নিউ টাউনে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সেন্টার অব এক্সেলেন্সের সামনে ভারতীয় দলের টিম বাস এসে দাঁড়াতেই একদল তরুণ দৌড়ে এলেন। তাঁদের একমাত্র উদ্দেশ্য রায়ান উইলিয়ামসকে এক ঝলক দেখা। সুনীল ছেত্রী-উত্তর ভারতীয় ফুটবলে তিনিই যে এখন প্রধান ভরসা।
বেঙ্গালুরুর কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে পানামার বিরুদ্ধে রায়ানই গোল করে এগিয়ে দিয়েছিলেন ভারতকে। যদিও শেষ পর্যন্ত ১-১ ড্র হয়েছিল ম্যাচ। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলে আসা ফিফা ক্রমতালিকায় ৯৪ ধাপ এগিয়ে থাকা দলের বিরুদ্ধে ড্র এতটাই বদলে দিয়েছে ভারতীয় ফুটবলকে, পাঁচ বারের বিশ্বসেরা ব্রাজ়িলকেও বাড়তি সমীহ করছেন না রায়ানরা। বদলে গিয়েছে ফুটবলারদের প্রত্যেকের শরীরীভাষা। মঙ্গলবার বিকেলে অনুশীলনে নামার আগে আনন্দবাজারকে একান্ত সাক্ষাৎকারে রায়ান খোলাখুলিই বললেন, ‘‘ব্রাজিল আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল। তাই এই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আমরা নেওয়ার চেষ্টা করব— এ রকম ভাবা হয়তো একটু বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে। ব্রাজ়িলকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে। কিন্তু ভয় পেলে চলবে না।’’
নরওয়ের কাছে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে ব্রাজ়িল বিদায় নিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম আন্তর্জাতিক ফ্রেন্ডলিতে ১-১ ড্র করেছিলেন ভিনিশিয়াস জুনিয়ররা। মঙ্গলবার ৪-২ জিতেছে ব্রাজ়িল। গোল করেছেন বেন্ডারসন, রাফিনহা (পেনাল্টি), ব্রুনো গিমারেস ও ভিনিশিয়াস (পেনাল্টি)। ব্রাজ়িলের জয়ের খবর পেয়েই হয়তো অনুশীলনে আরও বেশি মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন রায়ান। কখনও পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে গোলার মতো শটে গোল করলেন। কখনও আবার গোলরক্ষককে কাটিয়ে গোল করার মহড়া দিলেন।
রায়ানের জন্ম অস্ট্রেলিয়ার সুবিয়াকোতে। তাঁর মা অড্রে উইলিয়ামস ভারতীয়। থাকতেন মুম্বইয়ে। রায়ানের দাদু (মায়ের বাবা) লিঙ্কন মুম্বইয়ের হয়ে সন্তোষ ট্রফিতেও খেলেছেন। বড় ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মাত্র ১৬ বছর বয়সে ইংল্যান্ডে চলে গিয়ে রায়ান যোগ দিয়েছিলেন পোর্টসমাউথে। খেলেছেন ফুলহ্যামের মতো ক্লাবেও। বলছিলেন, ‘‘ইংল্যান্ডে বিভিন্ন ক্লাবে থাকার সময় প্রিমিয়ার লিগের দলের বিরুদ্ধে এফএ কাপে প্রচুর ম্যাচ খেলেছি। শিখেছি—এই ধরনের ম্যাচে প্রতিপক্ষকে সামান্য জায়গা দিলেই বিপর্যয় অনিবার্য।’’ কেন? ভারতীয় দলের স্ট্রাইকারের ব্যাখ্যা, ‘‘ধরুন, আপনি এক মুহূর্তের জন্য মনঃসংযোগ হারালেন বা নিজের জায়গায় থাকলেন না। ওরা সঙ্গে সঙ্গে সেই জায়গায় বল দিয়ে দেবে। সেখান থেকেই গোল তুলে নেবে। তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্তে মনঃসংযোগ ধরে রাখা। কারণ সামান্য সময়ের জন্যও যদি মনঃসংযোগ নষ্ট হয়, এই মানের ফুটবলার এবং দল আপনাকে শাস্তি দেবে।’’
ব্রাজ়িলের বিরুদ্ধে ভারতের রণকৌশল কী হবে? রায়ান বললেন, ‘‘এই ধরনের দলের বিরুদ্ধে, এমন কিছু সময় আসে যখন আপনি বলই পাবেন না। সেই সময় বল ছাড়া খেলায় স্বচ্ছন্দ থাকতে হবে। আবার যখন বল আমাদের কাছে আসবে, তখন দ্রুত আক্রমণে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে এবং বিপক্ষের রক্ষণকে সমস্যায় ফেলতে হবে।’’ যোগ করলেন, ‘‘পানামা ম্যাচের আগে আমাদের ভাবনাটা একটু অন্য রকম ছিল। আমরা ফলের চেয়ে ভাল খেলার উপরে বেশি নজর দিয়েছিলাম। তার ফলও পেয়েছিলাম। ম্যাচের পরে আক্ষেপও হয়েছিল জিততে না পারার জন্য। এখন এই আত্মবিশ্বাস আমাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে, বড় দলের বিরুদ্ধেও ভাল ফল করতে পারি। পানামা ম্যাচ প্রত্যেকের মানসিকতাই বদলে দিয়েছে।’’
রায়ান যে একটুও বাড়িয়ে বলেননি, জয় গুপ্তর কথাতেই স্পষ্ট। বললেন, ‘‘কপিল দেবের নেতৃত্বে বিশ্বকাপ জেতার পরেই ভারতীয় ক্রিকেটে বিপ্লব ঘটে গিয়েছিল। আমরাও ফুটবলে বিপ্লব আনতে চাই।’’
এ দিকে, মঙ্গলবার বিকেলে যুবভারতীতে ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবেকে সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ জানালেন, আগামী ২ অক্টোবর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সান্ধ্যভোজন করবেন ভারত (পুরুষ ও মহিলা), ব্রাজ়িল, উরুগুয়ে ও রাশিয়া দলের সদস্যদের সঙ্গে। পাশাপাশি জানালেন, রাশিয়ার মহিলা দলের বিরুদ্ধে ভারতের দু’টি আন্তর্জাতিক ফ্রেন্ডলি (৮ ও ১১ অক্টোবর)হবে যুবভারতীতে।