টানা তিন ম্যাচ জিতে দল পয়েন্ট তালিকায় সকলের উপরে থাকলেও সমালোচনার হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না পানাজিয়োটিস দিমপেরিস। তাঁর দল সাজানো থেকে পরিকল্পনা, সব কিছু নিয়েই ক্ষোভ সমর্থকদের একাংশের। সব সমালোচনার জবাব দিলেন মোহনবাগান কোচ। বৃহস্পতিবার ঘরের মাঠে ওড়িশা এফসির বিরুদ্ধে নামার আগে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার প্রতিশ্রুতি দিলেন পানোস।
পঞ্জাবের বিরুদ্ধে খেলার সময় হাঁটুতে চোট পান বাগানের নির্ভরযোগ্য ফুটবলার সাহাল আব্দুল সামাদ। চোটের কারণে ওড়িশার বিরুদ্ধে খেলতে পারবেন না তিনি। সাহালকে ট্যাকল্ করলেও প্রতিপক্ষ ফুটবলার কোনও কার্ড দেখেননি। সেই কারণেই রেফারিং নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন দিমপেরিস।
মোহনবাগান কোচের মতে, এ ভাবে বার বার রেফারিরা ছাড় দিলে ফুটবলারদের চোট আরও বাড়বে। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “সাহালের হাঁটুতে বাজে ভাবে লেগেছে। তার পরেও প্রতিপক্ষ ফুটবলারকে কার্ড দেখানো হয়নি। এ ভাবে কার্ড না দেখানো হলে অতিরিক্ত ট্যাকলের প্রবণতা বাড়বে। তাতে চোটের সংখ্যাও বাড়বে। রেফারিদের উচিত, শক্ত হাতে খেলা পরিচালনা করা।”
সাহাল না থাকা অবশ্যই দলের ক্ষতি। কারণ, গোল করানোর পাশাপাশি গোল করতেও পারেন তিনি। তবে তার মাঝেই ভাল খবর বাগান জনতার জন্য। সুস্থ হয়ে উঠেছেন জেমি ম্যাকলারেন। ওড়িশার বিরুদ্ধে পরিবর্ত হিসেবে নামতে পারেন বাগানের এই অসি স্ট্রাইকার। ম্যাকলারেন যত খেলায় ফিরবেন, গোল করবেন, তত ভাল হবে বাগানের।
আগের ম্যাচে পঞ্জাবের বিরুদ্ধে খেলা শুরুর ৩ মিনিটের মাথায় পিছিয়ে পড়েছিল মোহনবাগান। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিতলেও দিমপেরিসের রক্ষণাত্মক ফুটবলের সমালোচনা হয়েছে। তিনি চান, ওড়িশার বিরুদ্ধে শুরুতে গোল খাওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে। বাগান কোচ বলেন, “প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আমাদের বেশি সতর্ক থাকতে হবে। ঘরের মাঠে শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের উপর চাপ বাড়াতে হবে। একটা গোল করতে পারলেই ওরা গোল করার জন্য খোলস ছেড়ে বেরাবে। তখন আমরা আরও সুযোগ পাব। ওড়িশা ম্যাচে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলব।”
আরও পড়ুন:
ফিনিশিংয়ে সমস্যা হচ্ছে, মেনে নিয়েছেন দিমপেরিস। সেই কারণেই পঞ্জাবের বিরুদ্ধে শেষ দিকে অজস্র সুযোগ পেয়েও গোল করতে পারেনি তাঁর দল। দিমপেরিসের মতে, আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি থাকার কারণেই ফিনিশিংয়ে সমস্যা হচ্ছে। গোলের সামনে খেলোয়াড়দের ঠান্ডা মাথায় আত্মবিশ্বাস নিয়ে শট মারার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
দৃষ্টিনন্দন ফুটবল খেলতে না পারলেও শেষ তিন ম্যাচ জিতেছে মোহনবাগান। চার ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে সকলের উপরে তারা। সেই কারণেই সমালোচকদের বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন না পানোস। তিনি টেনে এনেছেন জ়িনেদিন জ়িদান ও রিয়াল মাদ্রিদের প্রসঙ্গ। দিমপেরিস বলেন, “রিয়াল মাদ্রিদকে টানা তিন বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতিয়েছিলেন জ়িদান। তার পরেও চতুর্থ মরসুমে তাঁকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। এটাই ফুটবল। তাই দল ভাল না খেললে সমালোচনা মেনে নেওয়া স্বাভাবিক। আমিও তাই করি। কিন্তু বেশি গুরুত্ব দিই না। আমার কাজ দলকে ট্রফি জেতানো। তার চেষ্টাই করছি।”
বৃহস্পতিবারের ম্যাচের পর ১৬ দিন বিশ্রাম। দিমপেরিস জানেন, এই সময়ের মধ্যে দলকে আরও ছন্দবদ্ধ করার সুযোগ পাবেন তিনি। তবে তার আগে ওড়িশা ম্যাচে জয় চাইছেন মোহনবাগান কোচ। কারণ, জিতলে শীর্ষস্থান ধরে রাখবেন তাঁরা। সেই কারণেই এই ম্যাচকে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছেন দিমপেরিস।