ভারতীয় স্টেট ব্যাঙ্ক (এসবিআই), পিএইচপি থেকে শুরু করে ইমুদ্রা, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে লাগাতার সাইবার হামলার মুখে পড়ছে বিশ্ব। এই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন বাইন্যান্স। বর্তমানে ক্রিপ্টো মুদ্রা লেনদেনের বৃহত্তম প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দুনিয়া জোড়া খ্যাতি রয়েছে তাদের। সেই প্ল্যাটফর্মে ঢুকেই চোখের নিমেষে হ্যাকাররা ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার হাতিয়ে নিয়েছে বলে সূত্র মারফত মিলেছে খবর।
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, সাইবার হামলার মুখে পড়ে বাইন্যান্স। অভিযোগ, ক্রিপ্টো মুদ্রা লেনদেনের প্ল্যাটফর্মটিতে ঢুকে লাগাতার টাকা সরাতে থাকে উত্তর কোরিয়ার (পড়ুন, ডেমোক্রেটিক পিপলস রিপাবলিক অফ কোরিয়া) কুখ্যাত ‘ট্রেডারট্রেইটর’ নামের হ্যাকার গোষ্ঠী। বিষয়টি নজরে আসতেই তড়িঘড়ি যাবতীয় পরিষেবা স্থগিত করে দেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরে অবশ্য এতে আংশিক ছাড় দেয় বাইন্যান্স।
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, সাইবার হামলার কথা স্বীকার করে এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করে ক্রিপ্টো মুদ্রা লেনদেনের ওই প্ল্যাটফর্ম। বাইন্যান্স জানিয়েছে, ‘‘হ্যাকার হানায় টাকা জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া প্রভাবিত হয়নি। তবে, টাকা তোলা আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।’’ আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সেটি পুনরায় চালু করা যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছে তারা। পাশাপাশি, নিরাপত্তার কোথায় গলদ ছিল, সেটিও খুঁজে বার করার চেষ্টা চলছে।
বাইন্যান্সে এই ধরনের সাইবার হামলা নতুন নয়। গত বছর (পড়ুন, ২০২৫ সাল) ক্রিপ্টো মুদ্রা লেনদেনের প্ল্যাটফর্মটিতে ঢুকে ১৫০ কোটি মার্কিন ডলার সরিয়ে ফেলে হ্যাকারদের গ্যাং। বলা বাহুল্য, এ বার সেই রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছে তাঁরা। অন্য দিকে, বার বার একই ঘটনা ঘটায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে বাইন্যান্সের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
ক্রিপ্টো মুদ্রা লেনদেনের প্ল্যাটফর্মটির দাবি, কোটি কোটি ডলার সরাতে সরাসরি তাদের সার্ভারে ঢোকে হ্যাকারদের দল। সেই কারণেই সাইবার অপরাধীদের ‘হাত সাফাই’ আটকানো যায়নি। সমাজমাধ্যমের দেওয়ালে বাইন্যান্স লিখেছে, ‘‘ব্লকচেন অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের কিছুটা ফেরত আনা হয়েছে।’’ তার অঙ্ক ৩০০ কোটি ডলার বলে জানা গিয়েছে। বাকি টাকাও উদ্ধারের চেষ্টা করছে তারা।
বর্তমানে বিশ্বের ১০০-র বেশি দেশে বাইন্যান্সের ৩০ কোটিরও বেশি গ্রাহক রয়েছেন। এঁদের মধ্যে ক’জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তা অবশ্য জানা যায়নি। তবে, সংস্থাটির মার্কিন শাখা ‘বাইন্যান্স ইউএস’-এ কোনও প্রভাব পড়েনি। অন্য দিকে, প্ল্যাটফর্মটির ভারতীয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা নিয়েও কোনও সরকারি পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।
অক্টোবরের শেষের দিকে ডার্ক ওয়েবে ফাঁস হয় ভারতীয় স্টেট ব্যাঙ্কের (এসবিআই) ৩,৮৯৭ জন গ্রাহকের তথ্য। এর দু’তিন দিনের মাথাতেই ওয়েবসাইট তৈরি ও ব্যবহারে বহুল ব্যবহৃত ‘প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ’ পিএইচপি-তে ত্রুটি ধরা পড়ায় সতর্কতা জারি করে মার্কিন প্রশাসন। এর পর দুর্বল ‘প্রাইভেট কি’-র হদিস মেলায় বিশ্বব্যাপী ওয়েবসাইটের ডিজিটাল শংসাপত্রের ব্যবসা বন্ধ করে বেঙ্গালুরুর সংস্থা ইমুদ্রা।