বিশ্বকাপ-সহ সব প্রতিযোগিতার অংশীদারিত্ব বা মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির ফিফার প্রস্তাবে চটেছে ইউরোপ এবং আমেরিকার দেশগুলি। দুই মহাদেশের দেশগুলি ফিফার কোনও প্রতিযোগিতা অংশগ্রহণ না করার অবস্থান নিয়েছে। সমালোচনার কেন্দ্রে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। চাপের মুখে পরিস্থিতি সামাল দিতে সুর নরম করল ফিফা। বিতর্কের প্রেক্ষিতে ইস্তফা দিয়েছেন ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্দিয়েরো।
নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে ফিফার পক্ষে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। তাতে বিতর্কের দায় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে সংবাদমাধ্যমের উপর। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘সংবাদমাধ্যমের কিছু ভুল প্রতিবেদনের জন্য আমাদের পরিকল্পিত আলোচনা ব্যাহত হয়েছে। আমরা আলোচনা চালিয়ে যাব। যাতে প্রতিটি সদস্য সংস্থা প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।’’ আরও বলা হয়েছে, ‘‘কেউ ফুটবলকে বিক্রি করে দিচ্ছে না। এমন কিছু কখনই বিবেচনায় আনবে না ফিফা।’’
ফিফা একটি সংস্থা তৈরি করতে চাইছে। তার নাম ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইসেস’। বিশ্বকাপ, ক্লাব বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতা পরিচালনা করবে এই সংস্থা। জিয়ান্নি ইনফান্তিনোদের আশা, সংস্থার অন্তত ২১ শতাংশ মালিকানা বেসরকারি সংস্থার কাছে বিক্রি করা যাবে। এতে ফিফার পকেটে ৪০ হাজার কোটি টাকা ঢুকবে। এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধেই একজোট হয়েছে ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকার দেশগুলি।
এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত করার জন্য প্রয়োজন ভোটাভুটি। ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের মধ্যে অন্তত ১০৬টি সদস্য দেশ প্রস্তাব সমর্থন করলে তবেই ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইসেস’ তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে ফিফা। ইতিমধ্যেই উয়েফা এবং কনকাকাফ মিলিয়ে ৯৬টি দেশ সরাসরি বিরোধিতা করেছে।
ফিফার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইসেস তৈরির প্রস্তাব নিয়ে সংশ্লিষ্ট কনফেডারেশনগুলির মতামত আমাদের কাছে এসেছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলো থেকে যে বিষয় উঠে এসেছে, সেগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করতে চাই। জনসমক্ষে প্রকাশিত মতামত এবং উদ্বেগকে আমরা সম্মান করি। খোলামেলা গণতান্ত্রিক আলোচনা প্রক্রিয়ার প্রতি আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। প্রতিটি সদস্য দেশ তাদের অঞ্চলে ফুটবলের বড় বাণিজ্যিক সুযোগগুলো কাছে লাগাতে পারে। এটা নিশ্চিত করতেই ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইসেস তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে ফিফা এবং ফুটবলের পরিচিত ধারণা এবং পরিচালন ব্যবস্থায় কোনও পরিবর্তন হবে না।’’
এই পরিস্থিতিতে ইস্তফা দিয়েছেন ফিফা সভাপতির অন্যতম ঘনিষ্ঠ পরামর্শদাতা কর্দিয়েরো। আমেরিকার ফুটবল সংস্থার প্রাক্তন সভাপতি ইস্তফার সিদ্ধান্ত নিয়ে বলেছেন, ‘‘ফিফা সভাপতির একজন উপদেষ্টা, প্রাক্তন ব্যাঙ্কার এবং একজন ফুটবল অনুরাগী হিসাবে চুপ করে থাকতে পারি না। বিশেষ করে যখন ফিফা বিশ্বকাপ-সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতার অংশীদারিত্ব বিক্রির কথা ভাবছে। পরিষ্কার করে জানাতে চাই, এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমি কোনও ভাবে যুক্ত ছিলাম না। আমি চূড়ান্ত ভাবে বিরোধিতা করছি।’’
আরও পড়ুন:
তিনি আরও বলেছেন, ‘‘ফিফার সদস্য দেশগুলোর জন্য এটা অত্যন্ত খারাপ প্রস্তাব। ফুটবলের জন্য খারাপ। ফুটবলের ভবিষ্যতের জন্যও খারাপ। ৩৫ বছরের বেশি ব্যাঙ্কে কাজ করেছি। অবসরের পর থেকে ফুটবলই আমার জীবনের সবকিছু। আমি এই সম্পদের মূল্য এবং তার একটি অংশ বিক্রি করে দেওয়ার পরিণতি বুঝি। প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করা উচিত। এ জন্যই ফিফার সঙ্গে থাকা আর সম্ভব নয়।’’ সব মিলিয়ে ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইসেস’ নিয়ে ঘরে-বাইরে চাপের মুখে ফিফা সভাপতি।