E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

সমালোচনায় কান দিই না, জিতে জবাব পানোসের

“সমালোচনায় কান দিই না। নতুন করে প্রমাণ করার কিছু নেই। ফুটবলারদের উপরে আস্থা রেখেছি। সমর্থকদেরও বলব, বিশ্বাসটা রাখুন। এই দল আরও ট্রফি জিতবে,” সেই পরিচিত হাসি ঠোঁটে রেখে বলেগেলেন পানোস।

সুতীর্থ দাস

শেষ আপডেট: ০৯ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:৫২
হতাশা: ম্যাচ শেষে ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলাররা।

হতাশা: ম্যাচ শেষে ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলাররা। ছবি: সুমন বল্লভ।

তাঁকে নিয়ে শুরুর দিন থেকে কম সমালোচনা হয়নি। সাংবাদিক বৈঠকেও বারবার রণনীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মুখে হাসি নিয়ে শুধু বলে গিয়েছেন— ‘ফুটবলারদের উপরে বিশ্বাস রয়েছে।’

আইএফএ শিল্ড জয়ের পরেও বক্তব‌্যে কোনও বদল করেননি মোহনবাগানের কোচ পানাইয়োটিস দিমপেরিস। হ‌্যাঁ, তাতে যোগ হয়েছে আত্মবিশ্বাস। “সমালোচনায় কান দিই না। নতুন করে প্রমাণ করার কিছু নেই। ফুটবলারদের উপরে আস্থা রেখেছি। সমর্থকদেরও বলব, বিশ্বাসটা রাখুন। এই দল আরও ট্রফি জিতবে,” সেই পরিচিত হাসি ঠোঁটে রেখে বলেগেলেন পানোস।

শিল্ড জয়ের পরে যখন সকলে ছবি তুলতে ব‌্যস্ত, পানোস চলে গেলেন একেবারে এক ধারে। বুঝিয়ে দিলেন দলের আসল কারিগর কারা। ম‌্যাচের মধ‌্যে সন্দীপ মাণ্ডির সঙ্গে সংঘর্ষে কপালে চোট পান দেয়ান দ্রাজ়িচ। তাঁকে নিয়ে ঠাট্টা করলেন, “চোটের পরে দ্রাজ়িচ আরও ভাল খেলেছে।’’ হাসির কলরোলেও স্নেহের সেই পরশটা চোখ এড়ায়নি। পরে দ্রাজ়িচও বললেন, “আমরা সকলে একটা পরিবারের মতো। অনেকেই ফাইনালের আগে আমাদের পিছিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু নিজেরা এককাট্টা ছিলাম।”

তিন দিন পরেই নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে আইএসএলে অভিযান শুরু করছে মোহনবাগান। তার আগে শিল্ড জয় দলের যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে বলেও উল্লেখ করলেন মোহনবাগানের গ্রিক কোচ। “পঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে ম‌্যাচের পরে পারফরম‌্যান্সে উন্নতি ঘটেছে। আমরা আরও বেশি গোল করতে পারতাম। বলের নিয়ন্ত্রণ বেশি ছিল। আইএসএল শুরুর আগে শিল্ড জয় আমাদের আত্মবিশ্বাস কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিল”, বক্তব‌্য পানোসের।

ম‌্যাচের একমাত্র গোলদাতা সামির জেলকোভিচকে নিয়েও খুব একটা বাড়তি শব্দ খরচ করেননি পানাইয়োটিস। শুধু বললেন, “ওর থেকে যেটা চাইছিলাম সেই কাজটাই করেছে। যখনই সুযোগ পেয়েছে, তার সদ্ব‌্যবহার করেছে।”

ডুরান্ড কাপের ফাইনালে ডার্বিতে বিধ্বস্ত হওয়ার পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হননি পানাইয়োটিস। এ দিন সেই একই রাস্তায় হাঁটলেন ইস্টবেঙ্গলের কোচ আন্তোনিয়ো লোপেস হাবাসও। তবে শিল্ড খোয়ালেও তাঁর মুখভঙ্গিতে সেই হতাশার ছাপ দেখা যায়নি। কারণ হাবাসের পাখির চোখ এখন এএফসি।

শিল্ড মানেই মোহনবাগানের কাছে আবেগের। ১৯১১ সালের ২৯ জুলাই ইস্ট ইয়র্কশায়ারকে ২-১ গোলে হারানোর প্রসঙ্গ উঠলে এখনও রোমাঞ্চিত হয়ে পড়েন ফুটবলপ্রেমীরা। তাই তো বৃহস্পতিবারও ১৯১১-র সেই শিল্ড জয় নিয়ে ব‌্যানার চোখে পড়ল। আর ম‌্যাচ শেষের পরে সেই ব‌্যানার নিয়ে হাসতে হাসতে বাড়ির পথ ধরলেন সবুজ-মেরুন সমর্থকরা। যদিও গ‌্যালারিতে দর্শক সংখ‌্যা ছিল যথেষ্ট কম।

হাসতে হাসতে পরের ধাপের প্রস্তুতি নিতে শুরু করলেন পানোসও!

তৃপ্ত: শিল্ড জিতে হাসি মুখে পানাইয়োটিস।

তৃপ্ত: শিল্ড জিতে হাসি মুখে পানাইয়োটিস। — নিজস্ব চিত্র

ইস্টবেঙ্গল: পূর্বা লাচেনপা, হার্দিক ভট্ট, লাল চুংনুঙ্গা, দিয়েগো জিভুলিচ, জয় গুপ্ত (লুকাস জ়োলিনস্কি), সন্দীপ মান্ডি (পি ভি বিষ্ণু), জিকসন সিংহ, বিপিন সিংহ, দানি রামিরেজ (আকে লোবা), এডমুন্ড লালরিনডিকা (ক্রিস ইকোনোমিডিস), মহম্মদ রশিদ।

মোহনবাগান: বিশাল কেথ, রাহুল ভেকে, মেহতাব সিং, আলবার্তো রদ্রিগেস, অভিষেক সিংহ, লালিয়ানজ়ুয়ালা ছাংতে (অনিরুদ্ধ থাপা), সাহাল আব্দুল সামাদ (মনবীর সিংহ), দীপক টাংরি, সামির জেলকোভিচ, দেয়ান দ্রাজিচ (সুহেল বাট), লি হ্যারি আরউইন(লিস্টন কোলাসো)।


এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Mohun Bagan East Bengal

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy