সেই বিশাল কাইথ। টাইব্রেকারে চোখ বন্ধ করে তাঁর উপর ভরসা করা যায়। বার বার ভরসার দাম দেন তিনি। আরও এক বার টাইব্রেকারে মোহনবাগানের নায়ক হয়ে উঠলেন বিশাল। জোড়া পেনাল্টি বাঁচালেন। পঞ্জাব এফসিকে টাইব্রেকারে ৪-৩ হারিয়ে আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে উঠল মোহনবাগান।
নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও পরের অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে গোল করতে পারেনি কোনও দল। মোহনবাগানের অধিনায়ক শুভাশিস বসু খেলার শেষ দিকে একটি গোল করলেও অফসাইডে তা বাতিল হয়। শেষে টাইব্রেকারে হল ফয়সালা।
টাইব্রেকারে পঞ্জাবের হয়ে প্রথম শটে গোল করেন মেসিবৌলি। বাগানের হয়ে প্রথম শট নিতে যান রাহুল ভেকে। গোল করেন তিনি। পঞ্জাবের হয়ে দ্বিতীয় শটে গোল করেন অর্শবীর সিংহ। অধিনায়ক শুভাশিস গোল করে সমতা ফেরান। তার পরেই বিশালের জাদু। পঞ্জাবের তৃতীয় ও চতুর্থ শট নিতে গিয়েছিলেন শাইজ়া ও বিশাল যাদব। দু’টি শটই বাঁচিয়ে দেন বিশাল। বাগানের হয়ে আলবের্তো রদ্রিগেজ় তৃতীয় গোল করেন। চতুর্থ শটে দেজান দ্রাজিচ গোল করতে পারলেই জিতে যেত মোহনবাগান। তাঁর শট বাঁচিয়ে দেন পরিবর্ত হিসাবে নামা পঞ্জাবের গোলরক্ষক মুহিত শাবির। পঞ্চম শটে পঞ্জাবের হয়ে গোল করেন ঋষিকান্ত। বাগানের হয়ে শেষ শট নিতে যান মিগুয়েল ফিগুয়েরা। কয়েক দিন আগে নর্থইস্টের বিরুদ্ধে পেনাল্টি ফস্কেছিলেন তিনি। কিন্তু এই ম্যাচে ভুল করেননি মিগুয়েল। গোল করে দলকে ফাইনালে তোলেন তিনি।
নিজের পুরনো দলের বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিলেন মোহনবাগান কোচ পানাজিয়োটিস দিমপেরিস। শুরু থেকে আলবের্তো, দ্রাজিচ, সমির জেলকোভিচ ও লি ইরউইনকে নামিয়েছিলেন তিনি। ৮ মিনিটের মাথায় পঞ্জাবের বক্সের বাইরে আশিস রাইকে ফাউল করা হয়। গুরুতর চোট পান তিনি। আর খেলতে পারেননি। আশিসকে তুলে নামাতে হয় অভিষেক সূর্যবংশীকে।
ফ্রি কিক থেকে শট মেরেছিলেন ইরউইন। কোনওমতে তাতে হাত লাগান অর্শদীপ সিংহ। বল পোস্টে লেগে বেরিয়ে যায়। নইলে গোল পেয়ে যেত বাগান। দুই দলই রক্ষণ সামলে আক্রমণে ওঠার পরিকল্পনা করেছিল। ফলে মাঝমাঠেই বেশি খেলা হচ্ছিল। বক্সের সামনে গিয়ে গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না দুই দল।
তার মাঝেই ৩৭ মিনিটের মাথায় বিশুর শট ভাল বাঁচান বিশাল। আলবের্তোর পায়ে লেগে বল দিক পরিবর্তন করেছিল। গোলে ঢুকে যেতে পারত। কিন্তু সজাগ ছিলেন বিশাল। পরের মিনিটে জেলকোভিচের ক্রসে দুর্দান্ত ভলি মারেন লালিয়ানজুয়ালা ছাংতে। কিন্তু বল সরাসরি অর্শদীপের কাছে যায়। একটু দূরে থাকলে তাঁর কিছু করার থাকত না। গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় দু’দল।
দ্বিতীয়ার্ধে লিস্টন কোলাসোর বদলে পঞ্চম বিদেশি মিগুয়েলকে নামিয়ে দেন দিমপেরিস। পঞ্জাবের কোচ গোলরক্ষক অর্শদীপকে তুলে নামান মুহিতকে। দ্বিতীয়ার্ধেও একই ফুটবল হচ্ছিল। দেখে মনে হচ্ছিল না, কোনও দল গোল করতে পারবে।
আরও পড়ুন:
৮৫ মিনিটের মাথায় মিগুয়েলের ফ্রি কিক থেকে হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন বাগানের অধিনায়ক শুভাশিস। কিন্তু ফ্রি কিক নেওয়ার আগে অফসাইডে ছিলেন তিনি। পতাকা তোলেন লাইন্সম্যান। গোল বাতিল হয়। খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
শেষ ৩০ মিনিটেও গোল হয়নি। গোলের জন্য সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুহেল ভাটকেও নামিয়ে দেন দিমপেরিস। কিন্তু কোনও দলই অপর দলের রক্ষণকে ভাঙতে পারেনি। শেষ কয়েক মিনিটের খেলা দেখে মনে হচ্ছিল, টাইব্রেকারে জিততে চাইছে দু’দল। সেখানেই বাজিমাত করলেন বিশাল।
২৪ ঘণ্টা আগে যুবভারতী স্টেডিয়ামে ব্রাজ়িলের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে জোড়া গোল হজম করেছেন গুরপ্রীত সিংহ সঁধু। অথচ বিশালকে ভারতীয় দলে নেননি কোচ খালিদ জামিল। অনেকেই বলেন, এখন ভারতের সেরা গোলরক্ষক বিশাল। তার পরেও তিনি সুযোগ পাচ্ছেন না। সুযোগ পেলে কী করতে পারেন, তার আরও একটি ঝলক দেখিয়ে দিলেন মোহনবাগানের গোলরক্ষক।