Advertisement
E-Paper

‘মরে যেতাম’! মমতার গাড়িতে ছোড়া হল চটি-কাদা, দেওয়া হল ‘চোর’ স্লোগান! প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে ঘিরে বিক্ষোভ বীজপুরের রাস্তায়

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলেন লোকসভার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন। তাঁরাও বিক্ষোভের মুখে পড়ে ক্ষোভ উগরে দেন শুভেন্দু অধিকারীর সরকার এবং রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ অগস্ট ২০২৬ ১৫:০৩
বীজপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বীজপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —নিজস্ব চিত্র।

কাঁচরাপাড়ায় পুলিশি হেফাজতে মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হল। ছোড়া হল কাদা-ছেঁড়া চটি। দেওয়া হল ‘চোর-চোর’ স্লোগান।

বিজেপির অভিযোগ, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উস্কানি দিতে এসেছেন কাঁচরাপাড়ায়। সাধারণ মানুষ তার প্রতিবাদ করেছে। অন্য দিকে, মমতা তোপ দাগেন রাজ্য সরকারকে। পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও নিশানা করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি গুন্ডাদের দিয়ে এই কাজ করিয়েছে। মমতা বলেন, ‘‘নিরাপত্তা ভুলে যান। লুম্পেনদের প্রোটেকশন দিচ্ছে পুলিশ! বাংলা তো লুম্পেনদের হাতে চলে গিয়েছে। আমরা কেস করব।’’ তিন বারের মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, তাঁর গাড়িতে বড় বড় ইট ছোড়া হয়েছে। তিনি অভিযোগের সুরে বলেন, ‘‘আমার মাথা ফেটে যেত। এখানে আমরা মরে যেতাম। পুলিশ বিজেপিকেই প্রোটেকশন দিচ্ছে।’’ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের পাল্টা দাবি, বিজেপির কোনও কর্মী এই বিক্ষোভে ছিলেন না।

রবিবার মমতার কাঁচরাপাড়া সফরে সঙ্গী ছিলেন লোকসভার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন। তাঁরাও বিক্ষোভের মুখে পড়ে ক্ষোভ উগরে দেন প্রশাসনের বিরুদ্ধে। কল্যাণ বলেন, ‘‘শুভেন্দু অধিকারী পুলিশ দিয়ে রাজত্ব চালাচ্ছেন। মাফিয়াদের দিয়ে কাজ করাচ্ছেন।’’ বীজপুরের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি ঘিরে রাখতে হয় পুলিশকে।

উল্লেখ্য, তোলাবাজি-সহ বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে কাঁচরাপাড়া পুরসভার তৃণমূলের পদত্যাগী কাউন্সিলরের স্বামী বিরজু কেওটকে গ্রেফতার করেছিল হালিশহর থানার পুলিশ। শুক্রবার তাঁকে আদালতেও হাজির করানো হয়েছিল। বিচারক তাঁর পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। কিন্তু শনিবার জানা যায়, পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে কাঁচরাপাড়া পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর জেনি শর্মা কেওটের স্বামীর। জেনির অভিযোগ, লকআপের ভিতরে পুলিশের মারধরে তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের তরফে এই ঘটনায় কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রবিবার মমতা কেওটের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে বলেন, ‘‘এ রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বলে আর কিছু নেই।’’ তাঁর আরও অভিযোগ, মৃতের পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে বিজেপি।

বীজপুরের বিজেপি বিধায়ক সুদীপ্ত দাসের প্রতিক্রিয়া, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরনো রাজনীতি এটাই। শকুন যেমন লাশ খোঁজে, উনিও খোঁজেন পশ্চিমবঙ্গের কোনও মৃত্যু নিয়ে কী ভাবে সংবাদমাধ্যমে থাকা যায়। কারণ, উনি রাজনীতিতে এখন অপ্রাসঙ্গিক। পাড়ার ছেলে এবং বিধায়ক হিসাবে মৃতের পরিবারের পাশে আছি আমি। আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছি পরিবারের সঙ্গে। যাঁদের বাড়িতে এটা হয়েছে, তাঁরা কিছু বলছেন না। তাঁরা আমাদের উপর ভরসা রেখেছেন। লকআপে মৃত্যু নিয়ে আইনি সহযোগিতা করতেও প্রস্তুত আমরা। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনীতি খুঁজতে বেরিয়েছেন।’’

মমতা তাঁর গাড়িতে ইট-পাথর ছোড়ার অভিযোগ করেছেন। এ নিয়ে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্য, ‘‘যদি কেউ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে পাথর, কাদা বা চপ্পল ছোড়ে,তবে বিজেপি তাদের সমর্থন করে না। এই ঘটনায় কোনও বিজেপি কর্মী জড়িত নন এবং আমরা চাই না যে রাজ্যের প্রাক্তন মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি এমন আচরণ করা হোক। এমনটা হলে ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গেরই মুখ কালো হবে। আমরা এই ঘটনার নিন্দা জানাই এবং যদি এমনটা ঘটে থাকে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অধীনস্থ পুলিশ এর বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেবে।’’

Mamata Banerjee Bijpur

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy