E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

হোটেল অজস্র, নেই আগুন নেভানোর ব্যবস্থা

তারাপীঠ ও কলকাতার দুই হোটেলে আগুনে বেশ কয়েক জনের মৃত্যু হয়েছে। কী পরিস্থিতি জেলার পর্যটনকেন্দ্রের হোটেলগুলির? খোঁজ নিল আনন্দবাজার। আজ সুন্দরবন।

প্রসেনজিৎ সাহা

শেষ আপডেট: ২৬ অগস্ট ২০২৬ ০২:০৬
ইলিশ উৎসবে উপচে পড়া ভিড় সুন্দরবনে।

ইলিশ উৎসবে উপচে পড়া ভিড় সুন্দরবনে। নিজস্ব চিত্র ।

দুই ২৪ পরগনার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলির মধ্যে অন্যতম সুন্দরবন। সারা বছরই সুন্দরবনে দেশ বিদেশের লক্ষ লক্ষ পর্যটক আসেন। অথচ জানা যাচ্ছে, আগুনের হাত থেকে বাঁচতে জলাধার তো দূর, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রই নেই সুন্দরবনের অন্তত ৯৫ শতাংশ হোটেলে! ক্যানিং মহকুমা দমকল কেন্দ্রের আধিকারিক সৌগতসুন্দর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘ইতিমধ্যেই সমস্ত হোটেলকে নোটিস দেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত তাঁরা অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা করতে যাবতীয় পদক্ষেপ করেন।’’

বীরভূমের তারাপীঠে সম্প্রতি অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয় ন’জনের। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে কলকাতার নিউ মার্কেট চত্বরেও একটি হোটেলে এক শিশু-সহ ন’জনের মৃত্যু হয়। দু’টি ক্ষেত্রেই হোটেলের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে সুন্দরবনের হোটেলগুলিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে গিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। হোটেল মালিকদের সাথে কথা বলে জানা যায় বেশিরভাগ হোটেলেই নেই অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা।

পাখিরালয়, দয়াপুর, গোসাবা, ঝড়খালি-সহ আশপাশের এলাকায় প্রায় দেড়শোর বেশি হোটেল, লজ রয়েছে। অধিকাংশতেই আগুন নেভানোর জন্য কোনও ব্যবস্থা নেই। পাখিরালয় হোটেল ওনার্স অ্যাসোশিয়েশনের সম্পাদক জয়দেব খাটুয়া বলেন, ‘‘আমাদের সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত অন্তত ৫৫টি হোটেল রয়েছে। কিন্তু প্রায় কারও হোটেলে এই আগুন নেভানোর কোনও ব্যবস্থা নেই। ইতিমধ্যেই প্রশাসনের তরফ থেকে আমাদের নোটিস দিয়ে জানানো হয়েছে, যাতে দ্রুত সব হোটেলে সেই ব্যবস্থা করা হয়।’’

বর্তমানে ইলিশ উৎসবেও উপচে পড়ছে ভিড়। অতিরিক্ত পর্যটকের জন্য হোটেলগুলিতে ঠিক মতো বুকিংও মিলছে না। কিন্তু ভিড়ে ঠাসা এই হোটেলগুলিতেই নেই কোনও আগুন নেভানোর ব্যবস্থা। কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে বড়সড় বিপদের সম্মুখীন হতে পারেন পর্যটকরা। মালদহ থেকে সুন্দরবন ইলিশ উৎসবে আসা পর্যটক নিরুপম রায়, সাথী মল্লিকেরা বলেন, ‘‘সত্যিই জানতাম না যে হোটেলে আগুন নেভানোর কোনও ব্যবস্থা নেই। যেখানে এত এত পর্যটক প্রতিদিন আসছেন, সেখানকার হোটেলগুলিকে সমস্ত দিক দিয়ে সুরক্ষিত করে রাখা হোটেল কর্তৃপক্ষের অন্যতম দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Hilsa Festival Sundarbans

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy