ধনতেরাসের আগে সোনা নিয়ে সুখবর। আগামী দিনে হয়তো ‘ঘরে বসে’ই তাল তাল সোনা তৈরি করাতে পারবেন অলঙ্কার ব্যবসায়ীরা! তা হলে কি ভবিষ্যতে কমতে চলেছে ‘হলুদ ধাতু’র গয়নার দাম? কতটা সস্তা হবে সীতাহার, আংটি, বালা বা নাকছাবি? আনন্দবাজার ডট কম-এর এই প্রতিবেদনে রইল তার হদিস।
দীর্ঘ দিন ধরেই গবেষণাগারে সোনা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছেন দুনিয়ার তাবড় রসায়নবিদদের একাংশ। পারদ থেকে ‘হলুদ ধাতু’ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। কারণ, পারদের পরমাণুতে রয়েছে ৮০টি প্রোটন। অন্য দিকে, ৭৯টা প্রোটনে তৈরি সোনার পরমাণু।
আর তাই রসায়নবিদদের দাবি, কৃত্রিম উপায়ে পারদকে ‘হলুদ ধাতু’তে বদলে দেওয়া একেবারেই কঠিন নয়। পরমাণু থেকে একটি প্রোটন কমাতে পারলেই চরিত্র বদলে সোনায় রূপান্তরিত হবে পারদ। সম্প্রতি, এই গবেষণায় মার্কিন স্টার্টআপ ‘ম্যারাথন ফিউশন’-এর সাফল্যের খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্ব জুড়ে পড়েছে শোরগোল।
উল্লেখ্য, গত বছর (পড়ুন, ২০২৫ সাল) গবেষণাগারে সীসা থেকে ‘হলুদ ধাতু’ তৈরি করে হইচই ফেলে দেয় ‘ইউরোপীয়ান অর্গানাইজ়েশন ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ’ বা সার্ন। ২৯ পিকোগ্রাম সোনা বানাতে সক্ষম হয় তারা, যেটি খালি চোখে প্রায় দেখাই যায় না।
আরও পড়ুন:
মার্কিন স্টার্টআপ ‘ম্যারাথন ফিউশন’-এর দাবি, পারদ থেকে এর চেয়ে ১০ গুণ বেশি ‘হলুদ ধাতু’ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে তারা। তবে, সেটির গাণিতিক পরিমাণও শূন্যের চেয়ে কম। আর তাই, এর সঠিক পরিমাণ আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশ করেনি যুক্তরাষ্ট্রের ওই সংস্থা।
ফলে, বাণিজ্যিক ভাবে সস্তায় কৃত্রিম সোনা উৎপাদন করা সম্ভব কি না, তা এখনই বলা কঠিন। পাশাপাশি, ওই ‘হলুদ ধাতু’ থেকে তেজস্ক্রিয় বিকিরণের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই, নির্মাণের পরও ১৫-১৬ বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে না ওই কৃত্রিম সোনা। ফলে, খুব দ্রুত যে অলঙ্কারের দাম কমছে না, তা বলাই বাহুল্য।