এশিয়ান গেমস থেকে বিদায় নিয়েছেন পি ভি সিন্ধু। পদক জেতার স্বপ্ন অধরা থেকে গিয়েছে তাঁর। বিদায়ের পর এশিয়াডের সূচিকে দোষারোপ করেছেন সিন্ধু। তাঁর দাবি, ২৪ ঘণ্টায় তাঁকে তিনটি ম্যাচ খেলতে হয়েছে। তার প্রভাব পড়েছে খেলায়। রিকভারির সময় না পাওয়ায় যথেষ্ট লড়াই করতে পারেননি।
শনিবার সিন্ধুকে দু’টি ম্যাচ খেলতে হয়েছে। দ্বিতীয় ম্যাচটি শেষ হয়েছে স্থানীয় সময় রাত একটা নাগাদ। আবার রবিবার দুপুরে খেলতে হয়েছে। চিনের চেন ইউফেইয়ের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছেন তিনি। সিন্ধু বলেছেন, “সূচি যে ভাবে তৈরি হয়েছে তা মোটেই ভাল নয়। সঠিক পরিকল্পনার অভাব ছিল। শনিবার অনেক রাতে ঘুমিয়েছি। দিনে দুটো ম্যাচ খেলেছি। আবার রবিবার খেলতে হয়েছে। রিকভারির কোনও সময়ই পাইনি।”
২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনটি ম্যাচ খেলতে হয়েছে সিন্ধুকে। কী ভাবে তৈরি করেছিলেন নিজেকে? সিন্ধুর উত্তর, “মানসিক ভাবে প্রস্তুত হওয়ার থেকেও রিকভারি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আপনার মনে হবে যে ভাল খেলছেন। কিন্তু শারীরিক ভাবে আপনি হয়তো কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছতে পারছেন না। লম্বা র্যালি খেলতে হয় আমাদের। রিকভারি তো দরকার। আপনি হয়তো শাটলের কাছে পৌঁছতে চাইছেন কিন্তু পা নড়ছে না। এমনিতে ভালই খেলেছি। কিন্তু সূচি আরও ভাল হওয়া দরকার ছিল।”
সূচি নিয়ে ক্ষোভ শোনা গিয়েছে আর এক খেলোয়াড় উন্নতি হুডার গলাতেও। তিনিও বিদায় নিয়ে বলেছেন, “হারের নেপথ্যে সূচিকে পুরোপুরি দোষ দিতে চাই না। কিন্তু আরও ভাল ভাবে সূচি তৈরি করা উচিত ছিল।”
কোয়ার্টার ফাইনালে সিন্ধুর কিছু ‘লাইন কল’ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ ছিল না। কারণ সিন্ধুর কোর্টে ‘হক আই’ প্রযুক্তি ছিল না। সেগুলি ছিল ১ ও ২ নম্বর কোর্টে। সিন্ধু খেলেছেন ৪ নম্বর কোর্টে।
আরও পড়ুন:
এ প্রসঙ্গে সিন্ধু বলেছেন, “কোর্টে কোনও ক্যামেরা ছিল না, যা বেশ দুঃখজনক। আমার মনে হয়েছে ২-৩টে শট লাইনে পড়েছে। এশিয়ান গেমসের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে ক্যামেরা থাকাটা প্রত্যাশিত। সেই পয়েন্ট পেলে এগিয়ে থাকতে পারতাম। ক্যামেরা থাকলে রিভিউ নেওয়া যায়। আমরা চ্যালেঞ্জ করতে পারি। কখনও সখনও লাইনে শাটল পড়লেও বিচারক বলেন বাইরে গিয়েছে। তখন চ্যালেঞ্জ করলে পয়েন্ট পাওয়া যায়। সেটা সুবিধা তো বটেই।”
পরের এশিয়ান গেমসে খেলার ব্যাপারেও ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন সিন্ধু। বলেছেন, “যদি তখনও খেলার ইচ্ছা থাকে নিশ্চয়ই খেলবে। চোটমুক্ত থাকতে হবে। সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ধাপে ধাপে এগোতে চাই। প্রতিটা বছর ধরে ধরে এগোচ্ছি।”