যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ব্রাজ়িল-ভারত মুখোমুখি হবে ৩ অক্টোবর। এই প্রীতি ম্যাচের জন্য ভারত নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে আসিয়ান কাপ থেকে। পিছিয়ে যেতে পারে আইএসএলও। তাই ক্ষুব্ধ ভাইচুং ভুটিয়া ব্রাজ়িল ম্যাচ বয়কটের ডাক দিয়েছেন। ভারতের প্রাক্তন অধিনায়কের ক্ষোভের কথা পৌঁছেছে ব্রাজ়িলের ফুটবল কর্তাদের কানেও। তার প্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছেন তাঁরা।
প্রথম বার ভারতে খেলতে আসছে ব্রাজ়িল। এই ম্যাচ ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উন্মাদনা তৈরি হলেও খুশি নন ভাইচুং। তাঁর মতে, এ সব করে ভারতীয় ফুটবলের কোনও লাভ হবে না। বরং দেশের ফুটবল আরও পিছিয়ে যাবে। একটি প্রীতি ম্যাচের জন্য ফিফার প্রতিযোগিতা থেকে নাম তুলে নেওয়া যুক্তিহীন। ব্রাজ়িলের ফুটবল কর্তারা এ সব নিয়ে চিন্তিত নন। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে ব্রাজ়িল ফুটবল কনফেডারেশনের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি বলেছেন, ভারতে যে সব জল্পনা বা কথাবার্তা চলছে, সে সব নিয়ে ব্রাজ়িলের ফুটবল কর্তারা একটুও চিন্তিত নন। ভারতের প্রতিযোগিতা থেকে নাম তুলে নেওয়ার বিষয়টিও তাঁদের জানা নেই। ভারতের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনায় কোনও পরিবর্তন করা হচ্ছে না।
গত বৃহস্পতিবার ব্রাজ়িল পাঁচ জনের একটি প্রতিনিধিদলকে যুবভারতী পরিদর্শনের জন্য পাঠিয়েছিল। তারা স্টেডিয়াম, সাজঘর-সহ বিভিন্ন পরিকাঠামো, মাঠ, ঘাসের মান সব কিছু খতিয়ে দেখেছে। কথা বলেছে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সবাপতি কল্যাণ চৌবে, রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ, আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত-সহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে। ব্রাজ়িলের প্রতিনিধিরা কিছু রদবদলের পরামর্শ দিয়ে গিয়েছেন। ঠিকমতো কাজ হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে আবার পরিদর্শনে আসবেন তাঁরা।
অন্য দিকে, ব্রাজ়িলের ফুটবল দলের কোঅর্ডিনেটর রদ্রিগো কাতানো বলেছেন, ‘‘আমরা একটি ম্যাচ খেলব অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে ছিটকে গেলেও ওরা দারুণ উন্নতি করেছে। ভারতের বিরুদ্ধে খেলার একটা কৌশলগত দিক রয়েছে। ভারতের মানুষের প্রতি আমাদের একটা কৃতজ্ঞতা রয়েছে। বিশ্বকাপের সময় তাঁরা আমাদের প্রচুর সমর্থন করেছিলেন। ব্রাজ়িলের জন্য আলাদা ভালবাসা রয়েছে ভারতের ফুটবলপ্রেমীদের। তাঁদের ধন্যবাদ জানাতেই আমরা খেলতে যাব। আমরা ভাল পারফরম্যান্স উপহার দিতে চাই তাঁদের।
আরও পড়ুন:
অক্টোবরে তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে পারে ভারত। ৩ অক্টোবর প্রতিপক্ষ ব্রাজ়িল। দ্বিতীয় ম্যাচটি হতে পারে গত বিশ্বকাপের চমক কাবো ভার্দের সঙ্গে। তৃতীয় ম্যাচের প্রতিপক্ষ এখনও ঠিক হয়নি। শোনা যাচ্ছে, শুধু ব্রাজ়িল ম্যাচ আয়োজন করতেই ৬০ থেকে ৭০ কোটি টাকা খরচ হতে পারে। অথচ আইএসএল আয়োজনের টাকা নেই ফেডারেশনের।