সিমকার্ডের নিয়মে বড় বদল। এ বার টেলি পরিষেবা ব্যবহারের ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দিল কেন্দ্র। ফলে আর ইচ্ছামতো একের পর এক সিমকার্ড কিনতে পারবেন না গ্রাহক। সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে ইতিমধ্যেই জারি হয়েছে সার্কুলার। তাতে এক জন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ক’টি সিমকার্ড পেতে পারেন, তা স্পষ্ট করেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। সেইমতো প্রশাসনিক নির্দেশও পেয়ে গিয়েছে সরকারি-বেসরকারি যাবতীয় টেলি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা।
গত সোমবার, অর্থাৎ ১৭ অগস্ট সিমকার্ড নিয়ে সার্কুলার জারি করে টেলি যোগাযোগ দফতর। তাতে বলা হয়, এক জন গ্রাহক সর্বোচ্চ ন’টি মোবাইল সংযোগ পেতে পারেন, তার বেশি নয়। তার পরেও কেউ সিমকার্ড কিনতে চাইলে, তাঁর আবেদন বাতিল করতে হবে। আগামী ২৪ অগস্ট থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর করবে কেন্দ্র।
আরও পড়ুন:
সংশ্লিষ্ট সার্কুলারে আরও একটি বিষয় স্পষ্ট করা হয়েছে। সেটা হল, ন’টি সংযোগের অর্থ এই নয় যে প্রতিটা টেলিকম সংস্থার ন’টি করে সিমকার্ড। উদাহরণ হিসাবে যদি কোনও ব্যক্তির ৪টি এয়ারটেল, ৩টে জিয়ো এবং ২টি ভোডাফোন-আইডিয়ার সিমকার্ড থাকে, তা হলে আর কোনও সংযোগ নিতে পারবেন না তিনি।
সারা ভারতের জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য হলেও জম্মু-কাশ্মীর, অসম এবং উত্তর-পূর্বের লাইসেন্সপ্রাপ্ত পরিষেবা এলাকাগুলির নিয়ম আবার আলাদা। সেখানকার বাসিন্দারা সর্বোচ্চ ছ’টি মোবাইল সংযোগ নিতে পারবেন। যাঁদের কাছে নির্ধারিত সীমার বেশি সিমকার্ড রয়েছে, তাঁদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। অতিরিক্ত সিমকার্ড জমা করা, স্থানান্তর বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সুযোগ পাবেন গ্রাহক।
আরও পড়ুন:
মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের অনেকেই নিজের নামে সিমকার্ড কিনে তা আত্মীয় বা বন্ধুবান্ধবদের ব্যবহার করতে দিয়ে থাকেন। এ ক্ষেত্রে পরিষেবা নথিবদ্ধ থাকছে তাঁরই নামে। ফলে নতুন সংযোগের আবেদনের সময় বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে তাঁকে।
নতুন নিয়মে এক ব্যক্তির কাছে ক’টি সিমকার্ড রয়েছে, সেটা বিচার্য বিষয় নয়। ক’টি সংযোগ নথিভুক্ত রয়েছে, সেটাই খতিয়ে দেখবে সরকার। তবে ন’য়ের বেশি সিমকার্ড থাকলে আত্মীয় বা বন্ধুবান্ধবের নামে সেটার রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন গ্রাহক। এ বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলিকে কার নামে ক’টি সিমকার্ড আছে, তা জানাতে বলেছে কেন্দ্র।
আরও পড়ুন:
টেলি যোগাযোগ দফতরের দাবি, একাধিক সিমকার্ড ব্যবহারের জেরে দেশে বাড়ছে প্রতারণা। আর্থিক জালিয়াতিতে ঢালাও ব্যবহার হচ্ছে সেগুলি। আর তাই মোবাইল সংযোগের ক্ষেত্রে কড়াকড়ির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিমকার্ড বিলির ক্ষেত্রে ছবিভিত্তিক যাচাইকরণ পদ্ধতি চালু করেছে কেন্দ্র। এর জেরে অপরাধের সূচক নিম্নমুখী হবে বলে আশাবাদী মোদী প্রশাসন।