Advertisement
E-Paper

পরের বিশ্বকাপের ফাইনাল কোথায়? লড়াই লেগে গেল দুই দেশের! ধীরে চলো নীতিতে জল মাপছে ফিফা

ফুটবল শক্তি, বিশ্বকাপে সাফল্য, পরিকাঠামোর নিরিখে স্পেন। এ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নও তারা। সে দিক থেকে ফাইনাল আয়োজনের দায়িত্ব পাওয়া উচিত স্পেনের। মরক্কোর যুক্তি, ফিফার চক্র অনুযায়ী দায়িত্ব পাওয়া উচিত আফ্রিকার।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৬ ১৭:৪১
Picture of Football

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

আগামী বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ ছ’টি। শতবর্ষ উপলক্ষ্যে তিনটি মহাদেশ মিলিয়ে প্রতিযোগিতা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিফা। আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে, প্যারাগুয়ে, পর্তুগাল, স্পেন এবং মরক্কোয় হবে ম্যাচগুলি। তবে সমস্যা তৈরি হতে পারে ফাইনাল নিয়ে।

কারা পাবে ফাইনালের দায়িত্ব? ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলি লড়াইয়ে নেই। প্রথম বিশ্বকাপের স্মৃতি ফেরাতে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের প্রথম তিনটি ম্যাচ হবে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে এবং প্যারাগুয়েতে। শুরুর তিনটি ম্যাচ বাদে পুরো বিশ্বকাপ হবে স্পেন, পর্তুগাল এবং মরক্কোয়। এই নিয়মের কারণে ফাইনাল আয়োজনের সম্ভাবনা থাকছে ইউরোপের দু’টি এবং আফ্রিকার একটি দেশের।

ফুটবল শক্তি, বিশ্বকাপে সাফল্য, পরিকাঠামোর নিরিখে বাকি দু’দেশের চেয়ে এগিয়ে স্পেন। এ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নও তারা। সে দিক থেকে দেখলে ফাইনাল আয়োজনের দায়িত্ব পাওয়া উচিত স্পেনের। কিন্তু ফাইনাল আয়োজনের দাবিতে অনড় মরক্কো। তাদের যুক্তি, ফিফার চক্র মানলে আগামী বার ফাইনালের দায়িত্ব পাওয়া উচিত আফ্রিকার। ২০১০ সালের পর আফ্রিকায় বিশ্বকাপ হয়নি। তার পর দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ, এশিয়া এবং উত্তর আমেরিকায় বিশ্বকাপ হয়েছে। এই যুক্তিতে ফাইনাল আয়োজনের দায়িত্ব তাদেরই প্রাপ্য।

২০২২ সালের বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠেছিলেন আশরফ হাকিমিরা। এ বারও শেষ আট পর্যন্ত পৌঁছেছেন। স্পেন আবার ২০১০ সালের পর এ বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে। বিশ্বকাপে সাম্প্রতিক ফলাফলে পর্তুগালের চেয়ে এগিয়ে দু’দেশই। পরিকাঠামোর দিক থেকেও অনেক পিছিয়ে পর্তুগাল। কোনও ভাবেই ফাইনাল আয়োজনের লড়াইয়ে ঢুকতে পারছে না ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর দেশ। তাই তেমন চেষ্টাও করছে না।

বিশ্বকাপের ম্যাচের জন্য ১৯টি স্টেডিয়ামকে বেছে নিয়েছে ফিফা। স্পেনের ১১টি, মরক্কোর ছ’টি এবং পর্তুগালের তিনটি স্টেডিয়াম ছাড়পত্র পেয়েছে। কিন্তু যে কোনও স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফাইনাল সম্ভব নয়। সব আধুনিক সুবিধাযুক্ত স্টেডিয়াম প্রয়োজন। মাঠের মান, দর্শকাসনের সংখ্যাও গুরুত্বপূর্ণ। এখানেই অনেকটা এগিয়ে স্পেন। ঘরোয়া ফুটবলের পরিকাঠামো কাজে লাগিয়েই স্পেনে বিশ্বমানের যে কোনও প্রতিযোগিতা আয়োজন সম্ভব। বার্সেলোনা নতুন করে গড়ে তুলেছে তাদের ন্যু ক্যাম্প। আধুনিক ঝাঁ চকচকে স্টেডিয়াম। পিছিয়ে নেই রিয়াল মাদ্রিদও। ১৯১ কোটি ডলার বা প্রায় ১৯ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা দিয়ে নতুন করে গড়ে তোলা হয়েছে সান্তিয়াগো বের্নাবিউকে। বিশ্বকাপ ফাইনালের জন্য স্পেনের বাজি রিয়ালের ঘরের মাঠ। কারণ, এই স্টেডিয়ামে একাধিক বড় প্রতিযোগিতার ফাইনাল আয়োজিত হয়েছে। ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালও হয় বের্নাবিউয়ে। তা ছাড়া, স্পেনই আগামী বিশ্বকাপের মূল আয়োজক।

বসে নেই মরক্কোও। বিশ্বকাপের জন্য আফ্রিকার দেশটি তৈরি করছে অত্যাধুনিক হাসান ২ গ্র্যান্ড স্টেডিয়াম। মরক্কোর দাবি, নতুন স্টেডিয়ামের দর্শকাসন হবে ১ লাখ ১৫ হাজার। বিশ্বের বৃহত্তম ফুটবল স্টেডিয়াম তৈরি করা হচ্ছে বিপুল খরচ করে। বিশ্বকাপ ফাইনাল হওয়া উচিত বিশ্বের বৃহত্তম ফুটবল স্টেডিয়ামে।

বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে স্পেন এবং মরক্কো একসঙ্গে কাজ করছে। দু’দেশের ফুটবল সংস্থা এবং সরকার হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছে। কিন্তু ফাইনাল আয়োজনের প্রশ্নে যে যার দাবি এবং অবস্থানে অনড়। মরক্কোর নগরায়ন দফতরের মহানির্দেশক সুসি ইয়াসির স্পেনের সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘‘ফাইনাল আমাদের চাই। বের্নাবিউয়ের কথা আমরাও জানি। সংস্কার হলেও ওটা পুরনো। আমাদের হাসান ২ একদম নতুন। ফিফার প্রতিটি শর্ত পূরণ করে অত্যাধুনিক ভাবে তৈরি করা হচ্ছে। ফাইনাল তো সবচেয়ে আধুনিক স্টেডিয়ামেই হওয়া উচিত।’’ ইয়াসির বলেছেন, ফাইনাল আয়োজনের লক্ষ্যেই তাঁরা ১০০ লক্ষ ইউরো (প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা) খরচ করছেন নতুন স্টেডিয়ামের জন্য।

স্পেনের ফুটবল সংস্থার প্রধান রাফায়েল লুজ়ান বলেছেন, ‘‘আমরা অনেক কিছু শুনছি। মনে রাখতে হবে, আয়োজকদের মধ্যে আমরাই বিশ্বকাপের সফলতম দেশ। আমাদের ধারেকাছেও কেউ নেই। আমাদের ফুটবল এবং পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তোলার জায়গা নেই। এর পরও ২০৩০-র ফাইনালের দায়িত্ব না পেলে কিছু বলার নেই। এখন শুধু এটুকুই বলব, আমরা চেষ্টার কোনও ত্রুটি করছি না।’’

পরিস্থিতি আন্দাজ করে ধীরে চলো নীতি নিয়েছে ফিফা। ঠিক যেমন এ বারের বিশ্বকাপের জন্য নিউ জার্সিকে বেছে নেওয়া হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। ২০৩০ সালের ফাইনালের কেন্দ্রও এত দ্রুত চূড়ান্ত করতে চাইছেন না ফিফা কর্তারা। নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারেন তাঁরা। সেই সময়ের বাস্তব পরিস্থিতি বিচার করে সিদ্ধান্ত নেবেন। সেই সময়ের মধ্যে মরক্কো হাসান–২ নির্মাণের কাজ প্রত্যাশামতো না এগোলে সুবিধা পেয়ে যাবে বের্নাবিউ।

final Spain Morocco fifa

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy