ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে নামার আগেই কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল বেতন। এই পরিস্থিতিতে যে কোনও দেশের ক্রিকেটারদের হতাশ হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ক্রিকেটারেরা ভারতের মাটিতে ভারতের বিরুদ্ধে সমানে সমানে লড়াই করেছে। এক দিনের সিরিজ় ১-২ হারার পর টি-টোয়েন্টি সিরিজ় এখনও ২-২। দলের ছেলেদের লড়াইয়ের প্রশংসা করলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি।
শনিবার বেঙ্গালুরুতে টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ের শেষ ম্যাচ খেলতে নামবে ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। তার আগে সাংবাদিক বৈঠকে স্যামি বলেন, “আমাদের কাছে সাফল্যের সংজ্ঞা আলাদা। বাকিদের সঙ্গে তা না-ও মিলতে পারে। গত ২০ বছরে ভারতের মাটিতে এই প্রথম দুটোর বেশি ম্যাচ জিতেছি। যে খেলাটা আমরা খেলেছি তা বড় বার্তা দিয়েছে।”
বেঙ্গালুরুতে জিতলে পর পর দু’বারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ঘরের মাঠে হারাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। সেই বিশ্বাস রয়েছে স্যামির। তিনি হলেন, “সব রকম প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে আমরা লড়েছি। বিশ্বের সেরা টি-টোয়েন্টি দল, দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারানোর সুযোগ রয়েছে। এই সাফল্য কম কিসের।”
কঠিন সময়েও দেশের সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাতে তাঁরা খেলেছেন বলে জানিয়েছেন স্যামি। ক্যারিবীয় কোচ বলেন, “সিরিজ় শুরুর আগেই বেতন কমিয়ে দেওয়া হল। তা-ও আমরা লড়াই করেছি। দেশের সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করেছি। আমাদের কতটা লড়তে হয়েছে তা আমরাই জানি। আর কেউ সেটা বুঝতেও পারবে না।”
আরও পড়ুন:
কঠিন সময়ে দলের ছেলেদের কী বার্তা দিয়েছিলেন স্যামি? বার্তা নয়, বিশ্বাস ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। স্যামি বলেন, “আমার কাজ ছেলেদের পাশে থাকা। কখনও আপনি ভাল খেলবেন। কখনও খারাপ। এই সিরিজ়েই সেটা দেখা গিয়েছে। কিন্তু আমি সবসময় ওদের বলেছি, নিজের উপর বিশ্বাস রাখতে। উপভোগ করতে। ওরা সেটা করেছে। তার ফল দেখা যাচ্ছে।”
ভারতের বিরুদ্ধে নামার আগেই ক্রিকেটারদের ধরে রাখার মূল্য বা ‘রিটেনার ফি’ ২৫ শতাংশ কমিয়ে দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ় ক্রিকেট বোর্ড। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের সঙ্গে ১২ মাসের চুক্তিই করা হচ্ছে। কিন্তু যে অর্থ তাঁরা পেতন তা ২৫ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘরোয়া ক্রিকেটারদের অবস্থা আরও খারাপ। তাঁদের সঙ্গে এক বছরের নয়, সাত মাসের চুক্তি করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতেও যে লড়াই ওয়েস্ট ইন্ডিজ় করেছে তার প্রশংসা করেছেন স্যামি।