ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরোধিতা এবং সমালোচনা করে চাকরি হারালেন চিফ অপারেটিং অফিসার কেভিন ল্যামোর। তাঁকে বরখাস্ত করেছে ফিফা। ইনফান্তিনোর বিশ্বকাপ-সহ প্রধান কয়েকটি প্রতিযোগিতা বিক্রি করে দেওয়ার প্রস্তাবের প্রথম বিরোধিতা করেছিলেন ল্যামোরই। ফিফা একের পর শীর্ষস্তরের কর্তাদের বরখাস্ত করায় ইনফান্তিনোর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নরওয়ের ফুটবল সংস্থার প্রধান লিস ক্লাভেনেস।
ইংল্যান্ডের সংবাদমাধ্যমে ‘দ্যা টাইমস’ ল্যামোরকে বরখাস্ত করার কথা জানিয়েছে। ইনফান্তিনোর প্রস্তাব নিয়ে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, ‘‘ফিফা সভাপতি কর্মীদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন।’’ তীব্র সমালোচনার পর ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ প্রকল্প বাতিল করতে বাধ্য হন ইনফান্তিনো। ফিফা এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘‘ফিফার সিওও হিসাবে দু’বছর কাজ করার জন্য কেভিন ল্যামোরকে ধন্যবাদ। তাঁর সঙ্গে ফিফার কাজের সম্পর্ক শেষ। তাঁকে ধন্যবাদ। তাঁর ব্যক্তিগত এবং পেশাগত ভবিষ্যতের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। এ ব্যাপারে আর কোনও মন্তব্য কতরা হবে না।’’
সদস্য দেশগুলি প্রতিবাদ জানানোর আগে প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছিলেন ল্যামোর। তিনি বলেছিলেন, ‘‘এই প্রকল্পটা এক জন ব্যক্তির। এই প্রকল্প অবিলম্বে বাতিল করা উচিত। ফুটবল প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা নিজেদেরই প্রশ্ন করুন। সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসে গিয়েছে।’’ পরোক্ষে ইনফান্তিনোকে সরানোর কথা বলেছিলেন তিনি। উল্লেখ্য, ইউরোপের ফুটবল নিয়ামক সংস্থা উয়েফাতেও ইনফান্তিনোর সঙ্গে কাজ করেছেন ল্যামোর। সে সময়ই চাকরি হারানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘‘এই বিবৃতির জন্য যদি আমাকে চাকরি হারাতে হয়, হবে। কিন্তু বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে চাই।’’ ফিফার এক কর্তা জানিয়েছেন, বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনায় উভয় পক্ষের সম্মতিতে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে ফিফায় যোগ দেন ল্যামোর। একই কারণে বিশ্বকাপের পরই ইস্তফা দিয়েছিলেন ইনফন্তিনোর অন্যতম প্রধান পরামর্শদাতা কার্লোস কর্দেইরা।
একের পর এক শীর্ষ কর্তার অপসারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে নরওয়ে। সে দেশের ফুটবল সংস্থার প্রধান ক্লাভেনেস বলেছেন, ‘‘এ বার ল্যামোরকে বের করে দেওয়া হল। আবার আমাদের সামনে তাকাতে বলা হচ্ছে। এগুলো গ্রহণযোগ্য নয়। ভয় দেখিয়ে ফিফা পরিচালনা করা হচ্ছে। আমার দেখা অন্যতম সেরা ফুটবল প্রশাসক ল্যামোর। আমার আর্জি, যে সিদ্ধান্তগুলো ফুটবলের স্বার্থে নয়, সেগুলির জন্য ফিফার শীর্ষস্তরের কর্তা এবং প্রশাসকদের নতি স্বীকার করবেন না।’’ মনে করা হচ্ছে, ক্লাভেনেস এই মন্তব্য করেছেন ফিফার মহাসচিব ম্যাটিয়াস গ্রাফস্ট্রমকে উদ্দেশ্য করে।
আরও পড়ুন:
ক্লাভেনেস নরওয়ের প্রাক্তন ফুটবলার। মহিলাদের জাতীয় দলের সদস্য ছিলেন। পেশায় আইনজীবী। উয়েফার এক্সিকিউটিভ কমিটির অন্যতম সদস্য। তিনি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই সুর চড়াচ্ছেন।