সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগী ও তাঁদের পরিজনদের দীর্ঘদিনের অন্যতম সমস্যা ছিল, স্বল্প খরচে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার, পরিস্রুত পানীয় জল এবং শৌচাগারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। সেই সমস্যার অনেকটাই সমাধান হতে চলেছে হাবড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। সোমবার থেকে সেখানে আনুষ্ঠানিক ভাবে চালু হল ‘মা আহার’ ক্যান্টিন। একই সঙ্গে উদ্বোধন করা হল বিনামূল্যে শৌচাগার, ঠান্ডা পানীয় জলের প্রকল্প এবং ন্যায্যমূল্যে চা-কফি পরিষেবা।
পরিষেবার উদ্বোধন করেন হাবড়ার বিধায়ক দেবদাস মণ্ডল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘মা আহার’ প্রকল্পের মাধ্যমে মাত্র ৫ টাকায় রোগীর আত্মীয়-পরিজন এবং সাধারণ মানুষ পুষ্টিকর খাবার পাবেন। খাবারের তালিকায় থাকবে মাছ-ভাত-সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী। কম খরচে স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের এই ব্যবস্থা চালু হওয়ায় বহু মানুষ উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
হাবড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি নদিয়া জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা থেকেও বহু রোগী আসেন। অনেককে দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থাকতে হয়। তাঁদের সঙ্গে থাকা পরিবারের সদস্যদের বাইরে বেশি দামে খাবার কিনতে হত বা অনেক সময়ে ঠিকমতো খাবারও জুটত না। ‘মা আহার’ চালু হওয়ায় সেই সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে বলে আশা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।
শুধু খাবারের ব্যবস্থাই নয়, এদিন হাসপাতাল চত্বরে বিনামূল্যে শৌচাগারেরও উদ্বোধন করা হয়েছে। এতদিন হাসপাতালের পর্যাপ্ত শৌচাগারের অভাবে রোগী ও তাঁদের আত্মীয়-পরিজনদের সমস্যায় পড়তে হত।
বিশেষ করে দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষদের দুর্ভোগ ছিল বেশি। নতুন এই শৌচাগার চালু হওয়ায় সেই সমস্যা অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন হাসপাতাল ব্যবহারকারীরা।
হাসপাতাল চত্বরে পরিস্রুত ঠান্ডা পানীয় জলের প্রকল্প চালু হয়েছে। এ ছাড়াও, ন্যায্যমূল্যে চা-কফির কাউন্টার চালু হওয়ায় হাসপাতালে দীর্ঘ সময় থাকা মানুষদের বাড়তি সুবিধা হবে।
বিধায়ক বলেন, “এতদিন হাসপাতালে শৌচাগারের ব্যবস্থা ছিল না। ফলে রোগীর আত্মীয়-পরিজনদের চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হত। এখন থেকে তাঁরা বিনামূল্যে এই সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি, ৫ টাকায় পুষ্টিকর খাবার, ঠান্ডা পানীয় জল এবং ন্যায্যমূল্যে চা-কফির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ।”
এদিন হাসপাতালের অনুষ্ঠানের পাশাপাশি হাবড়ার রাউতারা পঞ্চায়েতের কোলা গ্রামেও একটি ঠান্ডা পানীয় জল প্রকল্পের উদ্বোধন করেন বিধায়ক দেবদাস মণ্ডল। তিনি জানান, শহর ও গ্রাম—উভয় এলাকাতেই সাধারণ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় নাগরিক পরিষেবা আরও উন্নত করতে ধারাবাহিক ভাবে কাজ করা হচ্ছে।