E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

বৃষ্টি থামলেও আতঙ্ক বেহাল নদীবাঁধ নিয়ে

সোমবার সন্দেশখালির সাহেবখালি পঞ্চায়েতের ১৯১ নম্বর বুথে রায়মঙ্গল নদীর বাঁধের প্রায় ১০০ ফুট অংশ ধসে যায়। মঙ্গলবার বাঁধের আরও প্রায় ১৫০ ফুট অংশে ধস নামে।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১৯ অগস্ট ২০২৬ ০৯:১৬
পাথরপ্রতিমার জি প্লটের গোবর্ধনপুরে চলছে নদী বাঁধ মেরামতির কাজ।

পাথরপ্রতিমার জি প্লটের গোবর্ধনপুরে চলছে নদী বাঁধ মেরামতির কাজ। ছবি: সমরেশ মণ্ডল।

বৃষ্টি থামলেও বাঁধ নিয়ে আতঙ্ক কাটছে না। নিম্নচাপের জেরে রবিবার রাত থেকে শুরু হয়ে সোমবার দিনভর বৃষ্টি হয়েছে দুই জেলার প্রায় সর্বত্র। টানা বৃষ্টিতে উপকূল এলাকায় একাধিক নদী বাঁধে ধাস নেমেছে। লোকালয়ে জল ঢোকার পরিস্থিতি তৈরি না হলেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে। মঙ্গলবার বৃষ্টি থামায় বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে নানা জায়গায়। এর মধ্যেই এ দিন ফের বাঁধে ধস নেমেছে সন্দেশখালিতে।

সোমবার সন্দেশখালির সাহেবখালি পঞ্চায়েতের ১৯১ নম্বর বুথে রায়মঙ্গল নদীর বাঁধের প্রায় ১০০ ফুট অংশ ধসে যায়। মঙ্গলবার বাঁধের আরও প্রায় ১৫০ ফুট অংশে ধস নামে। গ্রামবাসীদের আশঙ্কা, যে কোনও মুহূর্তে রায়মঙ্গলের জোয়ারের জল ঢুকে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে। এ দিন সেচ দফতরের আধিকারিকেরা বাঁধ পরিদর্শনে গেলেও কাজ শুরু হয়নি বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের। স্থানীয় বাসিন্দা সুনীল বৈদ্য বলেন, “বাঁধ দিন দিন যেভাবে ধসে যাচ্ছে, মাটি নরম হয়ে গিয়েছে। যে কোনও মুহূর্তে গ্রামে জল ঢুকতে পারে।” সন্দেশখালির বিধায়ক সনৎ সর্দার বলেন, “বুধবার থেকেই মেরামতের কাজ শুরু হয়ে যাবে।”

সাগরের চকফুলডুবি, বোটখালি, মহিষামারি এবং মৌসুনি দ্বীপের বালিয়াড়া, নারায়ণপুর-সহ বিভিন্ন এলাকায় নদীবাঁধেও ধস নামে। কোথাও কোথাও ৫০ থেকে ১০০ মিটার পর্যন্ত বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ দিন সকাল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলিতে মেরামতির কাজ শুরু করেছে সেচ দফতর। পাথরপ্রতিমার জি প্লট পঞ্চায়েতের ইন্দ্রপুর এলাকাতেও চলছে মেরামতির কাজ। স্থানীয় বাসিন্দা মনোজ জানা বলেন, “আমরা চাই কংক্রিটের বাঁধ হোক, সবাই নিরাপদে বসবাস করি।” এর মধ্যেই গঙ্গাসাগরের কপিলমুনি আশ্রম সংলগ্ন সৈকতে উত্তাল ঢেউয়ের তোড়ে এক থেকে পাঁচ নম্বর পর্যন্ত স্নানের ঘাট ভেঙে গিয়েছে। উপড়ে পড়েছে একাধিক বড় গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি। জোয়ারের সময়ে জলস্তর অস্বাভাবিক বেড়ে আশ্রমের দিকে এগিয়ে আসায় আতঙ্ক ছড়ায়।

সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী দীপঙ্কর জানা বলেন, “দুর্যোগ কেটে যাওয়ায় সেচ দফতর দ্রুততার সঙ্গে ধস নেওয়া নদীবাঁধগুলি মেরামতিতে হাত লাগিয়েছে। আগামী দিনে বেশ কিছু জায়গায় কংক্রিটের নদীবাঁধ তৈরির কাজ হবে।”

অন্য দিকে, টানা বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ডায়মন্ড হারবারের জাতীয় সড়ক বরাবর হুগলি নদীর বাঁধ। সেচ দফতরের তরফে ধস নামা জায়গায় প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা নিয়ে সেচ দফতর দ্রুত স্থায়ী ভাবে বাঁধের কাজ শুরু করবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে ডায়মন্ড হারবারের মহকুমাশাসক, জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ ও সেচ দফতরের আধিকারিক এবং ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি বিস্তারিত আলোচনা করেন প্রাক্তন বিধায়ক দীপক হালদার। সেচ দফতর সূত্রের খবর, বাঁধের প্রায় ১০০ মিটার নদী গর্ভে ভেঙে পড়েছে। টানা বৃষ্টির জেরে বাঁধের মাটি নরম হয়ে যাওয়াতেই এই বিপত্তি বলে আধিকারিকদের অনুমান। কয়েক বছর আগে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের অদূরে জাতীয় সড়কে ধস নেমেছিল। মহকুমাশাসক অয়ন দত্তগুপ্ত বলেন, “বাঁধের উপরে নজর রাখা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেদিকেও নজর রয়েছে।”

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Heavy Rainfall sandeshkhali

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy