এবারের বিশ্বকাপে প্রত্যেক রেফারির চোখের কাছে পাসে লাগানো ছিল একটি করে ক্যামেরা। তাতে ধরা পড়ছিল ম্যাচের সব মুহূর্ত। কী ভাবে গোল হয়েছে বা ফাউল হয়েছে, তা রেফারি কী ভাবে দেখেছেন, সব ধরা পড়ছিল সেই ক্যামেরায়। বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা-স্পেন ম্যাচের সব মুহূর্ত ধরা পড়েছে রেফারি স্লাভকো ভিনচিচের ক্যামেরায়। সেই ফুটেজই সামনে এসেছে। ফাইনালের মতো ম্যাচ তিনি কী ভাবে সামলেছিলেন, তা ধরা পড়েছে।
শুরুটা হয়েছে স্টেডিয়ামের টানেলে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ম্যাচ শুরুর আগে রদ্রি, কুকুরেয়াদের জড়িয়ে ধরছেন মেসি। দু’দলের ফুটবলারেরা একে অপরের সঙ্গে করমর্দন করছেন। যদিও খেলা শুরুর পর সেই সৌহার্দের ছবি আর ধরা পড়েনি।
আর্জেন্টিনার এনজ়ো ফের্নান্দেজ় ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে সতর্ক করেন ভিনচিচ। তাঁরা বার বার ফাউল করছিলেন। ভিনচিচ তাঁদের বলেন, “এটাই শেষ হুঁশিয়ারি। এর পর হলে কার্ড দেখাব।” মেসির পা থেকে রদ্রির বল কেড়ে নেওয়ার দৃশ্যও ক্যামেরাবন্দি হয়েছে।
ভিনচিচের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে মেসি ও ইয়ামালের বল দখলের লড়াইও। মেসির মতো ফুটবলারের প্রভাব যে ভিনচিচের কোনও সিদ্ধান্তে পড়েনি তা-ও ধরা পড়েছে। রেফারির একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে মেসি প্রতিবাদ করলে ভিনচিচ বলেন, “লিয়ো, আমি সবটা দেখছি।”
আরও পড়ুন:
পরিবর্ত হিসাবে নামার পর থেকে বার বার ফাউল করছিলেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। নেমে ২ মিনিটের মাথায় হলুদ কার্ড দেখেন তিনি। তার পারেও তাঁর ফাউল থামছিল না। তাঁকে সামলানোর নির্দেশ মেসিকে দেন রেফারি। ভিনচিচকে বলতে শোনা যায়, “মেসি, পারেদেসকে সামলাও। ও হলুদ কার্ড দেখেছে। আমি চাই না, ও লাল কার্ড দেখুক। ওকে দয়া করে সামলাও।”
খেলা শেষ হওয়ার পরেও চোখের পাসে থাকা ক্যামেরা সরাননি ভিনচিচ। ফলে তিনি যখন পুরস্কার নিতে উঠছেন, সেই দৃশ্যও ক্যামেরাবন্দি হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে বলছেন, “খুব ভাল কাজ করেছো।” হাসিমুখে ভিনচিচকে মেডেলও পরান ট্রাম্প।