ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে বিপর্যস্ত রাজধানী। অন্য দিকে বাংলায় এখন তুঙ্গে শারদোৎসব। এই অবস্থায় আজ, শুক্রবার দিল্লিতে আইএসএলে স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লির মুখোমুখি হচ্ছে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট।
আন্দোলন এবং উৎসবের মধ্যে মোহনবাগান বনাম দিল্লি ম্যাচ নিয়ে সে রকম কোনও উন্মাদনা রাজধানীর বুকে নেই। তবে এই দলে মোটেও নেই মোহনবাগানের কোচ পানাইয়োটিস দিমপেরিস। আইএফএ শিল্ড জয়ের পরে প্রথম ম্যাচে নর্থ ইস্ট ইউনাইটেড এফসির বিরুদ্ধে ০-১ হারের পরে চাপে বাগানের গ্রিক কোচ। গোলের অসংখ্য সুযোগ নষ্ট করা কপালের ভাঁজ চওড়া করেছে পানোসের। সেই কারণে শুক্রবার প্রথম একাদশে কিছু পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।
এ দিন প্র্যাক্টিসে মূলত সেট-পিসের উপরে জোর দিয়েছে মোহনবাগান। সেই সঙ্গে ছিল পাসিং ফুটবলের মহড়াও। মোহনবাগানের হোটেল থেকে অনুশীলন মাঠের দূরত্ব ছিল প্রায় দেড় ঘণ্টা। সূত্রের খবর, দিল্লির বিরুদ্ধে প্রথম একাদশে শুরু করতে পারেন মিগুয়েল ফিগুয়েরা। ব্রাজ়িলীয় মিডফিল্ডারকে এখনও পর্যন্ত সবুজ-মেরুন জার্সিতে সেরা ছন্দে দেখা যায়নি। কার্ড সমস্যায় দিল্লির বিরুদ্ধে খেলতে পারবেন না দীপক টাংরি। ফলে আপুইয়ার সঙ্গে হয়তো শুরু করবেন অনিরুদ্ধ থাপা। মিগুয়েল শুরু করলে হয়তো স্ট্রাইকার হিসেবে খেলবেন মনবীর সিংহ। তাঁর সঙ্গী হবেন স্কটিশ স্ট্রাইকার লি আরউইন। তবে এখনও তিনি নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। দুই উইংয়ে খেলার সম্ভাবনা লালিয়ানজ়ুয়ালা ছাংতে এবং দেয়ান দ্রাজ়িচের। চোট সারিয়ে রিহ্যাব করা জেমি ম্যাকলারেনকেও দিল্লিতে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে তাঁর খেলার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এ ক্ষেত্রে জেমিকে নিয়ে অহেতুক তাড়াহুড়ো করতে চায় না মোহনবাগান দল পরিচালন সমিতি।
আইএসএলের উদ্বোধনে বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে ২-৩ হেরে গেলেও এসসি দিল্লির লড়াই প্রশংসিত হয়েছিল। এগিয়ে থাকলেও শেষ কোয়ার্টারে দু’গোল করে জয় তুলে নেয় বেঙ্গালুরু। মোহনবাগানের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে দিল্লির কোচ টমাস করজ় বলেছেন, “প্রত্যেক ম্যাচেই আমাদের লক্ষ্য একই থাকে— তিন পয়েন্ট পাওয়া। মোহনবাগানের বিরুদ্ধেও সেই ভাবনা নিয়েই খেলতে নামব। ওদের দলে অনেক তারকা থাকলেও আমরা তা নিয়ে ভাবতে রাজি নই। নিজেদের ধরন অনুযায়ী খেলতে চাই।”
গত মরসুমে সংক্ষিপ্ত সংস্করণের আইএসএলের শেষ ম্যাচে এসসি দিল্লির মুখোমুখি হয়েছিল মোহনবাগান। যুবভারতীতে আয়োজিত সেই ম্যাচে ২-১ গোলে জেতে সবুজ-মেরুন শিবির। কিন্তু সে দিনই ইন্টার কাশীকে একই ব্যবধানে হারিয়ে প্রথম বার আইএসএল জয়ের স্বাদ পায় ইস্টবেঙ্গল।
এ দিকে চলতি মরসুমে আইএসএলে প্রত্যেকটি ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছে ইউটিউবে। সেখানে নতুন রেকর্ড গড়েছে আইএসএল। সপ্তাহের প্রথম পাঁচটি ম্যাচেই ইউটিউবে প্রায় ৬ কোটি দর্শক সাক্ষী থেকেছেন আইএসএলের। দর্শকসংখ্যা ও জনপ্রিয়তার বিচারে শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে নর্থ ইস্ট ইউনাইটেড বনাম মোহনবাগান ম্যাচ। ইংরেজি ধারাভাষ্যে ম্যাচটি দেখেছেন প্রায় ১৭ মিলিয়ন দর্শক। হিন্দিতে ম্যাচটি দেখেছেন প্রায় এক লক্ষ ৬৬০ জন দর্শক। হিন্দিতে দর্শক সংখ্যার বিচারে ম্যাচটি রয়েছে শীর্ষে। সেই সঙ্গে আইএসএলের সরকারি ইউটিউব চ্যানেলে ১ লক্ষ ২০ হাজার গ্রাহক বেড়েছে। ফলে চ্যানেলটির মোট গ্রাহক সংখ্যা হয়েছে ২৭ লক্ষ।
শুক্রবার আইএসএলে: এসসি দিল্লি বনাম মোহনবাগান। সন্ধে ৭.৩০ থেকে। ইউটিউব ও সোনি লিভ অ্যাপে সরাসরি সম্প্রচার।