মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে স্কুলে পালিয়ে পাশের পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে জলে ডুবে মৃত্যু হল একাদশ শ্রেণির দুই ছাত্রের। মৃতদের নাম প্রথম দাশগুপ্ত (১৭) এবং শিবম পাল (১৭)। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
স্থানীয় ও স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, দু’জনেই অশোকনগর বয়েজ় সেকেন্ডারি স্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। মঙ্গলবার তারা স্কুলে না-ঢুকে স্কুলের পাশে পিরবাবার পুকুরে মাছ ধরতে যায়। গামছা ব্যবহার করে মাছ ধরার সময় কোনও ভাবে পুকুরে পড়ে যায় দু’জনেই। তাদের সঙ্গে ছিল আরও এক ছাত্র। দুই বন্ধুকে জলে ডুবে যেতে দেখে চিৎকার শুরু করে সে। তার চিৎকার শুনে আশপাশের বাসিন্দা এবং স্কুলের শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
আরও পড়ুন:
স্থানীয় কয়েক জন প্রথমে জলে নেমে প্রথম দাশগুপ্তকে উদ্ধার করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় অশোকনগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এর পর দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা ধরে দ্বিতীয় ছাত্র শিবম পালের খোঁজে পুকুরে তল্লাশি চালানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি অশোকনগর থানার সিভিক ভলান্টিয়াররাও জলে নেমে তল্লাশি চালান। শেষপর্যন্ত কচুরিপানার নীচ থেকে শিবমের দেহ উদ্ধার হয়।
প্রথম দাশগুপ্তের বাড়ি অশোকনগর পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে। তার বাবা-মা দু’জনেই প্রয়াত। তাই হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করত সে। শিবম পালের বাড়ি অশোকনগর-কল্যাণগড় পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডে। তার বাবা একটি গেঞ্জির কারখানায় কাজ করেন। ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছে দুই পরিবার।
স্থানীয়দের দাবি, অতীতেও পিরবাবার এই পুকুরে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এর পরেও পুকুরটির নিরাপত্তা নিয়ে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। একাধিক বার এই ধরনের ঘটনা ঘটার ফলে পুকুরটি ঘিরে দেওয়া, সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকেরা। ঠিক কী ভাবে দুই ছাত্র জলে তলিয়ে গেল, তা খতিয়ে দেখছে অশোকনগর থানার পুলিশ।