মাঝরাস্তায় ঝগড়ায় জড়িয়েছিলেন এক দম্পতি। অচিরে তা পৌঁছোল রক্তারক্তির পর্যায়ে। স্ত্রীকে রাস্তার উপর কুপিয়ে মেরে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন স্বামী। বুধবার উত্তর ২৪ পরগনার সোদপুরের ঘটনা।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত যুবতীর নাম গীতা দাস। বয়স ৩৩ বছর। বুধবার সোদপুরের ফিউচার গেট এলাকার স্কুল রোডে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপান এক যুবক। অনেকের চোখের সামনে ওই ঘটনা ঘটেছে। কেউ কিছু করার আগেই ওই যুবক রক্তাক্ত ছুরি দিয়ে নিজের পেটেও আঘাত করেন। হুলস্থুল পড়ে যায় রাস্তায়। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ গিয়ে দু’জনকে উদ্ধার করে। তবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মারা গিয়েছেন গীতা। তাঁকে খুন করে আত্মহত্যার চেষ্টা যিনি করেছেন, তাঁর শারীরিক অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
পরে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি গীতার স্বামী। নাম সুভাষ দাস। প্রায়শই সুভাষ এবং তাঁর স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি লেগে থাকত। বুধবার সকালেও তা-ই হয়েছে। ফিউচার গেট এলাকায় রাস্তার উপরে দু’জনের মধ্যে বচসা শুরু হয়। মনে করা হচ্ছে, খুনের লক্ষ্য নিয়ে আগে থেকেই ছুরি সঙ্গে রেখেছিলেন তিনি। ঝগড়ার সময় ছুরি বার করে গীতার উপর এলোপাথাড়ি হামলা চালান। রক্তাক্ত অবস্থায় যুবতী মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আশপাশের মানুষজন তাঁকে উদ্ধার করতে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু তাঁদের দিকেও ছুরি নিয়ে সুভাষ তেড়ে যান বলে অভিযোগ। তার পরে নিজের পেটে ওই ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। পুরো ঘটনা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ঘটে যায়। রক্তাক্ত স্ত্রীকে জড়িয়ে রাস্তার উপরে পড়ে থাকেন সুভাষ।
খড়দহ থানার বিশাল পুলিশবাহিনী গুরুতর আহত অবস্থায় দু’জনকে উদ্ধার করে সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যায়। চিকিৎসকেরা গীতাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁর স্বামী চিকিৎসাধীন। তাঁর অস্ত্রোপচার হবে।
এর মধ্যে এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই রাস্তা এবং এলাকায় অহরহ নানা অসামাজিক কাজ হয়। পুলিশ-প্রশাসনের বিশেষ নজরদারির দাবি তোলেন কেউ কেউ। ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের উপ-নগরপাল কার্তিকচন্দ্র মণ্ডল-সহ পুলিশের পদস্থ কর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।