টানা পাঁচ ম্যাচ পর জয়ে ফিরল ইন্টার মায়ামি। জয়ে ফেরালেন সেই লিয়োনেল মেসি। হ্যাটট্রিক-সহ একাই চার গোল করলেন এলএম টেন। তাঁর দাপটে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ম্যাচে মন্ট্রিয়েলকে ৭-১ ব্যবধানে হারাল মায়ামি।
প্রথম বার মায়ামির হয়ে কোনও ম্যাচে চারটি বা তার বেশি গোল করলেন মেসি। ফুটবলজীবনে এই নিয়ে আট বার একটি ম্যাচে অন্তত চারটি গোল করলেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। শেষ বার করেছিলেন ২০২০ সালে বার্সেলোনার হয়ে।
গত কয়েকটি ম্যাচে চেনা ছন্দে দেখা যাচ্ছিল না গত বারের এমএলএস চ্যাম্পিয়নদের। বিশ্বকাপ জিততে না পারা এবং বাবার মৃত্যুর হতাশা কাটিয়ে মেসি স্বমহিমায় ফিরতেই বদলে গেল মায়ামির চেহারা। গুরুত্বপূর্ণ জয় ছিনিয়ে নিয়ে খেতাবের দৌড়েও থাকল তারা। ফ্লোরিডায় ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট ছিল মায়ামির। মেসিদের আগ্রাসী ফুটবলের সামনে মন্ট্রিয়েল কিছুটা রক্ষণাত্মক হয়ে যেতে বাধ্য হয়। প্রতি আক্রমণমূলক ফুটবলে চলে যায় তারা। সুযোগ কাজে লাগিয়ে ২০ মিনিটের মাথায় দলকে এগিয়ে দেন ব্রাজিলীয় ফুটবলার ক্যাসেমিরো। বিশ্বকাপের পর মায়ামির হয়ে এটাই তাঁর প্রথম গোল। পিছিয়ে পড়লেও সমানে সমানে লড়াই করার চেষ্টা করেছেন মন্ট্রিয়েলের ফুটবলারেরা। ৩৭ মিনিটে তাদের হয়ে সমতা ফেরান ফ্যাবিয়ান হারবার্স। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শটে গোল করেন তিনি।
সমতা ফেরার পর শুরু হয় মেসি ম্যাজিক। প্রতিপক্ষকে আর সুযোগই দেননি মায়ামির ফুটবলারেরা। ৪০ মিনিটে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন মেসি। ফ্রিকিক থেকে মেসির বাঁক খাওয়ানো শটের নাগাল পাননি মন্ট্রিয়েলের গোলরক্ষক। প্রথমার্ধে আর গোল হয়নি। ৫২ মিনিটে প্রতিপক্ষের একাধিক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান বাড়িয়ে নেন মায়ামি অধিনায়ক।
মায়ামি ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর আক্রমণের ঝাঁজ কিছুটা কমায়। তবে ম্যাচের শেষ ১০ মিনিট একরকম ঝড় বইয়ে দেন মায়ামির ফুটবলারেরা। এই সময়েই হয় বাকি চার গোল। মেসিও হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। ৮০ মিনিটে মেসির কাছ থেকে বল পেয়ে ৪-১ করেন লুই সুয়ারেজ়। ৮৩ মিনিটে হ্যাটট্রিক করেন মেসি। জাতীয় দলের সতীর্থ রদ্রিগো ডি পলের কাছ থেকে বল পেয়ে মন্ট্রিয়েল গোলরক্ষক থমাস গিলিয়ের মাথার উপর দিয়ে গোল করেন। ৮৯ মিনিটে মায়ামির হয়ে ষষ্ঠ গোলটি করেন আলেকজান্ডার শ। সংযুক্ত সময় নিজের চতুর্থ গোলটি করেন মেসি। এই গোলটিও করেন ফ্রিকিক থেকে।
পয়েন্ট তালিকায় এখনও দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মায়ামি। শীর্ষে রয়েছে ন্যাশভিল। দু’দলের পয়েন্টের পার্থক্য ১০। এ বারের এমএলএসে ১৯ ম্যাচে ১৮ গোল হয়ে গেল মেসির। তিনিই এখন গোলদাতাদের তালিকায় শীর্ষে।