E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

নতুন জেটি তৈরি হয়েও বন্ধ, জলযানে ওঠা ঝুঁকি নিয়েই

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের অগস্ট মাসে জেটির কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কয়েক মাস আগে তা শেষ হয়। তবুও এখনও তা ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হয়নি। অভিযোগ, জেটি না থাকায় নৌকোয় ওঠানামার সময়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হচ্ছে কখনও কখনও।

প্রসেনজিৎ সাহা

শেষ আপডেট: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:১০
ঝুঁকি নিয়ে এ ভাবেই চলছে যাতায়াত।

ঝুঁকি নিয়ে এ ভাবেই চলছে যাতায়াত। — নিজস্ব চিত্র।

প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ে বাসন্তীর সোনাখালিতে হোগল নদীর উপরে রাজ্য পরিবহণ দফতর তৈরি করেছে পনটুন জেটি। কিন্তু ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হয়নি বলে নদীর পাড় থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখনও কাঠের পাটাতন বেয়ে লঞ্চ বা ভুটভুটিতে ওঠানামা করতে হচ্ছে পর্যটকদের। বাসন্তীর বিডিও সঞ্চিতা ঘোষ বলেন, ‘‘আমি মাত্র কিছুদিন হল এই ব্লকে যোগ দিয়েছি। বিষয়টি জানা নেই, খোঁজ নিয়ে দেখব।’’

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের অগস্ট মাসে জেটির কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কয়েক মাস আগে তা শেষ হয়। তবুও এখনও তা ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হয়নি। অভিযোগ, জেটি না থাকায় নৌকোয় ওঠানামার সময়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হচ্ছে কখনও কখনও। দ্রুত যাতে এই জেটি পর্যটকদের জন্য ও এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয়, সেই দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সুন্দরবনে এখন বর্ষার মরসুমে চলছে ইলিশ উৎসব। হাজার হাজার মানুষ প্রায় প্রতিদিনই আসছেন। ক্যানিং থেকে সোনাখালি পর্যন্ত সড়কপথে গিয়ে বর্তমানে সোনাখালি থেকেই জলযানে চাপেন ৮০ শতাংশ পর্যটক। দীর্ঘদিন ধরে ভগ্ন জেটি দিয়ে ওঠানামা করতে হত তাঁদের। ২০২৪ সালে পর্যটন ব্যবসায়ীদের অনুরোধে বাসন্তী পঞ্চায়েত সমিতির উদ্যোগে রাজ্য পরিবহণ দফতর সোনাখালিতে পনটুন জেটি তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়। দেরিতে কাজ শেষ হলেও এখনও পর্যন্ত জেটি সবার জন্য খুলে দেওয়া হয়নি বলে কার্যত প্রাণ হাতে করে কাঠের পাটাতনের উপর দিয়ে লঞ্চ বা ভুটভুটিতে ওঠা নামা করতে হচ্ছে পর্যটকদের।

লঞ্চের এক কর্মচারী সনাতন সর্দার বলেন, ‘‘পর্যটকদের ওঠানামা করতে খুবই সমস্যা হয়। বিশেষত মহিলা, বয়স্ক ও শিশুদের। জোয়ারের সময়ে কিছুটা সমস্যা কম হলেও ভাটার সময়ে এ ভাবে ওঠানামা করতে অনেকেই ভয় পান।’’ তাঁরা জানাচ্ছেন, পাটাতন থেকে পড়ে গিয়ে বিপত্তিও হয়েছে বহুবার। পর্যটন ব্যবসায়ী সুবোধ সরকার, নিতাই রাহারা বলেন, ‘‘এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ জেটি। দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা খুব খারাপ অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরছেন। জেটি তৈরি হয়ে গেলেও কেন সকলের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে না?’’

ঠিকাদার সংস্থা কাজ সম্পূর্ণ করে জেটি পরিবহণ দফতরকে আদৌ হস্তান্তর করেছে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে ব্লক প্রশাসন। তবে ঠিকাদার সংস্থার মালিক মহম্মদ নিজাম বলেন, ‘‘কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। পরিবহণ দফতরকে হস্তান্তরও করা হয়েছে।’’ বাসন্তীর বিজেপি নেতা বিকাশ সর্দার বলেন, ‘‘যাতে দ্রুত এটিকে সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়, সেই দাবি পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংহের কাছে জানিয়েছি।’’ এ নিয়ে পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংহের প্রতিক্রিয়া জানতে ফোন করলে তিনি ফোন ধরেননি, মেসেজেরও উত্তর দেননি।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Jetty Passengers

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy