পর পর দু’বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। শ্রেয়স আয়ারের দলের পারফরম্যান্স দেখে অবশ্য বোঝার উপায় নেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভারতের খারাপ বোলিং এবং ততোধিক জঘন্য ফিল্ডিং হতাশা ছাড়া কিছুই দিতে পারল না ক্রিকেটপ্রেমীদের। ব্যাট হাতেও আত্মসমর্পণ করলেন শ্রেয়সেরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ৩ উইকটে ২৪৭ রানের জবাবে ভারতের ইনিংস শেষ হল ১৯.৩ ওভারে ৯ উইকেটে ২২৩ রানে। চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ ২৪ রানে জিতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ়ে সমতা ফেরালেন শাই হোপেরা।
ময়ঙ্ক যাদব কেন খেলছেন, তা একমাত্র কোচ গৌতম গম্ভীরই জানেন। বলের গতি ছাড়া কিছুই নেই। ময়ঙ্কের বোলিং দেখে মনে হয়েছে লাইন, লেংথের পাঠ এখনও শেষ হয়নি। হতাশ করলেন আরশদীপ সিংহও। একই অবস্থা নমন ধীর, অক্ষর পটেল, নীতীশ রেড্ডিদেরও। ভারতীয় ক্রিকেটারেরা পাল্লা দিয়ে সহজ ক্যাচ ফেলার প্রদর্শনীও দেখালেন হায়দরাবাদের ম্যাচে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ় ইনিংসের শেষ বলে শতরান উপহার দিলেন হোপকে!
টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন শ্রেয়স। সতীর্থদের জঘন্য ক্রিকেট তাঁকে দিশেহারা করে দিল। ফর্মে থাকা হোপ বা শারফেন রাদারফোর্ডকে আটকানোর কোনও পরিকল্পনা দেখা যায়নি শ্রেয়সের নেতৃত্বেও। অপরাজিত শতরান করলেন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক। হোপের ৫০ বলে ১০২ রানের ইনিংসের সামনে ময়ঙ্ক, নমনদের ক্লাব স্তরের থেকেও খারাপ দেখাল। ৪টি চার এবং ৯টি ছয় মারলেন হোপ। ভারতীয় বোলিংকে নিয়ে ছেলেখেলা করলেন রাদারফোর্ড, শিমরন হেটমেয়ারও। রাদারফোর্ড অপরাজিত থাকলেন ২৬ বলে ৪৯ রান করে। মারলেন ৪টি চার এবং ৩টি ছক্কা। হেটমেয়ারের ব্যাট থেকে এল ১২ বলে ৩৩ রানের ইনিংস। যাতে রয়েছে ৪টি চার এবং ২টি ছয়। এ ছাড়া জুয়েল অ্যান্ড্রু ১৬ বলে ২১ এবং রভম্যান পাওয়েল ১৭ বলে ২৪ রান করেন।
ময়ঙ্ক এবং অর্শদীপ দু’জনেই ৪ ওভারে দিলেন ৫২ রান করে। মন্দের ভাল অর্শদীপ একটি উইকেট পেয়েছেন। অক্ষর ৪ ওভারে ৪৫ রান দিয়ে ১ উইকেট পেলেন। নমন ১ ওভারে খরচ করলেন ১৯ রান। নীতীশের ৩ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ় তুলল ৩৯ রান। প্রিন্স যাদবের ৩৬ রানে ১ উইকেট। হায়দরাবাদের ২২ গজ নিঃসন্দেহে ব্যাটিং সহায়ক। তাই বলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিং ব্যর্থতা ঢাকতে প্রতি ম্যাচে ব্যাটিং সহায়ক পিচকে ঢাল বানানো যায় না। প্রতি ম্যাচে বোলারদের হরির লুটের মতো রান বিতরণের পর পিচের দোষ ধরে কি রেহাই পেতে পারেন কোচ? সে গম্ভীর যতই বলুন বোলারদের ক্রিকেটজীবনকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। কোচের কাজ কি শুধু অন্যদের ভুল ধরা? বুধবারের ম্যাচ এই প্রশ্ন তুলে দিল।
জয়ের জন্য ২৪৮ রান তাড়া করতে নেমে ভাল শুরু করেন সঞ্জু স্যামসন। তিনি ২৩ বলে ৫৬ রান করেন ৬টি চার এবং ৪টি ছয়ের সাহায্যে। তিন নম্বরে নেমে ঈশান কিশান (৬) উইকেট ছুড়ে দিলেন। একই ওভারে সঞ্জু এবং ঈশানকে আউট করে ধাক্কা দেন কেমো পল। ৬৭ রানে ২ উইকেট হারানোর পর অভিষেক শর্মা, শ্রেয়স আয়ার চেষ্টা করলেন। তবে তাঁদের ব্যাটিং দেখে মনে হয়নি ক্যারিবিয়ানদের জন্য ব্যাটিং সহায়ক পিচ সাজিয়ে দেওয়া হয়ে ছিল! শ্রেয়স আউট হলেন ১১ বলে ১৬ রান করে। কোচ গম্ভীরের জন্মদিনে ব্যাট হাতে আর একটু দায়িত্বশীল হতে পারতেন অধিনায়ক। অভিষেক চেষ্টা করলেও চেনা মেজাজে দেখা যায়নি। পাওয়ার প্লেতে ব্যাট করার তেমন সুযোগ পাননি বলে হয়তো স্বাভাবিক খেলা খেলতে পারলেন না। ২৪ বলে ২৯ রান করলেন তিনি। সহ-অধিনায়ক তিলক বর্মাও শুরু করলেন ঠুকঠুক করে। অথচ তখন ওভার প্রতি প্রয়োজন ছিল ১৫ রানের বেশি। ব্যাট হাতেও হতাশ করলেন নমন। অভিষেক এবং নমনকে একই ওভারে আউট করে ভারতকে আরও চাপে ফেলে দেন গুডাকেশ মোতি।
বোলিং, ফিল্ডিংয়ে জঘন্য পারফরম্যান্সের পর ব্যাট হাতে এক রকম আত্মসমর্পণ করলেন বিশ্বচ্যাম্পিয়নেরা। শেষ দিকে তিলক এবং নীতীশ মরিয়া চেষ্টা করলেন। কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচের রাশ চলে গিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের হাতে। তিলক করলেন ২৫ বলে ৪৩। মারলেন ২টি চার এবং ৩টি ছয়। নীতীশের ব্যাট থেকে এল ২০ বলে ৪১ রান। ১টি চার এবং ৪টি ছক্কা মারলেন। তিলকেরা যে সম্ভাবনা তৈরি করেছিলেন, তা শেষ করে দিলেন অক্ষর (৩)। প্রিন্স (০), অর্শদীপ (৫), ময়ঙ্কেরা (০) ব্যাট হাতে নামলেন নিয়ম রক্ষার্থে। অর্শদীপ সামার যোসেফের বলে আহত হওয়ার পর আর ব্যাট করতে পারেননি। ফলে পুরো ২০ ওভার ব্যাটও করতে পারল না ভারত।
আরও পড়ুন:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের সফলতম বোলার পল ৪১ রানে ৫ উইকেট নিলেন। ভারতের ইনিংসের ১৯তম ওভারে ৩ উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের জয় নিশ্চিত করে দেন পল। ৪০ রানে ১ উইকেট শামার স্প্রিংগারের। ১৩ রানে ২ উইকেট মোতির। ৩২ রান দিয়ে ১ উইকেট নিলেন রোমারিয়ো শেফার্ড।