দীর্ঘ বিমানযাত্রার ক্লান্তি, উষ্ণ ও শুষ্ক আবহাওয়া, প্রতিপক্ষ দলে প্রায় সাত-আট জন জাতীয় দলের ফুটবলার— এ সব নিয়ে চিন্তিত নয় ইস্টবেঙ্গল। লাল-হলুদ কোচ আন্তোনিয়ো লোপেস হাবাস এবং ফুটবলারদের এখন একটাই লক্ষ্য— ওমান থেকে তিন পয়েন্ট সংগ্রহ করে পরের পর্বে যাওয়ার আশা বাঁচিয়ে রাখা।
ইস্টবেঙ্গলের প্রধান শক্তি তাদের মাঝমাঠ এবং আক্রমণভাগ। ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে ও করিয়ে ছন্দে ফিরেছেন আকে আর্নড লোবা। তিনি আজ হাবাসের অন্যতম অস্ত্র হতে চলেছেন। বল বাড়ানোর কাজ করবেন দানি রামিরেস। মাঝমাঠে মহম্মদ রশিদের সঙ্গে জিকসন সিংহকে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে।
প্রস্তুতিতেও সোমবার সংঘবদ্ধ দেখিয়েছে ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলারদের। মরিয়া হয়ে তাঁরা জয়ের শপথ নিয়েছেন। হাবাস মনে করছেন, মরণ-বাঁচন ম্যাচে আর ভুল করার জায়গা নেই। সাংবাদিক বৈঠকে বলেছেন, “প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে দুই দলকেই জিততে হবে। এই ম্যাচে আর ভুলভ্রান্তির সুযোগ নেই।” যোগ করেছেন, “প্রথম ভারতীয় ক্লাব হিসেবে এএফসিতে জয়ের জন্য সকলে মরিয়া। আমাদের পুরো ৯০ মিনিট মনঃসংযোগ ধরে রাখতে হবে।”
ইস্টবেঙ্গলের প্রধান সমস্যা রক্ষণ। আনোয়ার আলির সঙ্গে দিয়েগো জ়িভুলিচের বোঝাপড়ার অভাব এখনও রয়েছে। উইং ব্যাকদেরও নিজেদের সেরাটা দিতে হবে। প্রতিযোগিতার প্রথম ম্যাচে জর্ডনের আল হুসেইনের বিরুদ্ধে দু’গোলে এগিয়ে থাকার পরেও ড্র করে ইস্টবেঙ্গল। পরের ম্যাচে ইরাকের আল শোর্তার বিরুদ্ধে হারতে হয় ২-৩ ব্যবধানে। তবে আইএসএলে প্রথম দু’ম্যাচে মশালবাহিনী করেছে নয় গোল। আর সেটাই আরও বেশি করে আশা জোগাচ্ছে লাল-হলুদভক্তদের মনে।
সামনে লোবা ছাড়াও খেলার সম্ভাবনা রয়েছে ডেভিড লালহানসাঙ্গা এবং এডমুন্ড লালরিনডিকার। আবার তিনি চমক দিয়ে নামাতে পারেন পি ভি বিষ্ণুকেও। আল-সিবের দুই অভিজ্ঞ সেন্টার ব্যাক মহম্মদ আল মুসালামি এবং মুসাব আল শাকসি দু’জনেরই বয়স ৩৩-এর উপরে। ফলে ডেভিড, দানি, এডমুন্ড-দের গতি সমস্যায় ফেলতে পারে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে।
প্রতিপক্ষ আল-সিব কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে ইস্টবেঙ্গলের জন্য? গত তিন মরসুমে ওমান প্রো লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আল-সিব। চলতি মরসুমে তারা ৫ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে চতুর্থ স্থানে। যদিও এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-তে আল-সিব এখনও জয়ের দেখা পায়নি। দু’ম্যাচের দু’টিতেই হেরে রয়েছে পয়েন্ট টেবলের একেবারে শেষে। মাঝমাঠের প্রধান অস্ত্র নাইজিরীয় অগাস্টিন ওলাদাপো। মূলত রক্ষণ এবং আক্রমণ ভাগের মধ্যে সংযোগ তৈরির পাশাপাশি থ্রু পাস বাড়াতেও পারেন। গ্যাবনের স্ট্রাইকার অ্যাক্সেল মেয়েও সমান ভয়ঙ্কর। শারীরিক ভাবে শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি হেডেও তিনি দক্ষ। তাঁর সঙ্গে থাকবেন জাতীয় দলের ২৭ বছরের তারকা জ়াহির আল-আঘবারি। তাঁর গতি এবং ড্রিবলিংও অসাধারণ।
এখন দেখার, মরণ-বাঁচন ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল উত্তীর্ণ হতে পারে কি না।
মঙ্গলবার এসিএল টুয়ে: আল সিব বনাম ইস্টবেঙ্গল। রাত ৯.৩০ থেকে। ফ্যানকোড অ্যাপে সরাসরি।