মোহনবাগান ১ (সাহাল)
জামশেদপুর ১ (দেবেন্দ্র)
(টাইব্রেকারে মোহনবাগান ৯-৮ ব্যবধানে জয়ী)
ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনালে উঠে গেল মোহনবাগান। সোমবার যুবভারতীতে তারা টাইব্রেকারে ৯-৮ ব্যবধানে হারাল জামশেদপুর এফসি-কে। নির্ধারিত সময়ে খেলার ফলাফল ছিল ১-১। এর পর টাইব্রেকারে দুই দলই প্রথম আটটি শটে গোল করে। নবম শটে জামশেদপুরের মামার শট বাঁচিয়ে দেন বিশাল কাইথ। অভিমিতেই গোল করে মোহনবাগানকে সেমিফাইনালে তুলে দেন। তবে গোটা ম্যাচে খারাপ ফুটবল খেলেছে মোহনবাগান। ধারেভারে অনেক এগিয়ে থাকলেও নির্ধারিত সময়ে বিদেশিহীন জামশেদপুরকে হারাতে পারেনি তারা।
পেনাল্টিতে প্রথম শট নিতে যায় জামশেদপুর। গোল করেন রিয়াতা। পাল্টা মোহনবাগানের রাহুল বেকে ১-১ করেন। দ্বিতীয় শট থেকে জামশেদপুরকে ২-১ এগিয়ে দেন রেনিয়ার। ২-২ করেন মোহনবাগানের সামির জেলকোভিচ। তৃতীয় শটে গোল করে জামশেদপুরকে ৩-২ এগিয়ে দেন আমন সিকে। মোহনবাগানকে সমতায় ফেরান শুভাশিস বসু। জামশেদপুরকে ৪-৩ এগিয়ে দেন অভিষেক। মোহনবাগানের হয়ে ৪-৪ করেন জেমি ম্যাকলারেন। জামশেদপুরকে ৫-৪ এগিয়ে দেন অধিনায়ক প্রণয় হালদার। মোহনবাগানের হয়ে পঞ্চম শট মারতে এসেছিলেন কিয়ান নাসিরি। তিনিও গোল করেন। ফলে পাঁচটি শট শেষে দুই দলই সব ক’টি প্রয়াসে গোল করে।
ষষ্ঠ শটে জামশেদপুরের হয়ে গোল করেন প্রভাত লাকরা। মোহনবাগানের হয়ে সমতা ফেরান অনিরুদ্ধ থাপা। সপ্তম শটে জামশেদপুরের হয়ে গোল প্রতীক চৌধরির। সপ্তম শটে গোল করেন আলবের্তো রদ্রিগেজ়। অষ্টম শটে গোল করেন জামশেদপুরের বারলা। সুহেল বাটের শটে হাত ঠেকিয়েও বাঁচাতে পারেননি আলবিনো গোমেজ়। ৮-৮ হয়। নবম শট নিতে এসেছিলেন জামশেদপুরের মামা। তাঁর শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে বাঁচিয়ে দেন বিশাল। নবম শটে গোল করে মোহনবাগানকে জিতিয়ে দেন অভিমিতেই।
এ দিন দুই বিদেশি আলবের্তো এবং দেজান দ্রাজিচকে প্রথম একাদশে রেখেছিলেন মোহনবাগান কোচ পানাজিয়োটিস দিমপেরিস। শুরুটাই স্বপ্নের মতো হয় মোহনবাগানের। দু’মিনিটেই জামশেদপুরের ফুটবলারের ভুলে এগিয়ে যায় মোহনবাগান। প্রণয় হালদার নিজেদের অর্ধে পাস দিয়েছিলেন রাশিথোইকে। কিন্তু সেই বল কেড়ে নেন দ্রাজিচ। তিনি পাস দেন সাহালকে। পোস্টের কোণে শট মেরে মোহনবাগানকে এগিয়ে দেন সাহাল। ডুরান্ড কাপে পঞ্চম গোল করে ফেলেন তিনি।
শুরুতে গোল করলেও মোহনবাগানের খেলায় সেই ঝাঁঝ লক্ষ করা যায়নি। জামশেদপুরই নিজেদের মধ্যে বল নিয়ন্ত্রণ করতে করতে আক্রমণের চেষ্টা করতে থাকে। ১৬ মিনিটের মাথায় প্রথম গোলে শট নেয় তারা। রিয়াতা মোহনবাগান বক্সের মধ্যে পাস দিয়েছিলেন আমন। ২৩ বছরের ফুটবলার কঠিন কোণ থেকে শট মারেন। বিশাল খুব ভাল ভাবে শট বাঁচান। জামশেদপুর চেষ্টা করছিল লম্বা বলে খেলতে। তবে খুব একটা সফল হচ্ছিল না তারা।
২৫ মিনিটে লিস্টন কোলাসো ফাউল করেন দেবেন্দ্রকে। রিয়াতা ফ্রিকিক নিয়েছিলেন। তা প্রতীক চৌধরীর মাথার উপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। চার মিনিট পরে দ্রাজিচের ফ্রিকিক অনায়াসে ক্লিয়ার করে জামশেদপুর। বিরতির ছ’মিনিট আগে একটি সহজ সুযোগ নষ্ট করে মোহনবাগান। বক্সের বাইরে বল পেয়েছিলেন সাহাল। কিন্তু বাঁপায়ে শট নিয়েছিলেন। প্রণয়ের পায়ে লেগে বল গোলের উপর দিয়ে বেরিয়ে যায়।
আরও পড়ুন:
প্রথমার্ধ শেষের কিছু ক্ষণ আগে সমতা ফেরায় জামশেদপুর। দূর থেকে শট নিয়েছিলেন রাশিথোই। বিশাল সেই শট বাঁচালেও বল নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। ফিরতি বলে গোল করেন দেবেন্দ্র। গোলের পর তিনি ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর কায়দায় উচ্ছ্বাস করেন।
দ্বিতীয়ার্ধে গোল করার সুযোগ বেশি তৈরি করতে থাকে মোহনবাগান। ডান প্রান্তে জেলকোভিচের সঙ্গে অভিষেক সিংহের জুটি জমে উঠছিল। সাহাল একটি সুযোগ নষ্ট করেন। ৬৫ মিনিটে গোলের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও নষ্ট করে মোহনবাগান। বাঁপ্রান্ত থেকে উঠে জামশেদপুরের বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন সাহাল। গোল ছেড়ে তাঁকে আটকাতে এগিয়ে এসেছিলেন আলবিনো। বক্সে ফাঁকা জায়গায় পাস দিলেও মোহনবাগানের কেউ সেই বল পাননি। ফলে সুযোগ নষ্ট হয়।
ম্যাচ যত এগোতে থাকে তত খেলা টাইব্রেকারের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। দুই দল নিজেদের মতো করে আক্রমণ চালিয়ে গেলেও গোল করার মতো ভাল সুযোগ তৈরি করতে পারেননি। খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখান থেকে জেতে মোহনবাগান।