জামশেদপুর এফসিকে বাড়তি সময় দিল সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ)। ১২ অগস্ট পর্যন্ত জামশেদপুর কর্তৃপক্ষকে ভাবার সময় দিতে চান কল্যাণ চৌবেরা। গত ৩১ জুলাই জামশেদপুর কর্তৃপক্ষ আইএসএল না খেলার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিল।
৩১ জুলাই ছিল ফেডারেশনকে আইএসএলে অংশগ্রহণের টাকা জমা দেওয়ার শেষ দিন। সে দিনই জামশেদপুর এফসি প্রতিযোগিতা থেকে নাম তুলে নেওয়ার কথা ঘোষণা করে। মরসুম শুরুর আগেই জামশেরপুরের সিদ্ধান্ত ধাক্কা দেয় এআইএফএফকে। ফেডারেশন আগেই জানিয়েছিল, আসন্ন মরসুমে আইএসএল খেলতে হলে প্রতিটি ক্লাবকে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা করে দিতে হবে। জামশেদপুর এবং ইন্টার কাশী ছাড়া বাকি ক্লাবগুলি আগেই টাকা দিয়েছিল। শেষ দিন কাশীও টাকা দিয়ে দেয়। সময়সীমা শেষ হওয়ার কিছু ক্ষণ আগে জামশেদপুর নাম তুলে নেওয়ার কথা জানায়। জামশেদপুরের সিইও মুকুল চৌধুরী ফেডারেশনকে ইমেলে লেখেন, ‘‘আইএসএল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ হল, জামশেদপুর ফুটবল অ্যান্ড স্পোর্টিং প্রাইভেট লিমিটেড ক্লাব পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান দিতে পারছে না।’’ তারই পরিপ্রেক্ষিতে জামশেদপুর কর্তৃপক্ষকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য ১২ অগস্ট পর্যন্ত সময় দিতে চান ফেডারেশন কর্তারা।
বৃহস্পতিবার ফেডারেশনের এক্সিকিউটিভ কমিটির বৈঠক ছিল। তার পর কল্যাণ সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেছেন, ‘‘টাটা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলে এআইএফএফ সবচেয়ে খুশি হবে। ফুটবলারদের এবং ভারতীয় ফুটবলের স্বার্থে টাটাকে দেশের শীর্ষ লিগে থাকার অনুরোধ করছি। ওদের যে কোনও পরামর্শ আমরা গ্রহণ করতে তৈরি।’’ শুধু ১ কোটি ১০ লাখ টাকার জন্য টাটা গোষ্ঠী এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মনে করেন না কল্যাণ। ভারতীয় ফুটবলে টাটা গোষ্ঠীর অবদানের কথাও বলেছেন তিনি। উল্লেখ্য, ফেডারেশন সভাপতি নিজেও টাটা ফুটবল অ্যাকাডেমির প্রাক্তনী।
আরও পড়ুন:
২০১৭-য় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল জামশেদপুর। ২০২২-এ লিগ-শিল্ডও জিতেছিল। তবে নাম তোলার সিদ্ধান্ত আচমকা নেওয়া হয়নি। ফেডারেশন এবং আইএসএলের ক্লাবগুলির মধ্যে যখন লিগ চালানোর স্বত্ব নিয়ে দরকষাকষি চলছে, তখন থেকেই জামশেদপুরের কর্তারা নাম তোলার ব্যাপারে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছিলেন। জামশেদপুর জানিয়েছে, আগের মতোই ফুটবলের উন্নতিতে তারা কাজ করবে। তৃণমূল স্তর থেকে ফুটবলার তুলে আনার চেষ্টা করা হবে। যে সব কোচ, ফুটবলারদের চুক্তি রয়েছে, তাঁদের পুরো বেতনও দিয়ে দেওয়া হবে।