virat Kohli India Vs West Indies Shubman Gill BCCI

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy