ডুরান্ড কাপের দ্বিতীয় ম্যাচেই ছন্দে ইস্টবেঙ্গল। সিআইএসএফ প্রোটেকটরসকে ৮-০ গোলে হারাল তারা। হ্যাটট্রিক করলেন পিভি বিষ্ণু। জোড়া গোল জেসিনের। গোটা ম্যাচে অসাধারণ খেললেন কেরলের দুই ফুটবলার। এ ছাড়া, এ দিন ইস্টবেঙ্গলের একাধিক শট পোস্ট এবং বারে না লাগলে জয়ের ব্যবধান আরও বাড়ত।
প্রথম ম্যাচে লড়াই করেও মোহনবাগানের কাছে হেরে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। দ্বিতীয় ম্যাচে গোলে ফুর্বা লাচেনপাকে এনেছিলেন ইস্টবেঙ্গলের কোচ আন্তোনিয়ো লোপেজ় হাবাস। দানি রামিরেজ এবং মহম্মদ রশিদকে বিদেশি হিসাবে রেখেছিলেন প্রথম একাদশে।
দুর্বল সিআইএসএফ-র বিরুদ্ধে শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তুলে দেয় ইস্টবেঙ্গল। চার মিনিটেই বিষ্ণুর শট লাগে পোস্টে। এর পর এডমুন্ড লালরিনডিকার শট প্রতিহত হয়। জিকসন সিংহের শট অল্পের জন্য বাইরে যায়। পরে আবার বিষ্ণুর শট অল্পের জন্য বাইরে যায়। প্রথমার্ধে একের পর এক সুযোগ তৈরি করেও গোল পাচ্ছিল না ইস্টবেঙ্গল। সমর্থকেরাও অধৈর্য হয়ে যাচ্ছিলেন।
অবশেষে গোল আসে ৩৮ মিনিটে। এত ক্ষণ ধরে গোলের চেষ্টা করে অবশেষে সফল হন বিষ্ণু। এডমুন্ড বক্সে ঢুকে বল সাজিয়ে দেন বিষ্ণুকে। তিনি ব্যাক হিল করে বল জালে জড়ান। চার মিনিট পরেই দ্বিতীয় গোল ইস্টবেঙ্গলের। এ বার বাঁ প্রান্ত থেকে ক্রস ভাসিয়েছিলেন বিষ্ণু। সিআইএসএফ-এর অধিনায়ক মহম্মদ খালিদের গায়ে লেগে বল জালে জড়িয়ে যায়। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে আরও একটি গোল করে ইস্টবেঙ্গল। রামিরেজ বল নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে কাছে এনেছিলেন বিপক্ষের খালিদ এবং রাজকে। পর ক্ষণেই ফাঁকায় থাকা জিকসনকে বল বাড়ান। জিকসন সেই বল ধরে গোল করেন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে চতুর্থ গোল করে ইস্টবেঙ্গল। বাঁ প্রান্ত থেকে বিষ্ণুর উদ্দেশে ক্রস করেছিলেন সন্দীপ মান্ডি। ওভারহেড কিকে বল জালে জড়ান বিষ্ণু। এর পর লাল-হলুদের দাপটে দিশাহারা দেখাচ্ছিল সিআইএসএফ-কে। ইস্টবেঙ্গলকে আটকানোর পথই খুঁজে পাচ্ছিল না তারা। এর পর ১২ মিনিটের ব্যবধানে চারটি গোল করে তারা।
৬৪ মিনিটে জেসিন দূর থেকে শট মেরেছিলেন। তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ইস্টবেঙ্গলের প্রতি আক্রমণ। ডান দিক থেকে বল পেয়ে গোল করেন বিপিন সিংহ। দু’মিনিট পরে লালচুংনুঙ্গা দূরপাল্লার শট মেরেছিলেন। তাঁর শট গোলপোস্টে লেগে যায় রাজের কাছে। এর পর জেসিনের শট বাঁচিয়ে দেন রাজ। কয়েক সেকেন্ড পরেই এডমুন্ডের শট লাগে পোস্টে।
আরও পড়ুন:
৭০ মিনিটে অবশেষে গোল করেন জেসিন। ডান দিক থেকে বল পেয়ে নিচু শটে গোল করেন তিনি। ৭৫ এবং ৭৬ মিনিটে পর পর গোল করে ইস্টবেঙ্গল। প্রথমে জেসিন, তার পর বিষ্ণু গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন।