আন্তোনিয়ো লোপেস হাবাস কি হঠাৎ বদলে গিয়েছেন?
আইএফএ শিল্ড ফাইনালে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের কাছে হারের পরে সাংবাদিক বৈঠক করেননি ইস্টবেঙ্গল কোচ। সমাজমাধ্যমে অভিযোগ করেছিলেন, পুরো প্রতিযোগিতায় তাঁর সঙ্গে সার্কাসের পশুর মতো আচরণ করা হয়েছে। অথচ এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-তে ইরাকের আল শোর্তা এসসি-র বিরুদ্ধে ম্যাচের চব্বিশ ঘণ্টা আগে একেবারে অন্য রূপ স্পেনীয় চাণক্যের। সাংবাদিক বৈঠকে কখনও হাতের দু’আঙুল দিয়ে গুলি চালানোর ভঙ্গি করলেন। কখনও আবার পাশে বসে থাকা ডিফেন্ডার জয় গুপ্তর সঙ্গে রসিকতায় মেতে উঠলেন। হঠাৎ কী হল? হাসতে হাসতে হাবাস বললেন, ‘‘এখন আমি দারুণআনন্দে রয়েছি।’’
ফিফা ক্রমতালিকায় ৬৩তম স্থানে থাকা ইরাক ২০২৬ বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলেছে। তবে এশীয় পর্যায়ে ক্লাব ক্রমতালিকায় ২৩৫ নম্বরে রয়েছে আল শোর্তা। ফিফা ক্রমতালিকায় ভারত ১৩৮তম স্থানে থাকলেও এশীয় পর্যায় ইস্টবেঙ্গল রয়েছে ১১৪ নম্বরে। বিশ্বকাপে খেলা দুই তারকাকে নিয়ে কলকাতায় এসেছে ইরাকের ক্লাব। দলে রয়েছেন সাত বিদেশিও।ইস্টবেঙ্গলে বিদেশির সংখ্যা ছয়। আল আল শোর্তার কোচ সামি ত্রাবেলসির হাত ধরেই বিশ্বকাপের মূল পর্বে উঠেছিল টিউনিশিয়া। এখানেই শেষ নয়, এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-তে গ্রুপ ‘ডি’-র প্রথম ম্যাচে আল হুসেনের বিরুদ্ধে ২-০ এগিয়ে গিয়েও ইস্টবেঙ্গল ২-২ ড্র করেছিল। আল শোর্তা যাত্রা শুরু করেছে ওমানের আল সিব-কে ১-০ হারিয়ে। সোমবার সন্ধেয় যুবভারতীতে সাংবাদিক বৈঠকেও ত্রাবেলসি রীতিমতো হুঙ্কারের সুরে বললেন, ‘‘কলকাতায় এসেছি জিততেই। তবে ইস্টবেঙ্গল ভাল দল। ওদের বেশ কিছু ম্যাচও দেখেছি। তবুও জেতা ছাড়া অন্য কিছুই ভাবছি না।’’
নজরে: আল শোর্তার আর্জেন্টিনীয় তারকা বারকো। —নিজস্ব চিত্র।
এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-র পয়েন্ট টেবলে শীর্ষ স্থানে থাকা আল শোর্তাকে হারাতে না পারলে পরের পর্বে ওঠার পথ অনেকটাই কঠিন হয়ে যাবে তৃতীয় ইস্টবেঙ্গলের। প্রতিপক্ষের উপরে চাপ বাড়াতেই হয়তো সাংবাদিক বৈঠকে হাবাসের পাল্টা হুঙ্কার, ‘‘আমি মনে করি না, বিদেশি ফুটবলারের সংখ্যা বেশি বলেই আল শোর্তা বাড়তি সুবিধা পাবে। আমাদের একাধিক দুর্দান্ত ভারতীয় ফুটবলার রয়েছে। তাই প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিচারে দু’দল একই জায়গায় রয়েছে।’’ প্রশ্ন হচ্ছে সদ্য যোগ দেওয়া দুই বিদেশি আকে লোবা এবং লুকাস জ়োলিনস্কি কি পুরো ম্যাচ খেলার জন্য তৈরি? হাবাস বলছেন, ‘‘লোবা ও লুকাস মাত্র ন’দিন অনুশীলন করেছে। ওদের তৈরি হওয়ার জন্য সময় দিতে হবে। দু’জনের উপরেই আমার আস্থা রয়েছে।’’ এর পরেই যোগ করলেন, ‘‘নক-আউট ম্যাচ হিসেবেই মঙ্গলবার খেলতে হবে। আল শোর্তা এবং আল সিব-কে হারাতে পারলে পরের রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। কিন্তু হারলেবিদায় নেওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।’’
হাবাসের লক্ষ্যপূরণের পথে কাঁটা ছড়িয়ে দিতে তৈরি আল শোর্তা। ফরোয়ার্ড মোহানাদ আলি (মিমি) বিশ্বকাপে খেলেছেন। আর্জেন্টিনীয় মিডফিল্ডার ক্রিশ্চিয়ান বারকো আক্রমণে নেতৃত্ব দেন। নাইজিরীয় কিংসলে কুকু খেলেন ‘ফলস নাইন’ হিসেবে। রক্ষণে ভেনেজ়ুয়েলার রুবেন রামিরেসের সঙ্গে রয়েছেন অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে যুবভারতীতে খেলা মায়থাম জব্বার মুতলাগ। কোচের পাশে বসে তিনিও বললেন, ‘‘কলকাতায় ফের আসতে পেরে খুব খুশি। আশা করছি, জিতেই মাঠ ছাড়ব।’’ সোমবার সন্ধেয় হাল্কা অনুশীলন করালেও ত্রাবেলসি চব্বিশ ঘণ্টা আগেই বুঝিয়ে দিয়েছেন, আক্রমণাত্মক ফুটবলই তাঁর অস্ত্র। ।
মোহানাদকে নিয়েও ভাবছেন না? ফের হাবাসের হুঙ্কার, ‘‘আমাদের রক্ষণকে মোহানাদ অবশ্যই সমস্যায় ফেলতে পারে। কিন্তু আমি কি ফুটবলারদের বলব, ওদের স্ট্রাইকার বিশ্বের সেরা? ওর থেকে সাবধান থাকতে হবে? ওদের প্রত্যেক ফুটবলারকেই গুরুত্ব দিতে হবে। শুধু এক জনকে নিয়ে ভাবলে চলবে না।’’
আল শোর্তা দ্বৈরথের আগে হাবাস মন্ত্রেই উজ্জীবিত মশালবাহিনী।