দেশের হয়ে শেষ বার মাঠে নেমেছেন গত ৬ অক্টোবর। পেশাদার ফুটবলে এখনও খেলছেন লিয়োনেল মেসি। শনিবারই ইন্টার মায়ামির হয়ে জোড়া গোল করেছেন। ফুটবলপ্রেমীদের একাংশের মেসির অবসর নিয়ে আক্ষেপ রয়েছে। এর মধ্যেই মেসিকে তোপ বার্সেলোনার প্রাক্তন সভাপতি হুয়ান গাসপার্ত। তাঁর অভিযোগ, ক্যাম্প ন্যুকে উপেক্ষা করেছেন এলএম টেন। নিজেকে মেসি কী মনে করে, বলেও প্রশ্ন তুলেছেন।
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর ঘোষণা করার পর মেসির জন্য বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করেছিল আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্থা। বেনিনের বিরুদ্ধে প্রদর্শনী ম্যাচ খেলে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে পাকাপাকি ভাবে বিদায় জানিয়েছেন মেসি। বুয়েনস এয়র্সের সেই ম্যাচে মেসির অবসরের মুহূর্তের সাক্ষী থাকার সুযোগ পেয়েছেন আর্জেন্টিনার ফুটবলপ্রেমীরা। গাসপার্তের বক্তব্য, এমন সুন্দর মুহূর্ত চাক্ষুস করার সুযোগ পেতে পারতেন বার্সেলোনার সমর্থকেরাও। কিন্তু মেসি তাঁর বেড়ে ওঠার ক্যাম্প ন্যুকে উপেক্ষা করেছেন।
পাঁচ বছর আগে বার্সেলোনা ছেড়েছেন মেসি। তাঁকে ফুটবলার হিসেবে তৈরি করেছে স্পেনের ক্লাবটিই। মেসির ফুটবলজীবনে আলাদা জায়গা রয়েছে বার্সেলোনার। মেসি বার্সেলোনা ছাড়ার পর ক্লাব কর্তৃপক্ষ কয়েক বার চেষ্টা করেছেন, তাঁকে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়ার। কিন্তু মেসি রাজি না হওয়ায়, তা সম্ভব হয়নি। অথচ আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্থার প্রস্তাবে এক বারেই রাজি হয়ে গিয়েছেন তিনি। তাতেই চটেছেন গাসপার্তে।
এক সাক্ষাৎকারে বার্সার প্রাক্তন সভাপতি বলেছেন, ‘‘কোনও ব্যক্তির চেয়ে ক্লাবের মর্যাদা অনেক বেশি। ক্লাবের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কারণকে অজুহাত করে বিদায় সংবর্ধনা এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয় মেসির। ওর কোনও শর্ত দেওয়া উচিত নয়। লিয়ো নিঃসন্দেহে অসাধারণ ফুটবলার। বিশ্বের সেরা ফুটবলার। তবে ওর একটি বিষয় ভুলে যাওয়া উচিত নয়। বার্সেলোনা ওর চেয়েও বড়। এ ব্যাপারে ওর খুব সতর্ক থাকা উচিত।’’ উল্লেখ্য, মেসি ১৩ বছর বয়সে যখন বার্সার অ্যাকাডেমিতে যোগ দিয়েছিলেন, তখন সভাপতি ছিলেন গাসপার্তে।
বার্সার বর্তমান সভাপতি হোয়ান লাপোর্তার সঙ্গে মেসির সম্পর্ক ভাল নয়। মনে করা হয়, সে কারণেই মেসি বার বার বিদায় সংবর্ধনার প্রস্তাব এড়িয়ে গিয়েছেন। মেসির বার্সা ছাড়ার অভিজ্ঞতাও সুখকর নয়। একটি সাক্ষাৎকারে মেসি এক বার বলেছিলেন, তিনি কখনও বার্সা ছাড়তে চাননি। পরিস্থিতির জন্য ওই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল।
মেসি বিদায় সংবর্ধনা নিতে ক্যাম্প ন্যুতে না ফেরায় গাসপার্তে ক্ষুব্ধ হলেও ক্লাবের প্রাক্তন অধিনায়কের প্রতি ভালবাসার কথা জানাতে ভোলেননি। তিনি বলেছেন, ‘‘একজন খেলোয়াড়ের প্রতি নিখাদ ভালবাসা থেকেই কথাগুলো বলছি। ১৩ বছর বয়সে মেসিকে যখন নিয়ে এসেছিলাম, তখন আমি সভাপতি ছিলাম। ব্যক্তি মেসির চেয়ে বার্সেলোনা বড়। ও নিঃসন্দেহে বিশ্বের সেরা ফুটবলার। ওর এই জায়গায় পৌঁছোনোর পিছনে বার্সেলোনার অবদানও রয়েছে। কতটা অবদান, বলতে চাই না। সেটা ওর ভুলে যাওয়া ঠিক নয়। এ জন্যই মেসিকে এখনও কিছুটা ছাড় দিচ্ছি। কিন্তু মেসি যদি সমর্থকদের বিদায় জানাতে বার্সেলোনায় না ফেরে, তা হলে আমার বিরক্তি আর বাড়বে।’’
আরও পড়ুন:
গাসপার্তে আরও বলেছেন, ‘‘সভাপতি যে হোক, মেসিকে বার্সেলোনায় এসে বিদায় জানাতে হবে। ও যদি মনে করে লাপোর্তা চলে যাওয়ার পর সংবর্ধনা নিতে আসবে, তা হলে আমি উপস্থিত থাকব না সেই অনুষ্ঠানে। ও নিজেকে কী মনে করে? লাপোর্তার সভাপতি থাকার উপর কেন মেসির ক্যাম্প ন্যুয়ে ফেরা নির্ভর করবে? মেসির এমন শর্তের জন্য লাপোর্তা ইস্তফা দিলে, আমি মেসির সংবর্ধনায় থাকব না।’’