লিয়োনেল মেসি। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। তাঁর শিকড় ইটালিতে! একটি গবেষণায় উঠে এসেছে নতুন এই তথ্য। আবার মেসির মায়ের পূর্বপুরুষেরা নাকি আর্জেন্টিনায় এসেছিলেন ব্রাজ়িল থেকে।
আর্জেন্টিনায় জাতীয় নায়কের সম্মান পান মেসি। স্পেনের হয়ে খেলার প্রস্তাব ফিরিয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কিশোর বয়সে। আর্জেন্টিনার জন্য গত ১৮ বছর ধরে নিজেকে উজাড় করে দিচ্ছেন। বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসাবে বিবেচিত হন মেসি। তিনি নিঃসন্দেহে আর্জেন্টিনার গর্ব। অথচ তাঁর শিকড় নাকি ব্রাজ়িলে। একটি গবেষণায় মেসির পরিবারের সঙ্গে সাও পাওলোর যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে। আর্জেন্টিনায় স্থায়ী ভাবে বসবাস শুরু করার আগে মেসির পূর্বপুরুষেরা নাকি ব্রাজ়িলে থাকতেন।
আর্জেন্টিনার বংশবৃত্তান্ত অনুসন্ধান বিশেষজ্ঞ সান্তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে গবেষণা করেছেন মেসির বংশ পরিচয় নিয়ে। বিভিন্ন নথি এবং তথ্য সংগ্রহ করে তিনি জেনেছেন, মেসির বাবার প্রপিতামহ অ্যাঞ্জেলো মেসি ১৮৯৩ সালে ইটালির রেকানতি থেকে ভাগ্যান্বেষণে পরিবার নিয়ে আর্জেন্টিনার রোসারিয়োয় চলে যান। অন্য দিকে মেসির মায়ের প্রপিতামহ রানিয়েরি কেচিয়েতিনির জন্ম ইটালির সান সেবেরিনো মার্কে অঞ্চলে। তিনি আবার তাঁর স্ত্রী রোসা রিচেজ্জাকে নিয়ে ১৮৯৯ সালে ব্রাজ়িলে চলে যান ‘ওয়াশিংটন’ নামক একটি জাহাজে করে। ১৮৯৯ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁদের জাহাজ স্যান্তোসে পৌঁছোয়।
ঐতিহাসিক নথি অনুসারে ব্রাজ়িল যাওয়ার সময় মেসির মায়ের পূর্বপুরুষদের নাম এবং পদবি পরিবর্তন হয়ে যায়। সে সময় অভিবাসীদের ক্ষেত্রে যা ছিল স্বাভাবিক বিষয়। বিদেশি নাম লেখার অসুবিধাজনিত কারণেই এমন পরিবর্তন হত। মেসির মায়ের প্রপিতামহের নাম বদলে হয়ে যায় রামিয়েরো কোচিয়েতিনি। ব্রাজ়িলের সাওপাওলোয় বসবাস শুরু করেন তিনি। সেখানে একটি খামারে কাজ করতেন। বছর দুয়েক পর সেখানকার বাস উঠিয়ে তিনি চলে যান রিবেইরাও প্রেতো শহরে। সেখানেই তাঁদের দুই সন্তানের জন্ম হয়। তাদের অন্যতম আর্দিরিগো। মেসির মায়ের পিতামহ আর্দিরিগোর জন্মের বছর খানেক পর কোচিয়েতিনি ব্রাজ়িল ছেড়ে আর্জেন্টিনায় চলে যান পরিবার নিয়ে। রোসারিয়োর কাছে এক জায়গায় বসবাস শুরু করেন তাঁরা। সেখানেই জন্ম মেসির দাদু অ্যান্তোনিয়ো কোচিয়েতিনির। মেসির মা সেলিয়া মারিয়া কোচিয়েতিনিরও জন্ম রোসারিয়োয়।
সান্তিনি গবেষণা করেছেন ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত। তিনি বলেছেন, ‘‘ইটালিতে কোচিয়েতিনি পদবির খোঁজ পাইনি। এমন কোনও পদবি ও দেশে হয় না। মেসির মায়ের দিকের বংশ ইতিহাস খোঁজ করে জেনেছি, ওই পরিবার ব্রাজ়িলে যাওয়ার পর তাঁদের পদবি পরিবর্তন হয়ে কোচিয়েতিনি হয়। এই যোগসূত্রের কারণেই ইটালির শহর সান সেভেরিনো মার্ক ২০২২ সালে মেসিকে সম্মানিক নাগরিকত্ব দিয়েছে।’’
আরও পড়ুন:
সান্তিনি জানিয়েছেন, মেসির মায়ের প্রপিতামহ ১৯০৫ সালে আর্জেন্টিনায় চলে গেলেও তাঁদের পরিবারের একটা অংশ ব্রাজ়িলের রিবেইরোয় থেকে যায়। ওই শহরের একটি রাস্তার নাম মার্টিনিকো প্রাডো। যে খামার মালিক কোচিয়েতিনির পরিবারকে আশ্রয় দিয়েছিলেন, তাঁরই নামে এই রাস্তাটি।