জন্ম, বড় হওয়া কলকাতায়। তারপর মুম্বইয়ে স্টার স্পোর্টসে বিজ্ঞাপনের চাকরি। কিন্তু মনের মধ্যে ছিল খেলাধুলোর প্রতি ভালবাসা। ফুটবল নিয়ে কাজ করতে করতেই স্পেনের ফেডারেশনের সঙ্গে যোগাযোগ। সেই যোগাযোগ বাড়তে বাড়তে লাতিন আমেরিকায়। সেই সূত্রে একেবারে ব্রাজ়িল ফুটবল দলকে কলকাতায় নিয়ে আসা।
ভিনিসিয়াস জুনিয়রদের যাঁর উদ্যোগে আগামী শনিবার যুবভারতীতে দেখা যাবে, তিনি সৌরভ চট্টোপাধ্যায়। ‘বেস্ট অফ ইউ’ সংস্থার ভারতের ফাউন্ডার-ডিরেক্টর। তাঁর আরও একটি পরিচয় রয়েছে। তিনি অভিনেত্রী, সাংসদ জুন মাল্যর স্বামী। সোমবার বিকেলে পিকনিক গার্ডেনে ‘বেস্ট অফ ইউ’-এর দফতরে আনন্দবাজার ডট কম-কে জানালেন, কী ভাবে সম্ভব হল পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজ়িলকে কলকাতায় ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে রাজি করানো।
প্রশ্ন: ব্রাজ়িল, উরুগুয়ের মতো দলকে কী ভাবে আনা সম্ভব হল?
সৌরভ চট্টোপাধ্যায়: আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, আমাদের যা যোগাযোগ, তাতে আমরা পারব। ব্রাজ়িলের কোচ কার্লো আনচেলোত্তির সঙ্গে আমাদের ‘বেস্ট অফ ইউ’-এর মাদ্রিদের ডিরেক্টরের খুব ভাল সম্পর্ক। আমরা সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনকে (এআইএফএফ) জানালাম। গত জুনে ব্রাজ়িল ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করলাম। ওরা এককথায় রাজি হয়ে গেল।
প্রশ্ন: মাত্র দু’-তিন মাসের মধ্যে ব্রাজ়িল ফুটবল দলকে ভারতে নিয়ে আসতে পারাটা কি এতটাই সহজ ছিল?
সৌরভ: মাত্র তিন মাসের মধ্যে হয়ে গেলেও কাজটা সহজ ছিল না। গোটা ব্যাপারটা বাস্তবায়িত করতে অনেক বিনিদ্র রজনী কেটেছে। আমার সহকর্মী অনুজ কিচলু খুব পরিশ্রম করেছে। রোজ যোগাযোগ করে যেতে হয়েছে। ব্রাজ়িল ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা বারবার রেকি করতে এসেছেন। সরেজমিনে দেখে গিয়েছেন। নিরাপত্তা, মাঠের অবস্থা সবকিছু নিয়ে ওঁরা অত্যন্ত খুঁতখুঁতে। হবে নাই বা কেন? ব্রাজ়িল তো আর এমনিই হয়নি। প্রথমে ছয় সদস্যের দল পাঠাল। ডুরান্ডের সেমিফাইনালের ঠিক পরের দিন ওঁরা এসেছিলেন। মনে থাকবে হয়তো, ওই ম্যাচে তুমুল বৃষ্টি হয়েছিল। ফলে ওঁরা যখন এসেছিলেন, তখন যুবভারতীর অবস্থা খুব খারাপ ছিল। কিন্তু আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছি, ওঁরাও সাহায্য করেছেন। অসুবিধে হয়নি।
প্রশ্ন: ঠিক কবে প্রথম ব্রাজ়িলকে এ দেশে আনার কথা আপনারা ভাবলেন?
সৌরভ: ছোট থেকে দেখে আসছি, ভারত বরাবরই তার সমমানের দলের সঙ্গে খেলে। যাদের সঙ্গে খেলছে, তারা হয় ভারতের থেকে র্যাঙ্কিংয়ে নীচে, নয়তো সামান্য উপরে। সকলেই জানে, খেলাধুলোয় তখনই উন্নতি সম্ভব, যখন অনেক উন্নত দলের সঙ্গে খেলার সুযোগ আসবে। তখনই ভাল খেলার তাগিদ আসবে। ঠিক এই সময়ে লন্ডনে ইউনিটি কাপে খেলার একটা সুযোগ আমাদের সামনে এল। আমরা এআইএফএফকে বললাম। ওরা রাজি হল। ভারতীয় দল জামাইকা এবং জ়িম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে মোটেই খারাপ খেলেনি সেখানে। একতরফা খেলা হয়নি। মোহনবাগান প্লোয়ার না ছাড়ায় ভারতীয় দল কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এর পর সকলের আগে ফুটবলাররাই আগ্রহ প্রকাশ করেছিল, আরও ভাল দলের সঙ্গে যদি খেলা যায়। আমাদেরও মনে হল, ফুটবল নিয়ে এ দেশে আগ্রহ বাড়াতে গেলে কিছু একটা করতে হবে। তৃণমূল স্তরে যা হওয়ার হচ্ছে। কিন্তু ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবলকেও প্রচারের আলোয় আসতে হলে কিছু একটা করতে হবে। ক্রিকেট এখন যে জায়গায় চলে গিয়েছে, আলাদা করে কিছু করার দরকার নেই। কিন্তু ফুটবলকে তো টেনে তুলতে হবে। ভেবে দেখলাম, ফুটবলে সাফল্যের দিক দিয়ে ব্রাজ়িল এক নম্বর। ওরা কখনও ভারতে খেলতে আসেনি। ভারতীয় ফুটবলেও বিরাট সুযোগ আসবে।
রিয়াল মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাবু স্টেডিয়ামের উল্টো দিকে নিজের দফতরে সৌরভ চট্টোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।
প্রশ্ন: ফিফাকেও কি রাজি করাতে হয়েছিল?
সৌরভ: ফিফা উইন্ডোতে এই ম্যাচ হচ্ছে। এখানে ফিফার বিশেষ ভূমিকা নেই। এটা সংশ্লিষ্ট দুই দেশের ফেডারেশনের মধ্যে হয়। যে কেউ যে কারও সঙ্গে খেলতে পারে। র্যাঙ্কিংয়ে কারা উপরে, কারা নীচে এগুলো একেবারেই দেখা হয় না। এরকম কোনও নিয়ম নেই। পুরোটাই নির্ভর করছে, সেই সময় কাদের পাওয়া যাবে। ভারতে আসার আগে ব্রাজ়িল অস্ট্রেলিয়ায় খেলবে বলে আমাদের সুবিধা হয়েছে। মোটামুটি একই প্রান্তে খেলা। উরুগুয়ের খেলা কোরিয়ায়। পানামা খেলেছে জাপানে। যখন ব্রাজ়িল ম্যাচের কথা হল, ভারত আশিয়ান কাপ থেকে নাম তুলে নিল। তখন এই তিনটে দলকেও হাতের কাছে পেয়ে গেলাম।
প্রশ্ন: ব্রাজ়িল, উরুগুয়ে এখানে খেললে এ দেশের ফুটবলের সত্যিই কোনও উন্নতি হবে?
সৌরভ: পানামার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচটা দেখলেই বুঝতে পারবেন। ভারত তো জিতেও যেতে পারত। ভারতের খেলা দেখে কে বলবে যে, বিশ্বকাপে খেলা একটা দলের বিরুদ্ধে খেলছে? আগেও বললাম, বড় দলের সঙ্গে খেললে এমনিই নিজেদের উন্নতি করার একটা তাগিদ তৈরি হবেই। এখানে আরও একটা ব্যাপার আছে। অনেক এগিয়ে থাকা দলের কাছে হারলে র্যাঙ্কিংয়ে কোনও প্রভাব পড়ে না। পয়েন্ট হারানোর ভয় থাকে না। কিন্তু একবার ড্র করে ফেললে বা জিতে গেলে র্যাঙ্কিং অনেক বেড়ে যায়। গত তিন-চার বছরে ভারত যাদের সঙ্গে খেলেছে, তাতে ভারতীয় ফুটবলের কোনও লাভ হয়নি। বরং নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
প্রশ্ন: কিন্তু ভাইচুং ভুটিয়ার মতো প্রাক্তন ফুটবলার তো রীতিমতো বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন এই ম্যাচ নিয়ে। তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
সৌরভ: উনি তো ব্রাজ়িল লেজেন্ডের ম্যাচে গিয়ে খেলে এসেছেন। এত আপত্তি থাকলে গেলেন কেন? ওই ম্যাচ খেলে ভারতীয় ফুটবলের কী উন্নতি হয়েছে? উনি যদি আজ ভারতীয় দলে থাকতেন, এই ম্যাচ না খেলে থাকতে পারতেন? প্লেয়াররাই সকলের আগে চেয়েছে এই ম্যাচ খেলতে। ভাইচুং নিজের মত দিতেই পারেন।
সহকর্মী অনুজ কিচলুর সঙ্গে সৌরভ চট্টোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।
প্রশ্ন: এরকম আন্তর্জাতিক দলকে ভারতে আনার ক্ষেত্রে আপনার আর কী কী পরিকল্পনা রয়েছে?
সৌরভ: আমাদের কাজই হল, বিভিন্ন দলকে খেলার জন্য নিয়ে আসা। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের সঙ্গে আমাদের খুব ভাল সম্পর্ক। কারণ, আমাদের দফতর স্পেনে। আমরা স্পেনকেও আনব। মনে হয় না, অসুবিধা হবে।
প্রশ্ন: তা হলে স্পনকে কি আগামী তিন-চার বছরের মধ্যে ভারতে খেলতে দেখা যাবে?
সৌরভ: হয়তো আরও আগেই দেখা যাবে।
প্রশ্ন: ব্রাজ়িল ম্যাচের দিন খেলা ছাড়া কী কী পরিকল্পনা রয়েছে?
সৌরভ: আমাদের কাজ হল শুধু দুটো দলের ম্যাচ খেলানো। ম্যাচের দিন কী হবে, সেটা ফেডারেশনের দায়িত্ব। ব্রাজ়িল খুল কম সময়ের জন্য শহরে থাকছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কলকাতায় আসছে। শুক্রবার প্র্যাকটিস করবে। শনিবার ম্যাচ। রবিবার চলে যাবে। ফলে এখনও পর্যন্ত ম্যাচ ছাড়া আর কিছু হবে না। ফিফার প্রোটোকল মেনে দুটো পরিপূর্ণ ফুটবল ম্যাচ হবে। এখানে ম্যাচটাই আসল এবং এটাই সবচেয়ে বড় ইভেন্ট। আমরা অন্য কোনও কিছু করে ম্যাচের গুরুত্ব কমিয়ে দিতে চাই না। কোনও শো-তামাশা হবে না। সিরিয়াস ফুটবল ম্যাচ হবে।
প্রশ্ন: রাজ্য সরকার বা ফেডারেশনের কী ভূমিকা? কতটা সাহায্য পেয়েছেন?
সৌরভ: ফেডারেশন উদ্যোক্তা। রাজ্য সরকারের কাছে বিরাট সুযোগ এরকম একটা ম্যাচ আয়োজন করার। ভারতে এখনও পর্যন্ত এটাই তো সবচেয়ে বড় ফুটবল ম্যাচ। রাজ্যের কাছে গর্বের ব্যাপার। নতুন সরকার। মাত্র কয়েক মাস হল ক্ষমতায় এসেছে। তার মধ্যেও দিন-রাত এক করে কাজ করছে।
আরও পড়ুন:
-
ব্রাজ়িল ম্যাচ খেলতে কলকাতায় পা ভারতীয় ফুটবল দলের! পাঁচ বারের বিশ্বজয়ীদের বিরুদ্ধে আত্মবিশ্বাসী খালিদের ছেলেরা
-
বিশ্বের পাঁচ নম্বর দেশ ব্রাজ়িল গুরুত্ব দিচ্ছে ১৩৮-এ থাকা ভারতকে, কলকাতায় আসতে মুখিয়ে রয়েছেন কোচ আনচেলোত্তি
-
বেঙ্গালুরুর ট্রাফিক জ্যামে ২ ঘণ্টা আটকে বাসে! ভারতের সঙ্গে ড্র করে একগুচ্ছ অব্যবস্থাকে দুষলেন পানামার কোচ
প্রশ্ন: বেঙ্গালুরুতে পানামা ম্যাচে দর্শক হয়নি। কী কারণ?
সৌরভ: ক্রিকেট ছাড়া অন্য খেলার ক্ষেত্রে দর্শকদের মানসিকতার বদল দরকার। ক্রিকেটে অনেক বেশি টাকা খরচ করে মানুষ খেলা দেখতে যান। কিন্তু ফুটবলে সকলে ভাবেন, ১০০-১৫০ টাকা খরচ করলেই খেলা দেখা যাবে। বিশ্বের কোথাও এত কম খরচে ব্রাজ়িল ফুটবল দলের খেলা দেখা যায় না। ২০-৩০ ডলারে পৃথিবীর কোথাও ব্রাজ়িলের খেলা দেখা যায় না।
প্রশ্ন: যুবভারতীতে দর্শক হবে?
সৌরভ: আশা করি সে দিন গ্যালারি ভরে যাবে। ব্রাজ়িল যেখানে খেলে গ্যালারি ভরে যায়। কলকাতা ফুটবল ভালবাসে। যুবভারতীতে লোক হবে।
প্রশ্ন: লিয়োনেল মেসিকে নিয়ে যুবভারতীতে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা হয়েছিল। জল বহুদূর গড়িয়েছিল। ভিনিসিয়াসদের আনার ক্ষেত্রে সেটা মাথায় ছিল?
সৌরভ: দুটোর মধ্যে তফাত আছে। ওটা তো ফুটবল ম্যাচ ছিল না। ওটা একটা ইভেন্ট ছিল। ওটা কোনও খেলা ছিল না। এখানে ভিনিসিয়াস জুনিয়র খেলতে আসছেন, দর্শকদের জন্য হাত নাড়াতে আসছেন না। এখানে নাচ-গান হবে না। এটা সিরিয়াস ফুটবল ম্যাচ। এটাই ইউএসপি। এখানেও বলব, লিয়োনেল মেসি কয়েক মিনিটের জন্য হাত নাড়বেন আর সেটা দেখার জন্য মোটা টাকা খরচ করতে অসুবিধা নেই। কিন্তু ভিনিসিয়াসের মতো তারকার খেলা দেখতে টাকা খরচ করতে আপত্তি থাকা উচিত নয়।
প্রশ্ন: এখন ভারতে আন্তর্জাতিক ফুটবল তারকাদের আনার ক্ষেত্রে একজনই পরিচিত। শতদ্রু দত্ত। যিনি মেসিকে এনেছিলেন। আপনি দ্বিতীয় জন হিসেবে এই কাজ করলেন। ওঁকে কি আপনার প্রতিযোগী হিসেবে দেখছেন?
সৌরভ: উনি প্রোমোটার। উনি তারকাদের আনেন। এই পর্যন্তই। আমাদের ব্যাপারটা আলাদা। আমরা ফুটবল ম্যাচ আয়োজন করি। আমরা তারকা আনি না। আমরা ফুটবলার আনি। আমরা ইভেন্ট করি না। আমরা ম্যাচ করি।
প্রশ্ন: আপনার ‘বেস্ট অফ ইউ’ সংস্থার কাজটা কী?
সৌরভ: আমাদের সংস্থা একটা আন্তর্জাতিক এজেন্সি। প্রধান দফতর মাদ্রিদে। এ ছাড়া লাতিন আমেরিকার ব্রাজ়িল, কলম্বিয়া এবং ইউরোপের মাদ্রিদ ছাড়াও পর্তুগালে আমাদের শাখা রয়েছে। দুবাই, চিনেও রয়েছি আমরা। ক্যাসেমিরো, জাবি আলোন্সো, করিম বেঞ্জিমা, দিয়াগো মিলিতাও আমাদের ক্লায়েন্ট। এ ছাড়া লুই ফিগো, বড় রোনাল্ডো আমাদের সঙ্গে যুক্ত। আমাদের দফতর রিয়াল মাদ্রিদের ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাবুর ঠিক উল্টো দিকে। ফলে আমাদের সঙ্গে রিয়াল, চেলসি, ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের মতো ক্লাবের খুব ভাল সম্পর্ক। প্লেয়ার, কোচেদের ম্যানেজ করা ছাড়াও আমাদের নিজস্ব ফুটবল ক্লাব আছে। সেই মাবিয়া ক্লাব স্প্যানিশ লিগে তৃতীয় ডিভিশনে খেলে। ফলে ফুটবল বিশ্বে আমরা যথেষ্ট পরিচিত। আমাদের নিজস্ব এআই প্রযুক্তিও আছে। এর নাম অলোসিপ। বিভিন্ন ফুটবলার এবং ইউরোপের অধিকাংশ বড় ক্লাব আমাদের এআই ব্যবহার করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ঠিক করে।
প্রশ্ন: আপনি এই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হলেন কী করে?
সৌরভ: আমি ভারতে তৃণমূল স্তরে ফুটবলের উন্নয়নের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। ২০০৮-এ আমি আর্সেনাল সকার স্টারস নামে একটা প্রোগ্রাম শুরু করি। বিভিন্ন স্কুল থেকে প্রতিভা খুঁজে বার করে আমরা আর্সেনালে পাঠিয়েছিলাম। বোকা জুনিয়র্স, ইন্টার মিলানেও আমরা এখান থেকে খুদে ফুটবলারদের পাঠিয়েছি। সেই বছর যখন আইএসএল শুরু হল, তখন আমরা স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধলাম। তখন পেদ্রো গানেরোর সঙ্গে আমার পরিচয়। উনি ‘বেস্ট অফ ইউ’ তখন চিনে শুরু করে দিয়েছেন। আমাকে বললেন, ভারতে এই সংস্থার দায়িত্ব আমাকে নিতে হবে। রাজি হয়ে যাই। আমার সঙ্গে যুক্ত হন অনুজ। উনি ফিফা স্বীকৃত এজেন্ট। আমি এই সংস্থার ফাউন্ডার-ডিরেক্টর। অনুজ সিইও।
প্রশ্ন: এই তিনটি ম্যাচ আয়োজন করা ছাড়া আপনি বা আপনার সংস্থা কী ভাবে ভারতীয় ফুটবলে অবদান রাখবেন?
সৌরভ: আমার প্যাশন ইউথ ডেভেলপমেন্ট। অনুজের বিশ্বের নানা ক্লাবের সঙ্গে যোগাযোগ। ওর মাধ্যমে বাচ্চারা বিভিন্ন ক্লাবে খেলার সুযোগ পাবে। এই জায়গায় ওর থেকে ভাল কেউ নেই। আশা করব, আমরা ভাল ফুটবলার খুঁজে বার করব, যারা বিদেশে গিয়ে ভারতীয় ফুটবলের নাম উজ্জ্বল করবে। মেয়েদের মধ্যে বালাদেবী প্রথম ভারতীয় হিসেবে বিদেশের ক্লাবে (গ্লাসগো রেঞ্জার্স) খেলেছে। এটা ‘বেস্ট অফ ইউ’-এর মাধ্যমে হয়েছে। ডায়নামো জাগ্রেবে আরও দু’জন খেলছে। মেয়েরা পারলে ছেলেরা পারবে না কেন? আমরা আশাবাদী।
প্রশ্ন: উল্টোটাও কি সম্ভব? মানে ভাল বিদেশিরা কি আপনাদের মাধ্যমে ভারতের ক্লাবে খেলতে পারেন?
সৌরভ: এর জন্য সকলের আগে ভারতীয় ফুটবলের উন্নতি করতে হবে। আইএসএলের মান অনেক বাড়াতে হবে। আমরা জেমি ম্যাক্লারেনের মতো বিশ্বকাপারকে ভারতে খেলিয়েছি। সন্দেশ জিঙ্ঘন, শুভাশিস বসুদের এজেন্টও আমরা।